ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ পার্বত্য মন্ত্রী সা চিং প্রু জেরীর সাথে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত লোহাগাড়ার চরম্বায় বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা কক্সবাজার পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র আত্মপ্রকাশ, সোমবার মানববন্ধন অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের সমীহ জাগানিয়া অর্জন.. জামিনে মুক্তি পেলেন টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ টোল ইজারার কাগজে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল আদায়ে বিপাকে তিন ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা সমিতিপাড়ার সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি আরাফাত গ্রেফতার কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ : যাত্রী আহত বালিয়াড়ীতে সড়ক নির্মান বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাপার স্মারকলিপি চকরিয়ায় মিষ্টিতে “তেলাপোকা”, নানা অসংগতি : ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিহারে বিমান হামলায় নিহত ১৪ রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, পেশাগত যোগ্যতা হবে পদোন্নতির মানদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা

কথায় কথায় আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদ্গার, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, এসব কি কেবল মুহূর্তের উত্তেজনা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো সামাজিক ও মানসিক সংকট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সাধারণত একক কোনো কারণ থেকে জন্ম নেয় না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধনের দুর্বলতা মানুষের আচরণকে ক্রমশ আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দারিদ্র্য, দীর্ঘমেয়াদি চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বৈষম্য মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতি কমে গেলে মানুষ সহজেই ক্ষোভ, ভয় ও সংঘাতমুখী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

অতএব, পুলিশকে আক্রমণ করা হোক বা সামান্য মতবিরোধে একে অপরের ওপর চড়াও হওয়া, এসবকে শুধু “রাগের বহিঃপ্রকাশ” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো অনেক সময় একটি বৃহত্তর সামাজিক ক্লান্তি, হতাশা এবং মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ।

একটি সুস্থ সমাজ গড়তে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ন্যায়বিচার, সামাজিক আস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। কারণ অসহিষ্ণুতা হঠাৎ জন্ম নেয় না, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, চাপ ও বিচ্ছিন্নতার জমে থাকা প্রতিক্রিয়া।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি কেবল সহিংসতার ঘটনা দেখছি, নাকি তার জন্মদাতা কারণগুলোও দেখার সাহস করছি?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২

অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা

আপডেট সময় : ০২:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

কথায় কথায় আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদ্গার, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, এসব কি কেবল মুহূর্তের উত্তেজনা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো সামাজিক ও মানসিক সংকট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সাধারণত একক কোনো কারণ থেকে জন্ম নেয় না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধনের দুর্বলতা মানুষের আচরণকে ক্রমশ আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দারিদ্র্য, দীর্ঘমেয়াদি চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বৈষম্য মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতি কমে গেলে মানুষ সহজেই ক্ষোভ, ভয় ও সংঘাতমুখী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

অতএব, পুলিশকে আক্রমণ করা হোক বা সামান্য মতবিরোধে একে অপরের ওপর চড়াও হওয়া, এসবকে শুধু “রাগের বহিঃপ্রকাশ” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো অনেক সময় একটি বৃহত্তর সামাজিক ক্লান্তি, হতাশা এবং মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ।

একটি সুস্থ সমাজ গড়তে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ন্যায়বিচার, সামাজিক আস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। কারণ অসহিষ্ণুতা হঠাৎ জন্ম নেয় না, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, চাপ ও বিচ্ছিন্নতার জমে থাকা প্রতিক্রিয়া।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি কেবল সহিংসতার ঘটনা দেখছি, নাকি তার জন্মদাতা কারণগুলোও দেখার সাহস করছি?