ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ বৈরী আবহাওয়ায় মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ জামায়াতকে সাধুবাদ, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই: রুমিন ফারহানা কক্সবাজার ফিশারী ঘাটে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং স্টেশন : মৎস্য খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেকুয়ায় পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট এক্সেস রোড) নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও মূল্য নির্ধারণের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন।

সোমবার (১৫ জুন) দায়ের করা রিটে মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং বালুর মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল চাওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট রিটটি গ্রহণ করে আগামী ২১ জুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

রিটে বলা হয়েছে, সরকারি হিসেবে প্রতি ঘনফুট বালুর রয়্যালটি মূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হলেও ড্রেজিং ব্যয়ের অজুহাতে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা সমন্বয় দেখিয়ে কার্যত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা। এতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তোকিউ-এমআইএল-জেভি’কে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিটকারীর দাবি, ‘বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিধান নেই। অথচ এই প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রিটে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, বালু উত্তোলনের আগে কোনো পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা হয়নি। এতে মহেশখালীর উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ এই প্রকল্পে আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বালুর প্রকৃত বাজারমূল্য ও সরকারের কাছে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত ও শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলসহ স্থানীয় জনগণের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট এক্সেস রোড) নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও মূল্য নির্ধারণের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন।

সোমবার (১৫ জুন) দায়ের করা রিটে মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং বালুর মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল চাওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট রিটটি গ্রহণ করে আগামী ২১ জুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

রিটে বলা হয়েছে, সরকারি হিসেবে প্রতি ঘনফুট বালুর রয়্যালটি মূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হলেও ড্রেজিং ব্যয়ের অজুহাতে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা সমন্বয় দেখিয়ে কার্যত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা। এতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তোকিউ-এমআইএল-জেভি’কে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিটকারীর দাবি, ‘বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিধান নেই। অথচ এই প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রিটে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, বালু উত্তোলনের আগে কোনো পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা হয়নি। এতে মহেশখালীর উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ এই প্রকল্পে আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বালুর প্রকৃত বাজারমূল্য ও সরকারের কাছে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত ও শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলসহ স্থানীয় জনগণের।