জাতিসংঘ, পৃথিবীর সেই কথার ঘর, যেখানে যুদ্ধের আগে কথা বলার কথা, অস্ত্রের আগে যুক্তি রাখার কথা। কিন্তু নিউইয়র্কের মঞ্চে এবার দৃশ্যটা যেন একটু অন্যরকম।
কেউ বক্তব্যের মাঝপথে উঠে চলে যাচ্ছে, কেউ মাইক্রোফোনে হুমকির ভাষা ছুড়ে দিচ্ছে, কেউ আবার যে প্রতিষ্ঠানটির ছায়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলছে, তাকেই অকার্যকর বলে বিদায় জানাতে চাইছে। অথচ বাইরে পৃথিবীর কোথাও যুদ্ধ থামছে না, কোথাও মানুষ ঘর হারাচ্ছে, কোথাও ক্ষুধা আর উদ্বেগের রাত দীর্ঘ হচ্ছে। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যই যেখানে “রেস্টুরিং ট্রাস্ট বা আস্থা পুনরুদ্ধার” সেখানেই আস্থার সংকট যেন চোখের সামনে।
তাহলে প্রশ্নটা খুব সহজ, এভাবেই কি চলবে ‘ভদ্রপল্লি’? জাতিসংঘ নিখুঁত নয়। তার সীমাবদ্ধতা আছে, ব্যর্থতা আছে, ক্ষমতার রাজনীতির কাছে অসহায় মুহূর্তও আছে। কিন্তু তাই বলে কথার শেষ দরজাটিও কি বন্ধ করে দিতে হবে?
ভদ্রপল্লিতে প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া হতে পারে। দরজা বন্ধ করা যায়। রাগ করে চলে যাওয়াও যায়। কিন্তু আগুন লাগলে? তখন তো আবার সেই প্রতিবেশীর দরজাতেই কড়া নাড়তে হয়।
আজ জাতিসংঘের সংকট শুধু জাতিসংঘের নয়, এটি আমাদের সভ্যতার সংকট। কারণ প্রতিষ্ঠানটি দুর্বল হলে শক্তিশালী রাষ্ট্রের কণ্ঠ আরও জোরালো হবে, কিন্তু ছোট রাষ্ট্রের কণ্ঠ কোথায় যাবে?
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, পৃথিবীর ফাটলগুলো এখন “ক্যানিয়ন বা গভীর খাদ”-এ পরিণত হচ্ছে।হয়তো তাই এখন জাতিসংঘকে ভেঙে ফেলার চেয়ে আবার বসার টেবিলটি ঠিক করাই বেশি জরুরি।
কারণ শেষ পর্যন্ত, যুদ্ধেরও আগে একটি শব্দ আসে, কথা।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 




















