ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি এক ঘন্টায়ও! মারাত্মক এক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেল বার্মিজ মার্কেট! দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মাছ ধরার ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের কমিটি : সভাপতি মুন্না, সম্পাদক রেজাউল সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার আরিফ-সোহেল কে কারাগারে প্রেরণ উখিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে চকরিয়া রাতে ইয়াবাসহ আটক, পরদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আটক হওয়া ব্যক্তি হারলেও উখিয়া দলের যে দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়েছে সবার কক্সবাজারে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিষয়ে দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু রামুতে ভোক্তা অধিকার অভিযান : ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

বিশ্ব সাপ দিবস আজ

সাপের প্রতি মানুষের ভয় নতুন নয়। সভ্যতার ইতিহাস, পুরাণ, ধর্মীয় কাহিনী কিংবা লোকবিশ্বাস সবখানেই সাপকে ঘিরে রহস্য, ভীতি ও কৌতূহলের গল্প ছড়িয়ে আছে। কোথাও সাপকে প্রলোভনের প্রতীক, কোথাও মৃত্যুর দূত, আবার কোথাও শক্তি ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু ও আর কুসংস্কারের আড়ালে চাপা পড়ে যায় প্রকৃতির সবচেয়ে বড় সত্য, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

সেই সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দিতে প্রতিবছর ১৬ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব সাপ দিবস। দিনটির উদ্দেশ্য সাপ সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা, এ প্রাণীটির প্রতি সচেতনতা বাড়ানো এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা।

অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই সাপের দেখা মেলে। ঘন অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি, পাহাড়, জলাভূমি, সমুদ্রসহ প্রকৃতির প্রায় প্রতিটি পরিবেশেই তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। এমনকি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশেও অনেক প্রজাতির সাপ বাস করে।

এ পর্যন্ত বিশ্বে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রজাতির সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৬০০ প্রজাতি বিষধর। আর মানুষের জীবনের জন্য সত্যিকার অর্থে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির সংখ্যা দুই শতাধিক। অর্থাৎ অধিকাংশ সাপই মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়।

সাপ প্রকৃতির অন্যতম দক্ষ শিকারি। অন্য প্রাণীর মতো তারা খাবার চিবিয়ে খায় না। তাদের চোয়ালের বিশেষ গঠন বড় শিকারকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলতে সাহায্য করে।

সাপ শীতল রক্তের প্রাণী। তাই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। শীত লাগলে রোদে গা পোহায়, আর অতিরিক্ত গরমে আশ্রয় নেয় ছায়ায়। বছরে সাধারণত তিন থেকে ছয়বার তারা পুরোনো চামড়া বদলে নতুন আবরণ ধারণ করে।

সাপকে অনেকেই আক্রমণাত্মক প্রাণী মনে করেন। বাস্তবে অধিকাংশ সাপই মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে চায়। শিকার ধরতে বা নিজের জীবন হুমকির মুখে পড়লেই তারা আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার জন্য কেউ পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়, কেউ শরীর গুটিয়ে নেয়, আবার বিষধর প্রজাতিগুলো প্রয়োজনে বিষ প্রয়োগ করে।

তবে বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্য সংকটে বিশ্বের বহু প্রজাতির সাপ আজ বিপন্ন। তারা কেবল নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সাপ বার্বাডোস থ্রেড স্নেক, যার দৈর্ঘ্যে মাত্র চার ইঞ্চির মতো। সবচেয়ে দীর্ঘ সাপ রেটিকুলেটেড পাইথন, আর সবচেয়ে ভারী গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। বিষধর সাপের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় কিং কোবরা।

সাপকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। অ্যানাকোন্ডা, ন্সেকস অব অ্যা প্লেন, হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস। এসব সিনেমায় সাপকে ভয় ও রহস্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আবার কৃষকের খেতের ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রকৃতিতে সাপের অবদান অপরিসীম। তারা না থাকলে অনেক ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে কৃষি ও পরিবেশে।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার

বিশ্ব সাপ দিবস আজ

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সাপের প্রতি মানুষের ভয় নতুন নয়। সভ্যতার ইতিহাস, পুরাণ, ধর্মীয় কাহিনী কিংবা লোকবিশ্বাস সবখানেই সাপকে ঘিরে রহস্য, ভীতি ও কৌতূহলের গল্প ছড়িয়ে আছে। কোথাও সাপকে প্রলোভনের প্রতীক, কোথাও মৃত্যুর দূত, আবার কোথাও শক্তি ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু ও আর কুসংস্কারের আড়ালে চাপা পড়ে যায় প্রকৃতির সবচেয়ে বড় সত্য, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

সেই সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দিতে প্রতিবছর ১৬ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব সাপ দিবস। দিনটির উদ্দেশ্য সাপ সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা, এ প্রাণীটির প্রতি সচেতনতা বাড়ানো এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা।

অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই সাপের দেখা মেলে। ঘন অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি, পাহাড়, জলাভূমি, সমুদ্রসহ প্রকৃতির প্রায় প্রতিটি পরিবেশেই তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। এমনকি মানুষের বসতবাড়ির আশপাশেও অনেক প্রজাতির সাপ বাস করে।

এ পর্যন্ত বিশ্বে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রজাতির সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৬০০ প্রজাতি বিষধর। আর মানুষের জীবনের জন্য সত্যিকার অর্থে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির সংখ্যা দুই শতাধিক। অর্থাৎ অধিকাংশ সাপই মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়।

সাপ প্রকৃতির অন্যতম দক্ষ শিকারি। অন্য প্রাণীর মতো তারা খাবার চিবিয়ে খায় না। তাদের চোয়ালের বিশেষ গঠন বড় শিকারকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলতে সাহায্য করে।

সাপ শীতল রক্তের প্রাণী। তাই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। শীত লাগলে রোদে গা পোহায়, আর অতিরিক্ত গরমে আশ্রয় নেয় ছায়ায়। বছরে সাধারণত তিন থেকে ছয়বার তারা পুরোনো চামড়া বদলে নতুন আবরণ ধারণ করে।

সাপকে অনেকেই আক্রমণাত্মক প্রাণী মনে করেন। বাস্তবে অধিকাংশ সাপই মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে চায়। শিকার ধরতে বা নিজের জীবন হুমকির মুখে পড়লেই তারা আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার জন্য কেউ পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়, কেউ শরীর গুটিয়ে নেয়, আবার বিষধর প্রজাতিগুলো প্রয়োজনে বিষ প্রয়োগ করে।

তবে বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্য সংকটে বিশ্বের বহু প্রজাতির সাপ আজ বিপন্ন। তারা কেবল নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সাপ বার্বাডোস থ্রেড স্নেক, যার দৈর্ঘ্যে মাত্র চার ইঞ্চির মতো। সবচেয়ে দীর্ঘ সাপ রেটিকুলেটেড পাইথন, আর সবচেয়ে ভারী গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। বিষধর সাপের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় কিং কোবরা।

সাপকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। অ্যানাকোন্ডা, ন্সেকস অব অ্যা প্লেন, হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস। এসব সিনেমায় সাপকে ভয় ও রহস্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আবার কৃষকের খেতের ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রকৃতিতে সাপের অবদান অপরিসীম। তারা না থাকলে অনেক ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে কৃষি ও পরিবেশে।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার