মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন চার বাংলাদেশি জেলে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাও। সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে একের পর এক জেলে আটকের ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে টেকনাফের সাবরাং সীমান্তের পূর্ব পাশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর জালিয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আমিনের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।
স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪ এর প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরছিলেন তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, নাফ নদীতে মাছের সন্ধানে যেতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই জলসীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে রাখাইন পরিস্থিতির কারণে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে সামান্য ভুলেই জেলেদের আটক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা চার জেলে আটকের খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৯ মে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলেদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নাফ নদীতে মাছ ধরা জীবিকার সঙ্গে জড়িত জেলেদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও টহল জোরদারের কারণে সীমান্তবর্তী নদীপথ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
বিশেষ প্রতিবেদক 






















