নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুন লেগে একটি বসতবাড়ি সম্পুর্ন পুড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০জুলাই) সকাল ৯টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার জালিয়াখালী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এসময় আগুনে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার৷
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জালিয়াখালী এলাকার ওবায়দুল হাকিমের বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আগুন দেখে লোকজন ছুটে আসে। প্রায় ১ ঘন্টা পানি দিয়ে আগুন নেভার চেষ্টা করে। আগুনে ওবায়দুল হাকিমের পাঁচ ছেলে মাহমুদুর রহমান, আমিনুল হক, রেজাউল করিম, আজিজুল হক এবং মোস্তাক আহমদের ঘর সম্পুর্ন পুড়ে যায়।
গৃহবধু কপি আক্তার বলেন, সকালে কিস্তির টাকা দিতে পাশের একটি বাড়িতে যাই। কিছুক্ষণ পর ঘরে এসে দেখি বাড়ির একপাশে আগুন জ্বলছে। আগুন আগুন বলে চিৎকার করলে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে সব পুড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বাড়িতে কেউ ছিলনা। আমার এক ‘জা’ সকালে বাচ্চা নিয়ে স্কুলে গেছে। দুইদিন আগে শ্বাশুড়িও খালা শ্বাশুড়ির বাড়িতে বেড়াতে গেছে। বড় জা পাশের একটি বাড়িতে ছিল। আরেক’ জা’ সজরুন্নাহার মুন্নি এক সপ্তাহ আগে তার বাপের বাড়িতে গেছে। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ধান, আসবাবপত্র, মুল্যবান মালামালসহ অন্তত ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আমিনুল হকের স্ত্রী জেফসি বলেন, সকালে প্রতিদিনের মতো বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যাই। বাড়িতে এসে দেখি সবকিছু পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, আমরা কয়েকজন একটি দোকানে বসে গল্প করছিলাম। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে যাই। আগুনে তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। শতশত মানুষ পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রন আনে। এলাকার লোকজন দ্রুত এগিয়ে না আসলে আশপাশের আরও একাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ে যেতো।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে একজন প্রবাসী, একজন গরু ব্যবসায়ী ও আরেকজন মোবাইল বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায়ী।
এই ইউপি সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার কারনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে বিলম্ব হয়েছে। যথাসময়ে গাড়ি পৌঁছতে পারলেই ঘর কিছুটা হলেও রক্ষা পেত। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এদিকে পৃথক ঘটনায় আরও দুটি বসতঘর পুড়ে গেছে। বিদ্যুতে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে বলে স্থানীয়ারা দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। আগুনে জাকের হোসেন ও ওসমানের দুটি বসতবাড়ি সম্পুর্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রেজাউল করিম: 
























