পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ার অভিযোগে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চার মাস ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রোগী, ব্যবসায়ী, লবণবাহী গাড়ি, সিএনজি ও টমটম চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, মগনামা ইউনিয়নের সাতঘর পাড়া স্টেশন থেকে মিয়াজি পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়। এরপর সংস্কারকাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কের বেদেরবিল পাড়া থেকে সাতঘর পাড়া এবং মিয়াজি পাড়া জামে মসজিদ থেকে ফুলতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। তবে মাঝের প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে ওই অংশের সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কাজ চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ঠিকাদারকে কাজে বাধা দেন। এমনকি ঠিকাদার সড়কে লোহার নেট তৈরির কাজও করেছিলেন। পরে বাধার মুখে সেটি খুলে ফেলতে বাধ্য হন বলে তারা জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় আরেকটি পক্ষের অভিযোগ, ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার চেষ্টা করলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করেন। এরপর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যান।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুর মুহাম্মদ বলেন, কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সড়কের দুই অংশের কাজ শেষ হলেও মাঝের অংশটি বাধার কারণে ঠিকাদার শেষ না করেই চলে গেছেন।
স্থানীয় গাড়িচালকেরা জানান, সড়কের দুই পাশে আরসিসির কাজ করা হলেও মাঝখানের অংশটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। তখন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সমাজসেবক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদার অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন—এমন অভিযোগ ছিল। পরে তিনি প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ঠিকাদার সাতঘর পাড়া স্টেশন থেকে মিয়াজি পাড়া মসজিদ পর্যন্ত মাঝের অংশের কাজ রেখে চলে যান। ওই অংশের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর রিটেন্ডারও আহ্বান করেছে। আশা করছি, দ্রুত কাজ শুরু হবে।
পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাজালাল বলেন, ঠিকাদার মাঝের অংশের কাজ রেখে যাওয়ায় নতুনভাবে রিটেন্ডার করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত সড়কটির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হোক। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ চার মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী, গাড়িচালকসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রেজাউল করিম, পেকুয়া: 























