ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় বাসে তল্লাশি ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা যুবক আটক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি উজানটিয়া বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বসানো হচ্ছে জিও ব্যাগ, এলাকাজুড়ে স্বস্তি সভাপতির ‘না’,সেক্রেটারির ‘হ্যাঁ’ : মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা:) মাহফিল আয়োজন নিয়ে আইনজীবী সমিতির বিতর্ক কক্সবাজার সৈকতে স্থাপনা নির্মাণ: ডিসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা কক্সবাজারে জমি রেজিস্ট্রেশনে ডিসির অনুমতি বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর চিঠি উখিয়ার বরেণ্য আলেম আলিম উদ্দিন পীরের জানাযা সম্পন্ন চিরকুট পাঠালেই পুলিশ পৌঁছাবে ঠিকানায়: উখিয়ায় অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ পুলিশী হেফাজতে থাকা সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী অসুস্থ : চমেকে প্রেরণ টেকনাফের বাহারছড়ায় ৫০ লিটার দেশীয় মদসহ আটক ১ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত নারী এশিয়া কাপ : রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত প্রেমিকের বিরুদ্ধে গর্ভপাতের চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে প্রকাশ্যে বিচার চেয়েছিলো সুমাইয়া

কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সহ সরকারের এবং প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্থানে দাঁড়িয়ে কোদাল হাতে পাতলী খাল খনন কাজের সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই স্থান থেকেই পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তার পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে পাতলী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। সে সময় তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছও রোপণ করেন। প্রায় ৪৮ বছর পরও সেই গাছটি অতীতের স্মৃতিকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এরপর তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জনসভাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বীচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় বাসে তল্লাশি ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা যুবক আটক

কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১১:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সহ সরকারের এবং প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্থানে দাঁড়িয়ে কোদাল হাতে পাতলী খাল খনন কাজের সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই স্থান থেকেই পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তার পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে পাতলী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। সে সময় তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছও রোপণ করেন। প্রায় ৪৮ বছর পরও সেই গাছটি অতীতের স্মৃতিকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এরপর তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জনসভাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বীচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।