কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে, আসবেন বিদেশি পর্যটক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—বিদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানানোর মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা ও সুযোগ-সুবিধা কি কক্সবাজারে প্রস্তুত?
পর্যটন নগরীর একজন স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমার মনে হয়, বর্তমান বাস্তবতায় একজন বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসে একদিনের বেশি থাকার মতো পর্যাপ্ত আকর্ষণ ও সুবিধা খুঁজে পাবেন না। আন্তর্জাতিক মানের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত পর্যটনসেবা, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত পরিবেশ, পর্যাপ্ত বিনোদন এবং আধুনিক পর্যটন অবকাঠামোর এখনও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এক পরিস্থিতিতে বিদেশি কোন পর্যটক যদি কক্সবাজার ভ্রমণে আসে এবং ভ্রমণ শেষে যদি অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলো সে দ্বিতীয় কাউকে শেয়ার করে আমি নিশ্চিত ভ্রমণের জন্য কক্সবাজার কেউ আসবে না।
আর এসব উন্নয়নের উদ্যোগ নিলেই কখনও পরিবেশ রক্ষার নামে, আবার কখনও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নানা আপত্তি ও বাধা সামনে আসে। পরিবেশ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; তবে উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মধ্যে বাস্তবসম্মত সমন্বয়ও জরুরি।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি করে বিদেশি পর্যটক আনার পথ খুলে দিলাম, কিন্তু তাদের থাকার, ঘোরার, উপভোগ করার এবং সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারলে—তাহলে তারা কক্সবাজারে এসে করবেটা কী?
কক্সবাজারকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শুধু বিমানবন্দর নয়, প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, যোগাযোগ, বিনোদন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন।
বিদেশি পর্যটক আনতে হলে আগে কক্সবাজারকে তাদের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
লেখক- শাহাদাত হোসেন রিপন
সাবেক সভাপতি, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল।
শাহাদাত হোসেন রিপন 



















