ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ

পেকুয়ায় কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্বে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে৷ অভিযোগ উঠেছে আড়ৎদারের কাছে ৪২জন ক্ষুদ্র মাছ বিক্রতেরা জিম্মি রয়েছে। আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ, অসম দামে মাছ বিক্রি, দাদনের টাকা এবং অতিরিক্ত দামে মাছ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা মাছ বিক্রি করবেন না। এতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পেকুয়া বাজারের মাছের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়া বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের মাছ কেনাবেচা হয়। মাছ কেনাবেচার জন্য বাজারে তিনতলা বিশিষ্ট আলাদা ভবন রয়েছে। সেখানে চারজন আড়তদার ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে প্রায় ৪২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিয়মিত মাছের ব্যবসা করে আসছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাদন নেওয়ার কারণে তাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্ট আড়তদারদের কাছ থেকে মাছ কিনতে হয়। একই সঙ্গে আড়তদাররা নির্দিষ্ট সময়ের পরও আড়ত খোলা রেখে খুচরা মাছ বিক্রি করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, সকাল, দুপুর ও বিকেলে একই জাতের মাছ ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়। সকালে আড়ত থেকে মাছ কিনলে তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হয়। পরে দুপুর বা বিকেলে একই মাছ কম দামে বিক্রি করা হয়। ফলে সকালে বেশি দামে মাছ কেনা ব্যবসায়ীরা দিন শেষে লোকসানে পড়েন।

তাদের ভাষ্য, বেশি দামে মাছ কেনার কারণে ক্রেতাদের কাছেও বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে হয়। এতে ক্রেতারা বেশি দামে মাছ কিনতে অনাগ্রহী হন। আবার কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। অনেক সময় সারাদিন মাছ বিক্রি করেও মাছ অবিক্রীত থেকে যায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিন শেষে আড়তদারদের মাছের পুরো টাকা পরিশোধ করতে হয়। লোকসানের কারণে সময়মতো টাকা দিতে না পারলে আড়তদারদের কাছ থেকে গালমন্দ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। এভাবে লোকসান গুনতে গুনতে অনেক ব্যবসায়ী দেনায় পড়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা প্রতি লাখ টাকা মাছের কেনাবেচায় ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের আড়ত পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।

ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকাল ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা রাখা, এরপর আড়ত বন্ধ রাখা এবং আড়তদারদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে বাইরে থেকে মাছ নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদেরও বাজারে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাছের দোকানের ইজারাদার আব্দুল মান্নান বলেন, “প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। আড়তদাররা প্রতি লাখে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। অথচ ইজারাদার হিসেবে আমি হাসিল পাই মাত্র ৫ হাজার টাকা। আমার প্রস্তাব হচ্ছে, সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা থাকবে। এরপর আড়ত বন্ধ রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাইরে থেকে যারা মাছ এনে বিক্রি করতে চান, তাদেরও সিটে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। ইজারাদারের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং তাদের কাছ থেকে কম হাসিল নেওয়া হবে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত মাছ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে তারা অনড় থাকবেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ ও দাদন নির্ভর ব্যবসা থেকে মুক্তি পেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ন্যায্যভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেনি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলবো। আড়তদার নিদিষ্ট সময়ে খোলা থাকবে এটাতো স্বাভাবিক। সব সময় খোলা থাকবে এটাতো হতে পারেনা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে?

পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ

আপডেট সময় : ০৭:০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেকুয়ায় কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্বে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে৷ অভিযোগ উঠেছে আড়ৎদারের কাছে ৪২জন ক্ষুদ্র মাছ বিক্রতেরা জিম্মি রয়েছে। আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ, অসম দামে মাছ বিক্রি, দাদনের টাকা এবং অতিরিক্ত দামে মাছ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা মাছ বিক্রি করবেন না। এতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পেকুয়া বাজারের মাছের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়া বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের মাছ কেনাবেচা হয়। মাছ কেনাবেচার জন্য বাজারে তিনতলা বিশিষ্ট আলাদা ভবন রয়েছে। সেখানে চারজন আড়তদার ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে প্রায় ৪২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিয়মিত মাছের ব্যবসা করে আসছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাদন নেওয়ার কারণে তাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্ট আড়তদারদের কাছ থেকে মাছ কিনতে হয়। একই সঙ্গে আড়তদাররা নির্দিষ্ট সময়ের পরও আড়ত খোলা রেখে খুচরা মাছ বিক্রি করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, সকাল, দুপুর ও বিকেলে একই জাতের মাছ ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়। সকালে আড়ত থেকে মাছ কিনলে তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হয়। পরে দুপুর বা বিকেলে একই মাছ কম দামে বিক্রি করা হয়। ফলে সকালে বেশি দামে মাছ কেনা ব্যবসায়ীরা দিন শেষে লোকসানে পড়েন।

তাদের ভাষ্য, বেশি দামে মাছ কেনার কারণে ক্রেতাদের কাছেও বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে হয়। এতে ক্রেতারা বেশি দামে মাছ কিনতে অনাগ্রহী হন। আবার কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। অনেক সময় সারাদিন মাছ বিক্রি করেও মাছ অবিক্রীত থেকে যায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিন শেষে আড়তদারদের মাছের পুরো টাকা পরিশোধ করতে হয়। লোকসানের কারণে সময়মতো টাকা দিতে না পারলে আড়তদারদের কাছ থেকে গালমন্দ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। এভাবে লোকসান গুনতে গুনতে অনেক ব্যবসায়ী দেনায় পড়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা প্রতি লাখ টাকা মাছের কেনাবেচায় ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের আড়ত পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।

ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকাল ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা রাখা, এরপর আড়ত বন্ধ রাখা এবং আড়তদারদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে বাইরে থেকে মাছ নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদেরও বাজারে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাছের দোকানের ইজারাদার আব্দুল মান্নান বলেন, “প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। আড়তদাররা প্রতি লাখে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। অথচ ইজারাদার হিসেবে আমি হাসিল পাই মাত্র ৫ হাজার টাকা। আমার প্রস্তাব হচ্ছে, সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা থাকবে। এরপর আড়ত বন্ধ রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাইরে থেকে যারা মাছ এনে বিক্রি করতে চান, তাদেরও সিটে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। ইজারাদারের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং তাদের কাছ থেকে কম হাসিল নেওয়া হবে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত মাছ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে তারা অনড় থাকবেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ ও দাদন নির্ভর ব্যবসা থেকে মুক্তি পেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ন্যায্যভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেনি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলবো। আড়তদার নিদিষ্ট সময়ে খোলা থাকবে এটাতো স্বাভাবিক। সব সময় খোলা থাকবে এটাতো হতে পারেনা।