ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: গুরুত্ব পাচ্ছে জীবনমুখী শিক্ষা

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 170

বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় ৮ সেপ্টেম্বর পালিত হতে যাচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’। এ বছর দিবসটির নির্ধারিত প্রতিপাদ্য- ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

সাক্ষরতাকে কেবল পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, একে টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত জীবনমান গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ।

তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এখনো শিক্ষার সুযোগের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াকে সরকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সাল নাগাদ সাক্ষরতার হার ৮৬-৯০ শতাংশে উন্নীত করা।
সাক্ষরতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ বছরের দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো সাক্ষরতাকে জীবনমুখী দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা। বর্তমান বাস্তবতায় একজন মানুষ কেবল পড়তে বা লিখতে জানলেই তাকে পূর্ণ সাক্ষর বলা চলে না; বরং তথ্য অনুধাবন, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জনই প্রকৃত সাক্ষরতা। এ লক্ষ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বিভিন্ন জেলায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সাক্ষরতার হার বাড়াতে উল্লেখযোগ্য সরকারি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। স্কিলফো প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ৬ হাজার ৮২৫ জন ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে মৌলিক সাক্ষরতার পাশাপাশি ১০টি অকুপেশনে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপরচুনিটি’ বা আলো প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় ১০-২৪ বছর বয়সী প্রায় ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।

‘অ্যাডাল্ট লিটারেসি অ্যান্ড ফাংশনাল অ্যাবিলিটি’ বা আলফা প্রোগ্রামের আওতায় ২৫-৪৫ বছর বয়সী প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান যুগে ডিজিটাল তথ্য গ্রহণ, যাচাই এবং অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি সাক্ষরতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে সাক্ষরতা কার্যক্রমে ডিজিটাল সক্ষমতা ও প্রযুক্তি নির্ভরতাকে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নাগরিকদের সচেতন করতে শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, সাক্ষরতা বিস্তার কেবল সরকারের একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা এবং সুশীল সমাজকে এ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করে একটি সাক্ষর, দক্ষ ও পরিবেশ-সচেতন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলাই হোক এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রত্যয়।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাখালীতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মিলনায়তনে সকালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সূত্র: বাংলা নিউজ 24

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: গুরুত্ব পাচ্ছে জীবনমুখী শিক্ষা

আপডেট সময় : ১২:১৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় ৮ সেপ্টেম্বর পালিত হতে যাচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’। এ বছর দিবসটির নির্ধারিত প্রতিপাদ্য- ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

সাক্ষরতাকে কেবল পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, একে টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত জীবনমান গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ।

তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এখনো শিক্ষার সুযোগের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াকে সরকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সাল নাগাদ সাক্ষরতার হার ৮৬-৯০ শতাংশে উন্নীত করা।
সাক্ষরতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ বছরের দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো সাক্ষরতাকে জীবনমুখী দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা। বর্তমান বাস্তবতায় একজন মানুষ কেবল পড়তে বা লিখতে জানলেই তাকে পূর্ণ সাক্ষর বলা চলে না; বরং তথ্য অনুধাবন, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জনই প্রকৃত সাক্ষরতা। এ লক্ষ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বিভিন্ন জেলায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সাক্ষরতার হার বাড়াতে উল্লেখযোগ্য সরকারি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। স্কিলফো প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ৬ হাজার ৮২৫ জন ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে মৌলিক সাক্ষরতার পাশাপাশি ১০টি অকুপেশনে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপরচুনিটি’ বা আলো প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় ১০-২৪ বছর বয়সী প্রায় ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।

‘অ্যাডাল্ট লিটারেসি অ্যান্ড ফাংশনাল অ্যাবিলিটি’ বা আলফা প্রোগ্রামের আওতায় ২৫-৪৫ বছর বয়সী প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান যুগে ডিজিটাল তথ্য গ্রহণ, যাচাই এবং অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি সাক্ষরতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে সাক্ষরতা কার্যক্রমে ডিজিটাল সক্ষমতা ও প্রযুক্তি নির্ভরতাকে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নাগরিকদের সচেতন করতে শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, সাক্ষরতা বিস্তার কেবল সরকারের একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা এবং সুশীল সমাজকে এ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করে একটি সাক্ষর, দক্ষ ও পরিবেশ-সচেতন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলাই হোক এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রত্যয়।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাখালীতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মিলনায়তনে সকালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সূত্র: বাংলা নিউজ 24