ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার স্ত্রীকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন স্বামী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: গুরুত্ব পাচ্ছে জীবনমুখী শিক্ষা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় দেড় লাখ ইয়াবাসহ আটক ১ টেকনাফের নাইট্যংপাড়ার জাহেদ আলমকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ স্ত্রীর সৈকতে রাস্তা নির্মান বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানাল জাতিসংঘের স্পেশাল র‍্যাপোটিয়ার মহেশখালীর হোয়ানকে ছুরিকাঘাতে গৃহবধুকে হত্যা শ্রীলঙ্কার জাতীয় ও উন্মুক্ত সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে কক্সবাজারের তিন সার্ফার ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক আরো ৫ : ২ দিনে আটক ১৯ জন চকরিয়ায় ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রামু প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইউএনও জিল্লুর- পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরুন কিংবদন্তী অধ্যক্ষ স আ ম শামসুল হুদা চৌধুরী’র ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী হাজী পাড়ায় ৩৫ লাখ টাকাসহ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার : স্বামী-স্ত্রীসহ আটক ৩, মামলা দায়ের

ফের আরাকান আর্মির হাতে ৪ বাংলাদেশি জেলে আটক

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন চার বাংলাদেশি জেলে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাও। সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে একের পর এক জেলে আটকের ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে টেকনাফের সাবরাং সীমান্তের পূর্ব পাশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর জালিয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আমিনের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪ এর প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরছিলেন তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নাফ নদীতে মাছের সন্ধানে যেতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই জলসীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে রাখাইন পরিস্থিতির কারণে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে সামান্য ভুলেই জেলেদের আটক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা চার জেলে আটকের খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ মে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলেদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নাফ নদীতে মাছ ধরা জীবিকার সঙ্গে জড়িত জেলেদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও টহল জোরদারের কারণে সীমান্তবর্তী নদীপথ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার

ফের আরাকান আর্মির হাতে ৪ বাংলাদেশি জেলে আটক

আপডেট সময় : ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন চার বাংলাদেশি জেলে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাও। সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে একের পর এক জেলে আটকের ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে টেকনাফের সাবরাং সীমান্তের পূর্ব পাশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর জালিয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আমিনের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪ এর প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরছিলেন তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নাফ নদীতে মাছের সন্ধানে যেতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই জলসীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে রাখাইন পরিস্থিতির কারণে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে সামান্য ভুলেই জেলেদের আটক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা চার জেলে আটকের খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ মে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলেদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নাফ নদীতে মাছ ধরা জীবিকার সঙ্গে জড়িত জেলেদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও টহল জোরদারের কারণে সীমান্তবর্তী নদীপথ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।