ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের হটাতে হবে- মানববন্ধনে বক্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেনারেটরে ওড়না পেঁচিয়ে আইওএমের নারী প্রকৌশলীর মৃত্যু ২২ বছরেও সংস্কার হয়নি পেকুয়ার সিরাদিয়া সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযান: বিদেশি এসএমজি উদ্ধার, ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক দর্শকের ঢল সামলাতে ব্যর্থ জেলা স্টেডিয়াম: আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি! উখিয়ায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে ইয়াবা ছিনতাইয়ের অভিযোগ চকরিয়ায় বসতঘরে অভিযান, ইয়াবা-গাঁজা ও নগদ টাকাসহ নারী কারবারি গ্রেপ্তার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে খেলতে চায় ব্রাজিল বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত মহেশখালী দলে খেলছে না জাতীয় ও পরিচিত কোনো স্টার প্লেয়ার: অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে সমালোচনা পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ পার্বত্য মন্ত্রী সা চিং প্রু জেরীর সাথে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত

২২ বছরেও সংস্কার হয়নি পেকুয়ার সিরাদিয়া সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

পেকুয়া পৌরসভার পেকুয়া বাজার-সিরাদিয়া সড়কের প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।

মইয়াদিয়া আবছার সওদাগরের দোকানঘর থেকে সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (গরম মসজিদ) পর্যন্ত সড়কটির অধিকাংশ ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। দুপাশের মাটি সরে গিয়ে কোথাও কোথাও সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইট দিয়ে সড়কটির উন্নয়ন করেন। এরপর দীর্ঘ ২২ বছরেও সড়কটির আর কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, ওই অংশে কয়েক বছর ধরে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

পেকুয়া বাজার থেকে সিরাদিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভোলাইয়াঘোনা রাস্তার মাথা থেকে মইয়াদিয়া আবছার মিয়ার দোকানঘর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু আবছার মিয়ার দোকানঘর থেকে সিরাদিয়া গরম মসজিদ পর্যন্ত বাকি অংশটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সড়কটি সিরাদিয়া গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। মৎস্য ও লবণচাষ সমৃদ্ধ এ এলাকার উৎপাদিত মাছ ও লবণ পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সিরাদিয়া জেটিঘাট হয়ে মাতামুহুরীর কোনাখালী, বাংলা বাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষেরও পেকুয়া বাজার ও সিরাদিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এ সড়ক।

এছাড়া সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (গরম মসজিদ) একটি প্রসিদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। সড়কের পাশে রয়েছে সিরাজুল হক চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। পাশাপাশি শত শত শিক্ষার্থী এ সড়ক দিয়ে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ, বিএমআই ইনস্টিটিউট কলেজ, পেকুয়া মডেল সরকারি জিএমসি ইনস্টিটিউশন, পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। অসুস্থ বা রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। উপজেলা পরিষদ, থানা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এ এলাকার মানুষকে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এবং দ্রুত সড়কটির উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ হয়ে উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক ও সিরাদিয়ার বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন।

উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবাই দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। জনগুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সড়কটি যাতে দ্রুত সংস্কার হয় এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করেছি। মন্ত্রী মহোদয় আশ্বস্ত করেছেন খুব শীঘ্রই সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন।

লবণচাষী জামাল উদ্দিন বলেন, লবণ পরিবহনের সময় ছোট-বড় যানবাহন সড়কের গর্তে আটকে যায়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।

মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, সড়কের ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ অংশে গাড়ি চলাচল বন্ধের মতো অবস্থা। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কলেজছাত্র রাসকান বলেন, প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরের কলেজে যেতে হয়। ভাঙাচোরা সড়কটির কারণে ঠিকমত কলেজেও পৌঁছতে পারিনা। প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা পায়ে হেঁটে যেতে হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের হটাতে হবে- মানববন্ধনে বক্তারা

২২ বছরেও সংস্কার হয়নি পেকুয়ার সিরাদিয়া সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:২১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

পেকুয়া পৌরসভার পেকুয়া বাজার-সিরাদিয়া সড়কের প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।

মইয়াদিয়া আবছার সওদাগরের দোকানঘর থেকে সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (গরম মসজিদ) পর্যন্ত সড়কটির অধিকাংশ ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। দুপাশের মাটি সরে গিয়ে কোথাও কোথাও সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইট দিয়ে সড়কটির উন্নয়ন করেন। এরপর দীর্ঘ ২২ বছরেও সড়কটির আর কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, ওই অংশে কয়েক বছর ধরে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

পেকুয়া বাজার থেকে সিরাদিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভোলাইয়াঘোনা রাস্তার মাথা থেকে মইয়াদিয়া আবছার মিয়ার দোকানঘর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু আবছার মিয়ার দোকানঘর থেকে সিরাদিয়া গরম মসজিদ পর্যন্ত বাকি অংশটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সড়কটি সিরাদিয়া গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। মৎস্য ও লবণচাষ সমৃদ্ধ এ এলাকার উৎপাদিত মাছ ও লবণ পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সিরাদিয়া জেটিঘাট হয়ে মাতামুহুরীর কোনাখালী, বাংলা বাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষেরও পেকুয়া বাজার ও সিরাদিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এ সড়ক।

এছাড়া সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (গরম মসজিদ) একটি প্রসিদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। সড়কের পাশে রয়েছে সিরাজুল হক চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। পাশাপাশি শত শত শিক্ষার্থী এ সড়ক দিয়ে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ, বিএমআই ইনস্টিটিউট কলেজ, পেকুয়া মডেল সরকারি জিএমসি ইনস্টিটিউশন, পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। অসুস্থ বা রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। উপজেলা পরিষদ, থানা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এ এলাকার মানুষকে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এবং দ্রুত সড়কটির উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ হয়ে উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক ও সিরাদিয়ার বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন।

উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবাই দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। জনগুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সড়কটি যাতে দ্রুত সংস্কার হয় এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করেছি। মন্ত্রী মহোদয় আশ্বস্ত করেছেন খুব শীঘ্রই সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন।

লবণচাষী জামাল উদ্দিন বলেন, লবণ পরিবহনের সময় ছোট-বড় যানবাহন সড়কের গর্তে আটকে যায়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।

মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, সড়কের ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ অংশে গাড়ি চলাচল বন্ধের মতো অবস্থা। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কলেজছাত্র রাসকান বলেন, প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরের কলেজে যেতে হয়। ভাঙাচোরা সড়কটির কারণে ঠিকমত কলেজেও পৌঁছতে পারিনা। প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা পায়ে হেঁটে যেতে হয়।