কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে স্লুুইসগেটের সরকারি পাইপ তথা নাসি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফয়সাল চৌধুরী। তিনি মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে মগনামার ফুলতলা স্টেশনের একটু পুর্বদিকে নিজেই উপস্থিত থেকে একটি ডাম্পট্রাকে করে পাচার করছেন বলে জানায় স্থানীয়রা ।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি মালামাল লুটের ঘটনায় জড়িত রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
জানাগেছে, মগনামা কাটাফাঁড়ি ব্রীজ-করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট সড়কের সোনালী বাজার সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) মালিকানাধীন স্লুইসগেট প্রায় দুই মাস মাস আগে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের সময় স্লুইসগেটে পুর্বের বসানো দুটি বিশাল আকৃতির লোহার পাইপ বা নাসি ছিল। স্লুইসগেট সংস্কারের ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পান মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফয়সাল চৌধুরী। সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, স্লুইচগেট সংস্কারের সময় দুটি পাইপ বা নাসি তুলে এনে সড়কের উপরে রাখা হয়। কয়েকদিন পর সেখান থেকে একটি নাসি উধাও হয়ে যায়। আরেকটি নাসি ফয়সাল চৌধুরী গাড়িতে তুলে ফুলতলা স্টেশনের পাশে নিজের হেফাজতে রাখেন। সোমবার বিকেলে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে নাসিটি টকরা টুকরা করে কেটে একটি ডাম্পট্রাকে ভরে পাচার করে দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নাসিটির ওজন প্রায় দুই হাজার ৮০০ কেজি। দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ফয়সাল চৌধুরী নাসিটি একজন স্ক্র্যাব (ভাঙারি) ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলতলা স্টশনের একটু পুর্বদিকে সড়কের পাশে একটি ডাম্পট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। একটি টিনের বাসা থেকে টুকরো টুকরো করা নাসির অংশ ট্রাকে তুলছে। একজন ওজন পরিমাপ করে খাতায় নোট করে লিখছে। প্রতিটি লোহার অংশের ওজন ১০৫ থেকে ১১৫ কেজি। ৪/৫ জন শ্রমিক গাড়িতে তুলছে। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সবকিছুর তদারকি করছে ফয়সাল চৌধুরী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফয়সাল চৌধুরী বলেন, সরকারি নাসি বিক্রির অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা। নাসিটি তিনি নিজেই ক্রয় করেছে। সোনালী বাজার স্লুইসগেট ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সংস্কার করেছেন বলে দাবি করেন এবং ওই সময় নিজের টাকা দিয়ে দুটি নাসি বসানো হয়েছে। একটি নাসি চুরি হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে সংস্কার করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এক টাকাও পাননি বলে জানান। ইউএনও, এসিল্যান্ড, সদর ইউপির চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ এ বিষয়ে অবগত আছেন বলে তিনি জানান। আমার নাসি আমি বিক্রি করছি এতে অসুবিধা কোথায় এমন প্রশ্ন করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাইপ। তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পেকুয়া প্রতিনিধি: 






















