ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট এক্সেস রোড) নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও মূল্য নির্ধারণের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন।

সোমবার (১৫ জুন) দায়ের করা রিটে মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং বালুর মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল চাওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট রিটটি গ্রহণ করে আগামী ২১ জুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

রিটে বলা হয়েছে, সরকারি হিসেবে প্রতি ঘনফুট বালুর রয়্যালটি মূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হলেও ড্রেজিং ব্যয়ের অজুহাতে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা সমন্বয় দেখিয়ে কার্যত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা। এতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তোকিউ-এমআইএল-জেভি’কে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিটকারীর দাবি, ‘বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিধান নেই। অথচ এই প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রিটে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, বালু উত্তোলনের আগে কোনো পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা হয়নি। এতে মহেশখালীর উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ এই প্রকল্পে আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বালুর প্রকৃত বাজারমূল্য ও সরকারের কাছে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত ও শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলসহ স্থানীয় জনগণের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট এক্সেস রোড) নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও মূল্য নির্ধারণের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন।

সোমবার (১৫ জুন) দায়ের করা রিটে মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং বালুর মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল চাওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট রিটটি গ্রহণ করে আগামী ২১ জুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

রিটে বলা হয়েছে, সরকারি হিসেবে প্রতি ঘনফুট বালুর রয়্যালটি মূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হলেও ড্রেজিং ব্যয়ের অজুহাতে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা সমন্বয় দেখিয়ে কার্যত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা। এতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তোকিউ-এমআইএল-জেভি’কে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রিটকারীর দাবি, ‘বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিধান নেই। অথচ এই প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রিটে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, বালু উত্তোলনের আগে কোনো পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা হয়নি। এতে মহেশখালীর উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ এই প্রকল্পে আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বালুর প্রকৃত বাজারমূল্য ও সরকারের কাছে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত ও শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলসহ স্থানীয় জনগণের।