ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যখন সময় হবে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর হবে: দীনেশ ত্রিবেদী বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সংকেত রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার

পেকুয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি স্লুইসগেটের পাইপ (নাসি) কেটে বিক্রির অভিযোগ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে স্লুুইসগেটের সরকারি পাইপ তথা নাসি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফয়সাল চৌধুরী। তিনি মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে মগনামার ফুলতলা স্টেশনের একটু পুর্বদিকে নিজেই উপস্থিত থেকে একটি ডাম্পট্রাকে করে পাচার করছেন বলে জানায় স্থানীয়রা ।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি মালামাল লুটের ঘটনায় জড়িত রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

জানাগেছে, মগনামা কাটাফাঁড়ি ব্রীজ-করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট সড়কের সোনালী বাজার সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) মালিকানাধীন স্লুইসগেট প্রায় দুই মাস মাস আগে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের সময় স্লুইসগেটে পুর্বের বসানো দুটি বিশাল আকৃতির লোহার পাইপ বা নাসি ছিল। স্লুইসগেট সংস্কারের ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পান মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফয়সাল চৌধুরী। সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, স্লুইচগেট সংস্কারের সময় দুটি পাইপ বা নাসি তুলে এনে সড়কের উপরে রাখা হয়। কয়েকদিন পর সেখান থেকে একটি নাসি উধাও হয়ে যায়। আরেকটি নাসি ফয়সাল চৌধুরী গাড়িতে তুলে ফুলতলা স্টেশনের পাশে নিজের হেফাজতে রাখেন। সোমবার বিকেলে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে নাসিটি টকরা টুকরা করে কেটে একটি ডাম্পট্রাকে ভরে পাচার করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নাসিটির ওজন প্রায় দুই হাজার ৮০০ কেজি। দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ফয়সাল চৌধুরী নাসিটি একজন স্ক্র্যাব (ভাঙারি) ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলতলা স্টশনের একটু পুর্বদিকে সড়কের পাশে একটি ডাম্পট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। একটি টিনের বাসা থেকে টুকরো টুকরো করা নাসির অংশ ট্রাকে তুলছে। একজন ওজন পরিমাপ করে খাতায় নোট করে লিখছে। প্রতিটি লোহার অংশের ওজন ১০৫ থেকে ১১৫ কেজি। ৪/৫ জন শ্রমিক গাড়িতে তুলছে। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সবকিছুর তদারকি করছে ফয়সাল চৌধুরী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফয়সাল চৌধুরী বলেন, সরকারি নাসি বিক্রির অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা। নাসিটি তিনি নিজেই ক্রয় করেছে। সোনালী বাজার স্লুইসগেট ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সংস্কার করেছেন বলে দাবি করেন এবং ওই সময় নিজের টাকা দিয়ে দুটি নাসি বসানো হয়েছে। একটি নাসি চুরি হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে সংস্কার করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এক টাকাও পাননি বলে জানান। ইউএনও, এসিল্যান্ড, সদর ইউপির চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ এ বিষয়ে অবগত আছেন বলে তিনি জানান। আমার নাসি আমি বিক্রি করছি এতে অসুবিধা কোথায় এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাইপ। তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম

পেকুয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি স্লুইসগেটের পাইপ (নাসি) কেটে বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে স্লুুইসগেটের সরকারি পাইপ তথা নাসি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফয়সাল চৌধুরী। তিনি মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে মগনামার ফুলতলা স্টেশনের একটু পুর্বদিকে নিজেই উপস্থিত থেকে একটি ডাম্পট্রাকে করে পাচার করছেন বলে জানায় স্থানীয়রা ।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি মালামাল লুটের ঘটনায় জড়িত রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

জানাগেছে, মগনামা কাটাফাঁড়ি ব্রীজ-করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট সড়কের সোনালী বাজার সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) মালিকানাধীন স্লুইসগেট প্রায় দুই মাস মাস আগে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের সময় স্লুইসগেটে পুর্বের বসানো দুটি বিশাল আকৃতির লোহার পাইপ বা নাসি ছিল। স্লুইসগেট সংস্কারের ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পান মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফয়সাল চৌধুরী। সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, স্লুইচগেট সংস্কারের সময় দুটি পাইপ বা নাসি তুলে এনে সড়কের উপরে রাখা হয়। কয়েকদিন পর সেখান থেকে একটি নাসি উধাও হয়ে যায়। আরেকটি নাসি ফয়সাল চৌধুরী গাড়িতে তুলে ফুলতলা স্টেশনের পাশে নিজের হেফাজতে রাখেন। সোমবার বিকেলে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে নাসিটি টকরা টুকরা করে কেটে একটি ডাম্পট্রাকে ভরে পাচার করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নাসিটির ওজন প্রায় দুই হাজার ৮০০ কেজি। দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ফয়সাল চৌধুরী নাসিটি একজন স্ক্র্যাব (ভাঙারি) ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলতলা স্টশনের একটু পুর্বদিকে সড়কের পাশে একটি ডাম্পট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। একটি টিনের বাসা থেকে টুকরো টুকরো করা নাসির অংশ ট্রাকে তুলছে। একজন ওজন পরিমাপ করে খাতায় নোট করে লিখছে। প্রতিটি লোহার অংশের ওজন ১০৫ থেকে ১১৫ কেজি। ৪/৫ জন শ্রমিক গাড়িতে তুলছে। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সবকিছুর তদারকি করছে ফয়সাল চৌধুরী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফয়সাল চৌধুরী বলেন, সরকারি নাসি বিক্রির অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা। নাসিটি তিনি নিজেই ক্রয় করেছে। সোনালী বাজার স্লুইসগেট ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সংস্কার করেছেন বলে দাবি করেন এবং ওই সময় নিজের টাকা দিয়ে দুটি নাসি বসানো হয়েছে। একটি নাসি চুরি হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে সংস্কার করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এক টাকাও পাননি বলে জানান। ইউএনও, এসিল্যান্ড, সদর ইউপির চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ এ বিষয়ে অবগত আছেন বলে তিনি জানান। আমার নাসি আমি বিক্রি করছি এতে অসুবিধা কোথায় এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাইপ। তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।