মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টাউনশীপ সংলগ্ন নির্মাণাধীণ ভবন থেকে মনিরুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় শ্রমিকরা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এর দুইদিন আগ থেকে নিখোঁজ ছিলো মাতারবাড়ি দক্ষিণ রাজঘাট এলাকার যুবক মনিরুল ইসলাম। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাওয়া মরদেহ মনিরের এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার ও স্থানীয়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ফটকে এসে জড়ো হয়।
নিহত মনিরের ভাই মোস্তাক টিটিএনকে অভিযোগ করে বলেন, গত দুইদিন আগ থেকে নিখোঁজ ছিল মনির। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাওয়া মরদেহটি মনিরের। তার শরীর ও অন্ডকোষে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে মোস্তাক বলেন, মনিরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মহেশখালী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন নিহতের এই ভাই।
এই ঘটনায় মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মো. এফকোন আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করায় উভয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান বলেন, খবর পেয়ে মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অন্ডকোষে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে তিনি জানান প্রাথমিকভাবে ইলেক্ট্রিক শকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরপর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক কর্মচারি জানান, মনিরের মরদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এফকোন আলী জড়িত বলে দাবী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তির।
মাতারবাড়ি স্থানীয় মো. আব্দুর রহিম বলেন, কেউ যদি অপরাধ করে তার জন্য আইন রয়েছে। কিন্তু পিটিয়ে কাউকে হত্যা করা আইনবহির্ভূত কাজ। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মনির হত্যার বিচার দাবি করেন এই তরুণ।
জমির উদ্দিন নামের স্থানীয় অপর ব্যক্তি বলেন, এই মৃত্যুর দায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না। হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত কে মামলা থেকে বাদ দিতে কিছু রাজনীতিক ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে চুরির অভিযোগ এনে মনির কে মারধর করা হয়েছে বলে দাবী করছে স্থানীয়রা। তবে এ নিয়ে কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টিত এই প্রকল্পের ভেতর কিভাবে বহিরাগত কেউ প্রবেশ করলো এ নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 























