ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস সোনার ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াল আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব সমুদ্র শহরের ‘চন্দন ডাক্তার’কে হারানোর এক বছর, আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এসএসসিতে কক্সবাজার জেলায় প্রথম নাবিহা নওরিন কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে বদরখালী কলোনীজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে থেকে গোল্ডেন A+ পেল সাদিয়া আফরিন কনক ‎এসএসসি পরীক্ষায় রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের সাফল্য: শতভাগ পাস, ৮ জন জিপিএ-৫ ‎ সাংবাদিককে হুমকি : মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নিন্দা ও প্রতিবাদ এসএসসি পরীক্ষায় সাংবাদিক কন্যা তানিশার সাফল্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর পিপি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন এড. রেজা কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে পোনা বিতরণ মৎস্য অধিদপ্তরের

ফের আরাকান আর্মির হাতে ৪ বাংলাদেশি জেলে আটক

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন চার বাংলাদেশি জেলে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাও। সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে একের পর এক জেলে আটকের ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে টেকনাফের সাবরাং সীমান্তের পূর্ব পাশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর জালিয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আমিনের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪ এর প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরছিলেন তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নাফ নদীতে মাছের সন্ধানে যেতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই জলসীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে রাখাইন পরিস্থিতির কারণে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে সামান্য ভুলেই জেলেদের আটক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা চার জেলে আটকের খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ মে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলেদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নাফ নদীতে মাছ ধরা জীবিকার সঙ্গে জড়িত জেলেদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও টহল জোরদারের কারণে সীমান্তবর্তী নদীপথ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক

ফের আরাকান আর্মির হাতে ৪ বাংলাদেশি জেলে আটক

আপডেট সময় : ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন চার বাংলাদেশি জেলে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাও। সীমান্তঘেঁষা নাফ নদীতে একের পর এক জেলে আটকের ঘটনায় টেকনাফের জেলেপল্লীগুলোতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে টেকনাফের সাবরাং সীমান্তের পূর্ব পাশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর জালিয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আমিনের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪ এর প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরছিলেন তারা। একপর্যায়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নাফ নদীতে মাছের সন্ধানে যেতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই জলসীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তবে বর্তমানে রাখাইন পরিস্থিতির কারণে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে সামান্য ভুলেই জেলেদের আটক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা চার জেলে আটকের খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ মে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে জেলেদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নাফ নদীতে মাছ ধরা জীবিকার সঙ্গে জড়িত জেলেদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও টহল জোরদারের কারণে সীমান্তবর্তী নদীপথ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।