ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি : খোঁজ নেই নাহিদসহ পরিবারের ৪ জনের কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ১৩ পরিবার লোহাগাড়ায় এক কিশোরীর কান্ড আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে মরদেহগুলো : ডিএনএ টেস্টে সময় লাগবে ৪ সপ্তাহ মাইক্রোফোন হাতে শুরু ‘বিয়ের প্রথম সকাল’, নজর কাড়ল সাংবাদিক শামীমের পেশাদারিত্ব কক্সবাজার-৩ আসনের সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানালেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল সোনাদিয়ায় দখল উচ্ছেদ করে জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হবে- প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম টুপটুপের প্রচারণামূলক ভিডিও বানানো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর চাইলেন ক্ষমা! রামুতে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতারা  ‘টুপটুপে প্রাণহানির দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেনা’, তদন্তের দাবি শিবিরের টুপটুপ ট্রাজেডিতে পর্যটনমন্ত্রীর শোক, তিন জরুরি নির্দেশ টুপটুপ রিসোর্ট ট্রাজেডিতে উখিয়া থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ম্যানেজার ২৮ কেজি গাঁজাসহ রামুতে ৩ রোহিঙ্গা গ্রেফতার অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি : ৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন

কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর

  • টিটিএন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 271

কক্সবাজারের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও শহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ প্যানেল না থাকায় শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

এদিন সকালে মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান তুষার।

শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। তার আগে গত ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেফতার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও অন্যরা আত্মসমর্পণ করেননি।

এর আগে গত ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনে সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন। একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২৬ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তদন্তে একরাম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। তিনি আরও জানান, কারাগারে থাকা আসামিদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, একরামুল হক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞার বিবৃতিতেও একরামুল হক হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি : খোঁজ নেই নাহিদসহ পরিবারের ৪ জনের

কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও শহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ প্যানেল না থাকায় শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

এদিন সকালে মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান তুষার।

শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। তার আগে গত ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেফতার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও অন্যরা আত্মসমর্পণ করেননি।

এর আগে গত ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনে সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন। একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২৬ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তদন্তে একরাম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। তিনি আরও জানান, কারাগারে থাকা আসামিদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, একরামুল হক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞার বিবৃতিতেও একরামুল হক হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন।