ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ২৮ মে ঈদুল আজহা অবৈধ গরু বৈধ হয় যে হাটে ! চকরিয়ায় গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃত্যু ফের আরাকান আর্মির হাতে ৪ বাংলাদেশি জেলে আটক ওপারে গুলির ঝড়, এপারে আতঙ্ক আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো শোকের মাতমে ইয়াবা নিয়ে আটক যুবকের স্বীকারোক্তিতে অস্ত্র উদ্ধার সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি শাহজাহান লুতু… টেকনাফে দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ঘরে ২০ কেজি গাঁজা, নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মায়ানমার অভ্যন্তরে নাফ নদীতে গোলাগুলি, আতঙ্কে জেলেরা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মেধায় প্রজ্ঞায় জ্যোতির্ময় এক নাম তনু হত্যায় ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য পরীক্ষার হলে খাতা না দেখানোয় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

ফের আরাকান আর্মির হাতে ৪ বাংলাদেশি জেলে আটক

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন চার বাংলাদেশি জেলে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাও। সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে একের পর এক জেলে আটকের ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে টেকনাফের সাবরাং সীমান্তের পূর্ব পাশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর জালিয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আমিনের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪ এর প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরছিলেন তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নাফ নদীতে মাছের সন্ধানে যেতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই জলসীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে রাখাইন পরিস্থিতির কারণে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে সামান্য ভুলেই জেলেদের আটক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা চার জেলে আটকের খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ মে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলেদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নাফ নদীতে মাছ ধরা জীবিকার সঙ্গে জড়িত জেলেদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও টহল জোরদারের কারণে সীমান্তবর্তী নদীপথ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফের আরাকান আর্মির হাতে ৪ বাংলাদেশি জেলে আটক

আপডেট সময় : ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন চার বাংলাদেশি জেলে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাও। সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে একের পর এক জেলে আটকের ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে টেকনাফের সাবরাং সীমান্তের পূর্ব পাশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর জালিয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আমিনের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪ এর প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরছিলেন তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নাফ নদীতে মাছের সন্ধানে যেতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই জলসীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে রাখাইন পরিস্থিতির কারণে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে সামান্য ভুলেই জেলেদের আটক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা চার জেলে আটকের খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ মে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলেদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নাফ নদীতে মাছ ধরা জীবিকার সঙ্গে জড়িত জেলেদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও টহল জোরদারের কারণে সীমান্তবর্তী নদীপথ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।