ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

পেকুয়ায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ: স্বস্তিতে ১০ হাজার মানুষ

দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রভাবশালী দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ঐতিহাসিক রঙিনখাল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে টানা ৩য় দিনের মতো বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ।

মগনামা ইউনিয়নের কাজির মার্কেট এলাকার একটি বড় অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খালের প্রবাহ ফিরতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন মগনামা ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দা।

​অভিযানস্থলে দাঁড়িয়ে নিজের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন স্থানীয় গৃহিণী ফাতেমা বেগম (৪২)। তিনি বলেন, এই বাঁধের কারণে এতদিন সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যেত। এমনকি কেউ মারা গেলে দাফন করার মতো শুকনো মাটি পর্যন্ত পাওয়া যেত না! খালের প্রবাহ ফেরায় এখন আমাদের জীবনযাত্রা ও রুটিরুজির পথ আবার উন্মুক্ত হবে।

​একই অনুভূতির কথা জানান স্থানীয় কৃষক শফিউল আলম (৫৫)। তিনি বলেন, আজকের এই উচ্ছেদের ফলে রঙিনখালে মাছ ধরে সাধারণ মানুষ আবার জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তবে শুধু বাঁধ কাটা নয়, আমাদের একটাই দাবি, সরকারি জমি যেন চিরতরে উদ্ধার করে রঙিনখালটি দ্রুত পুনঃখনন করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী আর এটি দখলের সাহস না পায়।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মগনামা ইউনিয়নের কাজির মার্কেট ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী। আজ যে বাঁধটি অপসারণ করা হয়, সেটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নির্মাণ করে রেখেছিলেন স্থানীয় মৃত আক্তার কামালের ছেলে মানিক চৌধুরী।

​উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে খনন করা এই রঙিনখালটি ছিল শুদ্ধখালী, এবাদুল্লা পাড়া, মৌলভীদিয়া, কালার পাড়া, বেদারবিল পাড়া ও কুদাইল্লাদিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান জলধারা। কিন্তু গত দেড় দশক ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের ও খামার তৈরি করে সরকারি জমি দখলে রেখেছিল। ফলে বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান প্লাবিত হয়ে তৈরি হতো জলাবদ্ধতা।

​অভিযান শেষে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে কোনো দখলদারকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খালটি পুরোপুরি দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান থামবে না। এর আগে রাজনৈতিক চাপের কারণে চেষ্টা করেও এসব বাঁধ অপসারণ করা যায়নি। তবে বর্তমানে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি, যার মধ্যে আজ পর্যন্ত ১৩টি সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

পেকুয়ায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ: স্বস্তিতে ১০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রভাবশালী দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ঐতিহাসিক রঙিনখাল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে টানা ৩য় দিনের মতো বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ।

মগনামা ইউনিয়নের কাজির মার্কেট এলাকার একটি বড় অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খালের প্রবাহ ফিরতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন মগনামা ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দা।

​অভিযানস্থলে দাঁড়িয়ে নিজের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন স্থানীয় গৃহিণী ফাতেমা বেগম (৪২)। তিনি বলেন, এই বাঁধের কারণে এতদিন সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যেত। এমনকি কেউ মারা গেলে দাফন করার মতো শুকনো মাটি পর্যন্ত পাওয়া যেত না! খালের প্রবাহ ফেরায় এখন আমাদের জীবনযাত্রা ও রুটিরুজির পথ আবার উন্মুক্ত হবে।

​একই অনুভূতির কথা জানান স্থানীয় কৃষক শফিউল আলম (৫৫)। তিনি বলেন, আজকের এই উচ্ছেদের ফলে রঙিনখালে মাছ ধরে সাধারণ মানুষ আবার জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তবে শুধু বাঁধ কাটা নয়, আমাদের একটাই দাবি, সরকারি জমি যেন চিরতরে উদ্ধার করে রঙিনখালটি দ্রুত পুনঃখনন করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী আর এটি দখলের সাহস না পায়।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মগনামা ইউনিয়নের কাজির মার্কেট ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী। আজ যে বাঁধটি অপসারণ করা হয়, সেটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নির্মাণ করে রেখেছিলেন স্থানীয় মৃত আক্তার কামালের ছেলে মানিক চৌধুরী।

​উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে খনন করা এই রঙিনখালটি ছিল শুদ্ধখালী, এবাদুল্লা পাড়া, মৌলভীদিয়া, কালার পাড়া, বেদারবিল পাড়া ও কুদাইল্লাদিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান জলধারা। কিন্তু গত দেড় দশক ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের ও খামার তৈরি করে সরকারি জমি দখলে রেখেছিল। ফলে বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান প্লাবিত হয়ে তৈরি হতো জলাবদ্ধতা।

​অভিযান শেষে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে কোনো দখলদারকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খালটি পুরোপুরি দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান থামবে না। এর আগে রাজনৈতিক চাপের কারণে চেষ্টা করেও এসব বাঁধ অপসারণ করা যায়নি। তবে বর্তমানে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি, যার মধ্যে আজ পর্যন্ত ১৩টি সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।