ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মা হাতি আহত কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ লোহাগাড়ার দরবেশহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৭ দোকান ভারী বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারিং ন্যায্য ছিল: সুইজারল্যান্ড কোচ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মিয়ানমার তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রধান চালিকাশক্তি : রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে মাদকের বড় চালান ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার ৯২ হাজার ইয়াবা, আটক ১, বন্যায় কক্সবাজার সহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে ৩৬ জনের প্রাণহানি পানিবন্দি মানুষের পাশে ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম. রাশেদুল করিম রাশেদ দুই দিনে বঙ্গোপসাগর থেকে পাঁচ মরদেহ উদ্ধার, উপকূলে উদ্বেগ বন্যায় ভাসছে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ লক্ষ মানুষ চট্টগ্রামে উখিয়া-টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা

কথায় কথায় আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদ্গার, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, এসব কি কেবল মুহূর্তের উত্তেজনা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো সামাজিক ও মানসিক সংকট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সাধারণত একক কোনো কারণ থেকে জন্ম নেয় না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধনের দুর্বলতা মানুষের আচরণকে ক্রমশ আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দারিদ্র্য, দীর্ঘমেয়াদি চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বৈষম্য মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতি কমে গেলে মানুষ সহজেই ক্ষোভ, ভয় ও সংঘাতমুখী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

অতএব, পুলিশকে আক্রমণ করা হোক বা সামান্য মতবিরোধে একে অপরের ওপর চড়াও হওয়া, এসবকে শুধু “রাগের বহিঃপ্রকাশ” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো অনেক সময় একটি বৃহত্তর সামাজিক ক্লান্তি, হতাশা এবং মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ।

একটি সুস্থ সমাজ গড়তে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ন্যায়বিচার, সামাজিক আস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। কারণ অসহিষ্ণুতা হঠাৎ জন্ম নেয় না, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, চাপ ও বিচ্ছিন্নতার জমে থাকা প্রতিক্রিয়া।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি কেবল সহিংসতার ঘটনা দেখছি, নাকি তার জন্মদাতা কারণগুলোও দেখার সাহস করছি?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মা হাতি আহত

অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা

আপডেট সময় : ০২:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

কথায় কথায় আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদ্গার, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, এসব কি কেবল মুহূর্তের উত্তেজনা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো সামাজিক ও মানসিক সংকট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সাধারণত একক কোনো কারণ থেকে জন্ম নেয় না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধনের দুর্বলতা মানুষের আচরণকে ক্রমশ আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দারিদ্র্য, দীর্ঘমেয়াদি চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও বৈষম্য মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতি কমে গেলে মানুষ সহজেই ক্ষোভ, ভয় ও সংঘাতমুখী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

অতএব, পুলিশকে আক্রমণ করা হোক বা সামান্য মতবিরোধে একে অপরের ওপর চড়াও হওয়া, এসবকে শুধু “রাগের বহিঃপ্রকাশ” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো অনেক সময় একটি বৃহত্তর সামাজিক ক্লান্তি, হতাশা এবং মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ।

একটি সুস্থ সমাজ গড়তে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ন্যায়বিচার, সামাজিক আস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। কারণ অসহিষ্ণুতা হঠাৎ জন্ম নেয় না, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, চাপ ও বিচ্ছিন্নতার জমে থাকা প্রতিক্রিয়া।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি কেবল সহিংসতার ঘটনা দেখছি, নাকি তার জন্মদাতা কারণগুলোও দেখার সাহস করছি?