কুতুবদিয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রায়হান। (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আজিজুর রায়হান জানান, গত ৩ জুন রাত ৮ ঘটিকায় উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী কায়কোবাদ সিকদারসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ উল ইসলাম সাকিব ও তার ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান পুলিশ কনস্টেবল সাবিতের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।
এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৮ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই দুঃখজনক ঘটনায় কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে—’এটি দলীয় কোনো বিষয় নয় এবং কায়কোবাদ ছাত্রদলের কেউ নয়’। উপজেলা আহ্বায়কের এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির চরম পরিপন্থী। কায়কোবাদ সিকদার বিগত স্বৈরাচারবিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। এমনকি বিগত স্বৈরাচারী আমলে ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তিনি ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তৎকালীন জেলা ছাত্রদলও যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল।
আজিজুর রায়হান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে বারবার হামলার শিকার হওয়া ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতার এমন বক্তব্য প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার শামিল। এটি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা কায়কোবাদ সিকদারসহ সকল আহতরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের ওপর হওয়া হামলাকে স্রেফ ‘ব্যক্তিগত বিরোধ’ হিসেবে চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি অনতিবিলম্বে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানান। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 






















