কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাতের আঁধারে সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে ১৫টি পাইপ (নাসি) বসানোর অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে। বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নিয়ন্ত্রনাধীন মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা প্রতিরক্ষা বাঁধ কেটে পাইপ (নাসি) বসানোর চেষ্টা করে হারুন মাতবর পাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, তাঁর পুত্র নুর মুহাম্মদ, লালমিয়া পাড়ার মনু ও শরৎঘোনার জহিরুল ইসলাম।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী গ্রাম পুলিশ নিয়ে সেখানে যান। এ সময় মাটি কাটার বিশেষযন্ত্র (স্কেভটর গাড়ি) ও মজুদ করা ১৫টি নাসি জব্দ করেন এবং তাৎক্ষণিক মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেন। পরেরদিন (সোমবার) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুরুল আখতার নিলয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং কর্তনকৃত বাঁধ পুনরায় মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কঠোর নির্দেশনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জাহাঙ্গীর, নুর মুহাম্মদ, মনু ও জহিরুল ইসলামের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট বাঁধ কেটে পানি ব্যবসার সাথে জড়িত। লবণ মৌসুমে প্রতিকানি লবণ মাঠ থেকে ৩ হাজার টাকা ও চিংড়িঘেরে জন্য প্রতিকানি জমি থেকে ৪ হাজার টাকা করে পানি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে। তারা তিনজন লবণের মাঝি (স্থানীয়দের ভাষায় দালাল)। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এক প্রকার প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেড়িবাঁধ কাটার দুঃসাহস দেখিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, আমাদের কাছে একজন আবেদন করছিল। মিথ্যাচার করে বাঁধ কেটে নাসি বসানোর চেষ্টা করছিল। আমাদের মাঠ কর্মী জমির উদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিবে। তদন্ততে যাদের নাম উঠে আসবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।
পেকুয়া প্রতিনিধি: 


















