ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছাড়াল ১০৩ ডলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোন অভিযানের জন্য প্রস্তুত পুলিশ উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমনে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে! কলাতলীতে বাতিল প্লটে মার্কেট নির্মাণ, কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টেকনাফে বজ্রপাতে কৃষক আহত সদর থানার অভিযান অব্যাহত: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৫ ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল, ভাসমান ১৩ জেলে উদ্ধার কক্সবাজারে ৪৬ মামলার প্রায় ৯৯ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগে করা মামলার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে শুরু হচ্ছে

সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা একটি ঐতিহাসিক মামলায় আজ সোমবার জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে বিচারকাজ শুরু হচ্ছে।

এক দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) পূর্ণাঙ্গভাবে জাতিগত নিধন-সংক্রান্ত কোনো মামলার শুনানি করতে যাচ্ছে। এই মামলার রায়ের প্রভাব শুধু মিয়ানমারের ক্ষেত্রেই নয়, অন্য দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা জাতিগত নিধন মামলার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জাতিসংঘে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্তপ্রক্রিয়ার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, ‘জাতিগত নিধনকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে, কীভাবে তা প্রমাণ করা যাবে এবং এসব লঙ্ঘনের প্রতিকার কীভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে—সে বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে এই মামলা।’

মুসলিম–অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এই মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমার তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রত্যন্ত রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালিয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী একটি সামরিক অভিযান চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এসব মানুষ মিয়ানমারে হত্যাকাণ্ড, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

জাতিসংঘের একটি সত্য অনুসন্ধান মিশন পরে সিদ্ধান্ত দেয়, ২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযানে ‘জাতিগত নিধনের মতো কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানটি ছিল একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।

আজ সোমবার নেদারল্যান্ডসের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুনানি শুরু হওয়ার কথা আছে। তিন সপ্তাহ ধরে শুনানি চলবে।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে দেশটিতে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভগুলো সহিংসভাবে দমন করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে দেশটিতে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতিসংঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছে।

 

সূত্র: রয়টার্সহেগ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগে করা মামলার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে শুরু হচ্ছে

আপডেট সময় : ১২:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা একটি ঐতিহাসিক মামলায় আজ সোমবার জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে বিচারকাজ শুরু হচ্ছে।

এক দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) পূর্ণাঙ্গভাবে জাতিগত নিধন-সংক্রান্ত কোনো মামলার শুনানি করতে যাচ্ছে। এই মামলার রায়ের প্রভাব শুধু মিয়ানমারের ক্ষেত্রেই নয়, অন্য দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা জাতিগত নিধন মামলার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জাতিসংঘে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্তপ্রক্রিয়ার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, ‘জাতিগত নিধনকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে, কীভাবে তা প্রমাণ করা যাবে এবং এসব লঙ্ঘনের প্রতিকার কীভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে—সে বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে এই মামলা।’

মুসলিম–অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এই মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমার তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রত্যন্ত রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালিয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী একটি সামরিক অভিযান চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এসব মানুষ মিয়ানমারে হত্যাকাণ্ড, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

জাতিসংঘের একটি সত্য অনুসন্ধান মিশন পরে সিদ্ধান্ত দেয়, ২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযানে ‘জাতিগত নিধনের মতো কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানটি ছিল একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।

আজ সোমবার নেদারল্যান্ডসের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুনানি শুরু হওয়ার কথা আছে। তিন সপ্তাহ ধরে শুনানি চলবে।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে দেশটিতে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভগুলো সহিংসভাবে দমন করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে দেশটিতে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতিসংঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছে।

 

সূত্র: রয়টার্সহেগ