ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন ৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি লোহাগাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ১৫ রামুতে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, ৩ জনের কারাদণ্ড মা ইলিশ সংরক্ষণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী পেকুয়ায় নিজ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত কউক চেয়ারম্যান ও কমেক অধ্যক্ষ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান : বালিভর্তি দুই অবৈধ ডাম্পার জব্দ কক্সবাজারে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জাতীয় পর্যায়ে “সেরা গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আব্দুর রহিম টেকনাফে এসআরবি ও বিজিবির যৌথ অভিযান : ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার বাস টার্মিনালের স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে আলোচিত কুলসুমা হত্যার প্রধান আসামী ইরফান গ্রেফতার সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা পেকুয়ায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

পুলিশের ভুলের খেসারতে কারাগারে কাটানো রাতে নির্ঘুম ছিল শিশু মাইরা

কক্সবাজারের উখিয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ, দুই গৃহবধূ ও ৬ বছরের শিশু মাইরা সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সোমবার (১৩ এপ্রিল) আদালত তাদের জামিন দেন।

রাতে বৃদ্ধের ছেলেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পথে পালিয়ে যাওয়ার ‘খেসারত’ হিসাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুক্তিপেয়ে জেলগেইটে শিশু মাইরা জানায়, ‘ কারাগারের রাত ভালো যায়নি তার। ‘ তার মা ফারজানা বলেন, আমার মেয়েটা সারারাত ঘুমায়নি, আমাদের কোন অপরাধ ছিলো না আল্লাহ বিচার করবেন।

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। শনিবার রাতে রাজাপালংয়ের শেখপাড়ায় এ অভিযান চালায় উখিয়া থানা পুলিশ।

আটক সবাই রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের পরিবারের সদস্য। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সালাহউদ্দিনের বাবা জাফর আলম, স্ত্রী রোজিনা আক্তার, ভাই মিজানের স্ত্রী ফারজানা হাকিম নিথর ও ৬ বছর বয়সি ভাতিজি।

সূত্র জানায়, শনিবার রাতে সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশ তার ছোট ভাই মিজানকে আটক করে। থানায় নেওয়ার পথে হাতকড়া পরা অবস্থায় মিজান পালিয়ে যান। এর পরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমানের দাবি, আসামি মিজানকে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা করে ছিনিয়ে নিতে সহযোগিতা করে পালাতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় ‘পুলিশের ওপর হামলা’সহ (পুলিশ অ্যাসল্ট) বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাতে আটক চারজনকে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

একজন বৃদ্ধ, দুই নারী ও একটি শিশুকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেফতার করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি অমানবিক দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সোমবার বিকালে কক্সবাজারের একটি আদালত জামিন দিলে তারা কারামুক্ত হন। এ সময় কারা ফটকে শিশুটিকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। শিশুটি বলে দাদাসহ সবাই করামুক্ত হওয়ায় খুব আনন্দ লাগছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ৬ বছরের শিশুটিকে পুলিশ আটক করেনি। তবে তার মা পুলিশের ওপর হামলার মামলায় প্রধান আসামি। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে রাখার মতো কেউ না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মা নিজেই তাকে সঙ্গে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান বলেন, ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ধরতে গেলে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার মামলা করা হয়েছে। মামলায় দুই নারী ও একজন বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার নোবেল দেব জানান, রাত ৮টার দিকে অন্য আসামিদের সঙ্গে বৃদ্ধ জাফর আলম, রোজিনা ও ফারজানা কারাগারে আসেন। ফারজানার সঙ্গে তার মেয়েকেও রাখা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন

পুলিশের ভুলের খেসারতে কারাগারে কাটানো রাতে নির্ঘুম ছিল শিশু মাইরা

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ, দুই গৃহবধূ ও ৬ বছরের শিশু মাইরা সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সোমবার (১৩ এপ্রিল) আদালত তাদের জামিন দেন।

রাতে বৃদ্ধের ছেলেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পথে পালিয়ে যাওয়ার ‘খেসারত’ হিসাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুক্তিপেয়ে জেলগেইটে শিশু মাইরা জানায়, ‘ কারাগারের রাত ভালো যায়নি তার। ‘ তার মা ফারজানা বলেন, আমার মেয়েটা সারারাত ঘুমায়নি, আমাদের কোন অপরাধ ছিলো না আল্লাহ বিচার করবেন।

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। শনিবার রাতে রাজাপালংয়ের শেখপাড়ায় এ অভিযান চালায় উখিয়া থানা পুলিশ।

আটক সবাই রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের পরিবারের সদস্য। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সালাহউদ্দিনের বাবা জাফর আলম, স্ত্রী রোজিনা আক্তার, ভাই মিজানের স্ত্রী ফারজানা হাকিম নিথর ও ৬ বছর বয়সি ভাতিজি।

সূত্র জানায়, শনিবার রাতে সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশ তার ছোট ভাই মিজানকে আটক করে। থানায় নেওয়ার পথে হাতকড়া পরা অবস্থায় মিজান পালিয়ে যান। এর পরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমানের দাবি, আসামি মিজানকে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা করে ছিনিয়ে নিতে সহযোগিতা করে পালাতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় ‘পুলিশের ওপর হামলা’সহ (পুলিশ অ্যাসল্ট) বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাতে আটক চারজনকে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

একজন বৃদ্ধ, দুই নারী ও একটি শিশুকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেফতার করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি অমানবিক দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সোমবার বিকালে কক্সবাজারের একটি আদালত জামিন দিলে তারা কারামুক্ত হন। এ সময় কারা ফটকে শিশুটিকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। শিশুটি বলে দাদাসহ সবাই করামুক্ত হওয়ায় খুব আনন্দ লাগছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ৬ বছরের শিশুটিকে পুলিশ আটক করেনি। তবে তার মা পুলিশের ওপর হামলার মামলায় প্রধান আসামি। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে রাখার মতো কেউ না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মা নিজেই তাকে সঙ্গে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান বলেন, ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ধরতে গেলে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার মামলা করা হয়েছে। মামলায় দুই নারী ও একজন বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার নোবেল দেব জানান, রাত ৮টার দিকে অন্য আসামিদের সঙ্গে বৃদ্ধ জাফর আলম, রোজিনা ও ফারজানা কারাগারে আসেন। ফারজানার সঙ্গে তার মেয়েকেও রাখা হয়।