ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী এস আলম বাসের ধাক্কায় টমটম উল্টে নারীর মৃত্যু উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা, আসামী ১১৪, গ্রেফতার ২ উখিয়ার পর রামু : নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা সভাপতির ঘোষনা অনুযায়ী বাইক শো ডাউন ও মিছিল আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ​টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা ও ৬ দফা নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন’-এর বৈঠক ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি এ্যালায়েন্স’কক্সবাজার জেলা কমিটি ঘোষণা কাউন্সিলর একরাম হত্যা: হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কক্সবাজারের মেয়ে ইয়াশনা ইকতার এসএসসি ফল প্রকাশের সাম্ভব্য তারিখ জানা গেল বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে : পুলিশ কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবির বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

১৮ বছর পর বিসিএস কর্মকর্তা হলেন পেকুয়ার চিকিৎসক বেলাল

২০০৭ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দটা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি বেলাল হায়দারের জীবনে। সহপাঠীরা যখন একে একে সরকারি চাকরিতে যোগ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ঝুলছিল একটি শব্দ ‘গেজেট স্থগিত’।

সেই স্থগিতাদেশের জট খুলতে লেগে গেল ১৮ বছর। অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে গেজেট; তিনি এখন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন চিকিৎসক।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন বেলাল হায়দার। সাদা অ্যাপ্রন গায়ে সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার মুহূর্তটি তাঁর জন্য কেবল চাকরিতে যোগদান নয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।

২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএসে অংশ নেন বেলাল হায়দার। ২০০৭ সালে ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ হলেও তাঁর গেজেট প্রকাশ হয়নি। অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর গেজেট স্থগিত রাখা হয়। ফলে একই ব্যাচের অন্যরা যোগ দিলেও তিনি পারেননি।

স্মৃতিচারণা করে বেলাল হায়দার বলেন, ‘ফল প্রকাশের দিনটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝলাম, আমার জন্য পথটা সহজ নয় কারণ আমি রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছি। অপেক্ষা শুরু হলো—কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ যেন ছিল না।’ পরবর্তীতে বেলাল হায়দার আদালতের শরণাপন্ন হন, দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম স্থবির থাকার পর গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিষয়টি নতুন করে গতি পায়।

হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি শেষে আদালত ২৭তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদায়নের নির্দেশ দেন, সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁকে নিয়োগ দেয়।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ আদালতের রায় পেয়ে দেড় যুগ পর মনে হলো, বুকের ওপর থেকে একটা ভার নেমে গেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। এতদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার একটা মূল্য আছে।’

বেলাল হায়দার কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা, দীর্ঘ এই সময়ে চিকিৎসা পেশা থেকে সরে যাননি তিনি। এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেছেন নিয়মিত, এতদিন সরকারি পরিচয় না থাকলেও স্থানীয় লোকজন তাকে ‘ডাক্তার সাহেব’ হিসেবেই চিনতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অনেক মানসিক কষ্টের মধ্যেও তিনি রোগীদের ফিরিয়ে দেননি। এখন সরকারি হাসপাতালে যোগ দেওয়ায় আমরা খুশি।’

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, ‘ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকসংকটে ভুগছে। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের যোগদান স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিয়মিত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার আশা করছে।’

বেলাল হায়দার জানান, ‘এই ১৮ বছর আমাকে ধৈর্য শিখিয়েছে। মানুষের কষ্ট বুঝতে শিখিয়েছে। এখন সরকারি দায়িত্বটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী

১৮ বছর পর বিসিএস কর্মকর্তা হলেন পেকুয়ার চিকিৎসক বেলাল

আপডেট সময় : ১২:১৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৭ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দটা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি বেলাল হায়দারের জীবনে। সহপাঠীরা যখন একে একে সরকারি চাকরিতে যোগ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ঝুলছিল একটি শব্দ ‘গেজেট স্থগিত’।

সেই স্থগিতাদেশের জট খুলতে লেগে গেল ১৮ বছর। অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে গেজেট; তিনি এখন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন চিকিৎসক।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন বেলাল হায়দার। সাদা অ্যাপ্রন গায়ে সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার মুহূর্তটি তাঁর জন্য কেবল চাকরিতে যোগদান নয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।

২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএসে অংশ নেন বেলাল হায়দার। ২০০৭ সালে ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ হলেও তাঁর গেজেট প্রকাশ হয়নি। অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর গেজেট স্থগিত রাখা হয়। ফলে একই ব্যাচের অন্যরা যোগ দিলেও তিনি পারেননি।

স্মৃতিচারণা করে বেলাল হায়দার বলেন, ‘ফল প্রকাশের দিনটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝলাম, আমার জন্য পথটা সহজ নয় কারণ আমি রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছি। অপেক্ষা শুরু হলো—কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ যেন ছিল না।’ পরবর্তীতে বেলাল হায়দার আদালতের শরণাপন্ন হন, দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম স্থবির থাকার পর গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিষয়টি নতুন করে গতি পায়।

হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি শেষে আদালত ২৭তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদায়নের নির্দেশ দেন, সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁকে নিয়োগ দেয়।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ আদালতের রায় পেয়ে দেড় যুগ পর মনে হলো, বুকের ওপর থেকে একটা ভার নেমে গেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। এতদিনের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার একটা মূল্য আছে।’

বেলাল হায়দার কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা, দীর্ঘ এই সময়ে চিকিৎসা পেশা থেকে সরে যাননি তিনি। এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেছেন নিয়মিত, এতদিন সরকারি পরিচয় না থাকলেও স্থানীয় লোকজন তাকে ‘ডাক্তার সাহেব’ হিসেবেই চিনতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অনেক মানসিক কষ্টের মধ্যেও তিনি রোগীদের ফিরিয়ে দেননি। এখন সরকারি হাসপাতালে যোগ দেওয়ায় আমরা খুশি।’

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, ‘ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকসংকটে ভুগছে। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের যোগদান স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিয়মিত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার আশা করছে।’

বেলাল হায়দার জানান, ‘এই ১৮ বছর আমাকে ধৈর্য শিখিয়েছে। মানুষের কষ্ট বুঝতে শিখিয়েছে। এখন সরকারি দায়িত্বটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।’