ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাটি থেকে বের হচ্ছে আগুন, গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ইনানী চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ মিথ্যা দাবি খোকন চেয়ারম্যানের : চাইলেন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত কুতুবজোমের উন্নয়ন ও নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. রহিম উল্লাহ টুপটুপের মামলায় ওসি তলব- ‘আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ’ পাটুয়ারটেক ট্রাজেডি, ডিএনএ টেস্টে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে, মিলেনি ছাত্রদল নেতার স্ত্রীর পরিচয় কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, যুক্ত হলো মহানগর এক্সপ্রেস নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলার উপ কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ সাঈদ চট্রগ্রামে আটক টেকনাফের পৌরমেয়র প্রার্থীর মিছিলে চাঁদাবাজি মামলার আসামী! রামুর বাঁকখালী তীরে মিলনমেলা – সম্প্রীতির বন্ধনে ভাসলো কল্প-জাহাজ বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে সম্প্রীতির দেশ- কক্সবাজারের প্রবারণা উৎসবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম অভিযানের পরও মেরিনড্রাইভে নির্মাণযজ্ঞ,  ‘সরকারি দপ্তর’ ম্যানেজের দাবি! কক্সবাজারে পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সোনারগাঁওয়ের যুবদল নেতা জহির ফকির হত্যা মামলার আসামি কবির গ্রেপ্তার গর্জনিয়ায় হাবিব-আয়েশা ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ গর্জনিয়ায় হাবিব-আয়েশা ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ
আজকের মহেশখালী বনাম রামু ম্যাচ

মহেশখালী দলে খেলছে না জাতীয় ও পরিচিত কোনো স্টার প্লেয়ার: অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে সমালোচনা

কক্সবাজার জেলা খেলোয়াড় সমিতির আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে মহেশখালী উপজেলা বনাম রামু উপজেলা তাদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই ম্যাচে মহেশখালী উপজেলা দলে বাংলাদেশ জাতীয় দল ও দেশের বিভিন্ন লীগে খেলা পেশাদার অনেক খেলোয়াড় খেলবেন না বলে জানা গেছে। বিষয়টি খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা বরাবরের মতো ফুটবলের উর্বর ভূমি। এই উপজেলা থেকে একাধিক খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। কক্সবাজার জেলা থেকে প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলা তৌহিদুল আলম সবুজও মহেশখালী উপজেলার সন্তান। বর্তমানে মনির আলম সহ একাধিক খেলোয়াড় বাংলাদেশ জাতীয় দলের মূল দল এবং বয়স ভিত্তিক দলে রয়েছে। তারা কেউ মহেশখালী উপজেলা খেলোয়াড় সমিতির দলের হয়ে না খেলার কারণ জানতে চাইলে খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ ওঠে আসে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজ মুঠোফোনে জানান, ‘কোনো টিমের হয়ে প্লেয়ার খেলা; না খেলা একান্ত প্লেয়ারের ব্যক্তিগত চয়েস। মহেশখালী উপজেলা দলের অফিশিয়াল হিসেবে খেলোয়াড় সমিতির হয়ে যারা দায়িত্বে আছেন তারা কেউ ফুটবলার কিংবা খেলার সাথে সম্পৃক্ত না। তারা দায়িত্ব নেওয়ার আগে পরে মহেশখালী উপজেলার সাবেক বর্তমান খেলোয়াড়দের সাথে কোনো সমন্বয় কিংবা কোনো ধরণের আলোচনা করেনি টুর্ণামেন্টের সম্পর্কে। খেলার জন্য প্লেয়ারের প্রিপারেশন দরকার। হঠাৎ করে কেউ খেলতে বললে সেটা প্লেয়ারের পক্ষে সম্ভব না। কারণ প্রত্যেক প্লেয়ার চায় মাঠে তার সেরাটা দিতে। খেলোয়াড়রা খেলবে কী খেলবে না সেটা একান্ত তাদের নিজস্ব চয়েস। যারা মহেশখালী দলের অফিশিয়াল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের বিভিন্ন অসংগতি, আর্থিক অস্বচ্ছতা, বিভিন্ন খেলোয়াড়দের সাথে রাজনৈতিক ট্যাগে অপেশাদারসূলভ আচরণ এবং অতীতে প্লেয়ারদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে। হয়ত এইসব নানা কারণে তাদের হয়ে প্লেয়াররা না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে কে খেলবে, আর কে খেলবে না সেটা প্লেয়ারের ব্যক্তিগত চয়েস।’

মহেশখালীর সাবেক ফুটবলার এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর সি-লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষক (কোচ) আয়াছুর রহমান বাদশা জানান, ‘আমি অতীতে মহেশখালী উপজেলা ফুটবল দলের প্রতিনিধিত্বে ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে জেলা খেলোয়াড় সমিতি যাদের দায়িত্ব দিয়েছে তারা কেউ খেলোয়াড় নন, ফলে তারা খেলোয়াড়দের পাল্স বোঝেন না। খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত সম্মান দিতে তারা জানেন না। এছাড়া ডিসি গোল্ডকাপসহ বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট ঘিরে বর্তমান দায়িত্ব পাওয়াদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, খেলোয়াড়দের সাথে অপেশাদার আচরণসহ নানা অসংগতির অভিযোগ রয়েছে খেলোয়াড়দের পক্ষে থেকে। তাই খেলোয়াড়রা খেলবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি শুধুমাত্র পেশাদার খেলোয়াড়দের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছি।’

মহেশখালী উপজেলা দলের সাবেক অধিনায়ক মতিউর মুন্না বলেন, ‘আমি একজন রানিং ফুটবলার, আমি এই দলের হয়ে না খেলার অন্যতম প্রধান কারণ যোগ্য অফিশিয়াল নেই। খেলোয়াড়দের অভাব চাহিদা প্রয়োজনীয়তা বুঝবে একজন খেলোয়াড়। কিন্তু মহেশখালীতে সাবেক ফুটবলারদের অবমূল্যায়ন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিন প্রভাষক-কে। প্রভাষকদের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা, উপজেলার নামে ফুটবল দল পরিচালনা করা নয়। আমরা ডিসি গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি ২০২৩ সালে। গতবার ডিসি গোল্ডকাপে সেমিফাইনাল খেলেছি। তখন খেলোয়াড়দের প্র্যাক্টিসের কনভেন্স (সম্মানি), গাড়িভাড়া, বোট ভাড়া, লাঞ্চের টাকা পর্যন্ত পকেটে ভরেছে এমন লোক কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই দলের। একটি টুর্ণামেন্ট খেলার জন্য প্রিপারেশন লাগে, টিম পরিকল্পনা লাগে; দুইদিন আগে এসে খেলোয়াড়দের খেলতে বললে সেটা খুবই অপেশাদার আচরণ। দ্বিতীয়ত, দেশের একজন জাতীয়দলের সাবেক ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজকে নাকি বর্তমান অফিশিয়ালরা চিনে না, সেখানে আমি মতিউর মুন্না তো খুবই সামান্য। যেখানে সবুজের মূল্যায়ণ হয় না সেখানে উপজেলার খেলোয়াড়দের কী বা মূল্যায়ণ হবে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দলে খেলছি না।’

চট্টগ্রাম আবাহনী লিঃ এর সাবেক সেন্টার মিডফিল্ডার ও মহেশখালীর ফুটবলার সাকের আহমেদ বলেন ‘খেলোয়াড়দের সাথে সমন্বয় আলোচনা, অনুশীলন ছাড়া কাউকে দু’দিন আগে হঠাৎ করে খেলতে ডাকলে সেটা তো সম্ভব না। এই অফিশিয়ালদের কাছে প্লেয়ারদের কোনো মূল্য নেই। তাই এই সমন্বয়হীনতার দলে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মহেশখালীর ক্রিড়া সংগঠকরা বলেন, ফুটবল একটি শিল্প। শিল্পের কোনো দল কিংবা জাত নেই। মহেশখালীতে বর্তমানে ফুটবলকে দলীয়করণ করা হয়েছে। যোগ্য খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে লাঞ্ছিত এবং বাদ দেওয়ার অভিযোগ শুনেছি। এটা হলে মহেশখালীতে ফুটবল ধ্বংস হয়ে যাবে।

গত কয়েকদিন ধরে মহেশখালী উপজেলার গঠিত দলে মহেশখালীর সন্তান জাতীয় দলের মনির আলম, মতিউর মুন্না, সাকের আহমেদ, মোস্তফা, গোলকিপার সাঈদি, খোকা, মানিক, আরমান, সুজন, রানা, ইফতেখার, রাজিব, শেফা, আবরার, আবিদ, সোহাগ, সজীব, নূর জায়েদ, মান্নান, আরমানসহ পেশাদার অনেক পরিচিত খেলোয়াড় না খেলার গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বর্তমান টিম অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে ফুটবল সমর্থকরা। অবশেষে সে গুঞ্জন সত্যি হতে চলেছে। তবে শেষমুহুর্তে এসে গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় মহেশখালী উপজেলা খেলোয়াড় সমিতির টিম অফিশিয়ালরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা মহেশখালীর সিনিয়র খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করে খেলার জন্য আহবান করার কথা জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাটি থেকে বের হচ্ছে আগুন, গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ইনানী

আজকের মহেশখালী বনাম রামু ম্যাচ

মহেশখালী দলে খেলছে না জাতীয় ও পরিচিত কোনো স্টার প্লেয়ার: অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে সমালোচনা

আপডেট সময় : ১২:১৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার জেলা খেলোয়াড় সমিতির আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে মহেশখালী উপজেলা বনাম রামু উপজেলা তাদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই ম্যাচে মহেশখালী উপজেলা দলে বাংলাদেশ জাতীয় দল ও দেশের বিভিন্ন লীগে খেলা পেশাদার অনেক খেলোয়াড় খেলবেন না বলে জানা গেছে। বিষয়টি খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা বরাবরের মতো ফুটবলের উর্বর ভূমি। এই উপজেলা থেকে একাধিক খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। কক্সবাজার জেলা থেকে প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলা তৌহিদুল আলম সবুজও মহেশখালী উপজেলার সন্তান। বর্তমানে মনির আলম সহ একাধিক খেলোয়াড় বাংলাদেশ জাতীয় দলের মূল দল এবং বয়স ভিত্তিক দলে রয়েছে। তারা কেউ মহেশখালী উপজেলা খেলোয়াড় সমিতির দলের হয়ে না খেলার কারণ জানতে চাইলে খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ ওঠে আসে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজ মুঠোফোনে জানান, ‘কোনো টিমের হয়ে প্লেয়ার খেলা; না খেলা একান্ত প্লেয়ারের ব্যক্তিগত চয়েস। মহেশখালী উপজেলা দলের অফিশিয়াল হিসেবে খেলোয়াড় সমিতির হয়ে যারা দায়িত্বে আছেন তারা কেউ ফুটবলার কিংবা খেলার সাথে সম্পৃক্ত না। তারা দায়িত্ব নেওয়ার আগে পরে মহেশখালী উপজেলার সাবেক বর্তমান খেলোয়াড়দের সাথে কোনো সমন্বয় কিংবা কোনো ধরণের আলোচনা করেনি টুর্ণামেন্টের সম্পর্কে। খেলার জন্য প্লেয়ারের প্রিপারেশন দরকার। হঠাৎ করে কেউ খেলতে বললে সেটা প্লেয়ারের পক্ষে সম্ভব না। কারণ প্রত্যেক প্লেয়ার চায় মাঠে তার সেরাটা দিতে। খেলোয়াড়রা খেলবে কী খেলবে না সেটা একান্ত তাদের নিজস্ব চয়েস। যারা মহেশখালী দলের অফিশিয়াল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের বিভিন্ন অসংগতি, আর্থিক অস্বচ্ছতা, বিভিন্ন খেলোয়াড়দের সাথে রাজনৈতিক ট্যাগে অপেশাদারসূলভ আচরণ এবং অতীতে প্লেয়ারদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে। হয়ত এইসব নানা কারণে তাদের হয়ে প্লেয়াররা না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে কে খেলবে, আর কে খেলবে না সেটা প্লেয়ারের ব্যক্তিগত চয়েস।’

মহেশখালীর সাবেক ফুটবলার এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর সি-লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষক (কোচ) আয়াছুর রহমান বাদশা জানান, ‘আমি অতীতে মহেশখালী উপজেলা ফুটবল দলের প্রতিনিধিত্বে ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে জেলা খেলোয়াড় সমিতি যাদের দায়িত্ব দিয়েছে তারা কেউ খেলোয়াড় নন, ফলে তারা খেলোয়াড়দের পাল্স বোঝেন না। খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত সম্মান দিতে তারা জানেন না। এছাড়া ডিসি গোল্ডকাপসহ বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট ঘিরে বর্তমান দায়িত্ব পাওয়াদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, খেলোয়াড়দের সাথে অপেশাদার আচরণসহ নানা অসংগতির অভিযোগ রয়েছে খেলোয়াড়দের পক্ষে থেকে। তাই খেলোয়াড়রা খেলবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি শুধুমাত্র পেশাদার খেলোয়াড়দের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছি।’

মহেশখালী উপজেলা দলের সাবেক অধিনায়ক মতিউর মুন্না বলেন, ‘আমি একজন রানিং ফুটবলার, আমি এই দলের হয়ে না খেলার অন্যতম প্রধান কারণ যোগ্য অফিশিয়াল নেই। খেলোয়াড়দের অভাব চাহিদা প্রয়োজনীয়তা বুঝবে একজন খেলোয়াড়। কিন্তু মহেশখালীতে সাবেক ফুটবলারদের অবমূল্যায়ন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিন প্রভাষক-কে। প্রভাষকদের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা, উপজেলার নামে ফুটবল দল পরিচালনা করা নয়। আমরা ডিসি গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি ২০২৩ সালে। গতবার ডিসি গোল্ডকাপে সেমিফাইনাল খেলেছি। তখন খেলোয়াড়দের প্র্যাক্টিসের কনভেন্স (সম্মানি), গাড়িভাড়া, বোট ভাড়া, লাঞ্চের টাকা পর্যন্ত পকেটে ভরেছে এমন লোক কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই দলের। একটি টুর্ণামেন্ট খেলার জন্য প্রিপারেশন লাগে, টিম পরিকল্পনা লাগে; দুইদিন আগে এসে খেলোয়াড়দের খেলতে বললে সেটা খুবই অপেশাদার আচরণ। দ্বিতীয়ত, দেশের একজন জাতীয়দলের সাবেক ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজকে নাকি বর্তমান অফিশিয়ালরা চিনে না, সেখানে আমি মতিউর মুন্না তো খুবই সামান্য। যেখানে সবুজের মূল্যায়ণ হয় না সেখানে উপজেলার খেলোয়াড়দের কী বা মূল্যায়ণ হবে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দলে খেলছি না।’

চট্টগ্রাম আবাহনী লিঃ এর সাবেক সেন্টার মিডফিল্ডার ও মহেশখালীর ফুটবলার সাকের আহমেদ বলেন ‘খেলোয়াড়দের সাথে সমন্বয় আলোচনা, অনুশীলন ছাড়া কাউকে দু’দিন আগে হঠাৎ করে খেলতে ডাকলে সেটা তো সম্ভব না। এই অফিশিয়ালদের কাছে প্লেয়ারদের কোনো মূল্য নেই। তাই এই সমন্বয়হীনতার দলে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মহেশখালীর ক্রিড়া সংগঠকরা বলেন, ফুটবল একটি শিল্প। শিল্পের কোনো দল কিংবা জাত নেই। মহেশখালীতে বর্তমানে ফুটবলকে দলীয়করণ করা হয়েছে। যোগ্য খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে লাঞ্ছিত এবং বাদ দেওয়ার অভিযোগ শুনেছি। এটা হলে মহেশখালীতে ফুটবল ধ্বংস হয়ে যাবে।

গত কয়েকদিন ধরে মহেশখালী উপজেলার গঠিত দলে মহেশখালীর সন্তান জাতীয় দলের মনির আলম, মতিউর মুন্না, সাকের আহমেদ, মোস্তফা, গোলকিপার সাঈদি, খোকা, মানিক, আরমান, সুজন, রানা, ইফতেখার, রাজিব, শেফা, আবরার, আবিদ, সোহাগ, সজীব, নূর জায়েদ, মান্নান, আরমানসহ পেশাদার অনেক পরিচিত খেলোয়াড় না খেলার গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বর্তমান টিম অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে ফুটবল সমর্থকরা। অবশেষে সে গুঞ্জন সত্যি হতে চলেছে। তবে শেষমুহুর্তে এসে গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় মহেশখালী উপজেলা খেলোয়াড় সমিতির টিম অফিশিয়ালরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা মহেশখালীর সিনিয়র খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ করে খেলার জন্য আহবান করার কথা জানান।