ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ : ৯ মাসে আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮২ জন, ১০ জনের মৃত্যু পেকুয়ায় ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা পরকীয়া ও অর্থ লেনদেনের বিরোধে চকরিয়ার ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা-পুলিশ : আরো ২ ঘাতক আটক জলদস্যু প্রতিরোধে বঙ্গোপসাগরে কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফে জাল কাগজপত্রে ভোটার হওয়ার আবেদন, যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড টেকনাফে এসআরবির অভিযান ৫ লক্ষ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছোলামুড়ি বিক্রির আড়ালে মাদক কারবার, ইয়াবাসহ আটক করলো পুলিশ কবি অমিত চৌধুরীর নাগরিক শোক সভা ৩১ অক্টোবর থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫ লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা টেকনাফে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযান: ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইস্টার সানডে উদযাপিত: সম্প্রীতি ও আলোর বার্তা

আনন্দ, প্রার্থনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদযাপিত হলো পবিত্র ইস্টার সানডে। প্রভু যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্পে আশ্রয়রত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা একত্রিত হয়ে নতুন জীবনের আশা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) উখিয়ার ট্রানজিট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেথেল চার্চ রোহিঙ্গা খ্রিস্টান ফেলোশিপ এ দিনব্যাপী ইস্টার সানডে উদযাপন করা হয়।

রোহিঙ্গা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মী ও গির্জার যাজক রেভারেন্ড পিটার সাইফুল​ এই বিশেষ দিনে পুনরুত্থানের মহিমা তুলে ধরে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন,“খালি সমাধি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মৃত্যু পরাজিত হয়েছে এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে নতুন জীবনের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। খ্রিস্টের পুনরুত্থান কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের সংকটে নতুন আশা ও উদ্দেশ্য জোগায়।”

​অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ক্যাম্পের বিশ্বাসীরা সম্মিলিতভাবে বিশেষ উপাসনা, প্রশংসা সংগীত এবং প্রার্থনায় অংশ নেন। বাইবেলের বাণী “তোমরা পৃথিবীর আলো” অনুসরণ করে মোমবাতি ও আলো প্রজ্বলন করা হয়। এই প্রতীকী আলোর মাধ্যমে অন্ধকারের বিপরীতে শান্তি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ নেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রোহিঙ্গা ভাষায় পরিবেশিত সাংস্কৃতিক গান, যেখানে ফুটে ওঠে তাদের জীবন সংগ্রাম এবং আগামী দিনের প্রতি অগাধ আশার কথা। এছাড়া ইস্টারের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নিতে বিশেষ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়, যা পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি মানবিক মর্যাদা এবং প্রতিকূলতার মাঝেও বিশ্বাসের শক্তিতে জেগে ওঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রেভারেন্ড পিটার সাইফুল তাঁর বক্তব্যের শেষে এই আহ্বানের মাধ্যমে যেন পুনরুত্থানের এই শক্তি সবাইকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে গড়ে তোলে এবং খ্রিস্টের ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইস্টার সানডে উদযাপিত: সম্প্রীতি ও আলোর বার্তা

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

আনন্দ, প্রার্থনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদযাপিত হলো পবিত্র ইস্টার সানডে। প্রভু যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্পে আশ্রয়রত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা একত্রিত হয়ে নতুন জীবনের আশা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) উখিয়ার ট্রানজিট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেথেল চার্চ রোহিঙ্গা খ্রিস্টান ফেলোশিপ এ দিনব্যাপী ইস্টার সানডে উদযাপন করা হয়।

রোহিঙ্গা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মী ও গির্জার যাজক রেভারেন্ড পিটার সাইফুল​ এই বিশেষ দিনে পুনরুত্থানের মহিমা তুলে ধরে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন,“খালি সমাধি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মৃত্যু পরাজিত হয়েছে এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে নতুন জীবনের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। খ্রিস্টের পুনরুত্থান কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের সংকটে নতুন আশা ও উদ্দেশ্য জোগায়।”

​অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ক্যাম্পের বিশ্বাসীরা সম্মিলিতভাবে বিশেষ উপাসনা, প্রশংসা সংগীত এবং প্রার্থনায় অংশ নেন। বাইবেলের বাণী “তোমরা পৃথিবীর আলো” অনুসরণ করে মোমবাতি ও আলো প্রজ্বলন করা হয়। এই প্রতীকী আলোর মাধ্যমে অন্ধকারের বিপরীতে শান্তি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ নেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রোহিঙ্গা ভাষায় পরিবেশিত সাংস্কৃতিক গান, যেখানে ফুটে ওঠে তাদের জীবন সংগ্রাম এবং আগামী দিনের প্রতি অগাধ আশার কথা। এছাড়া ইস্টারের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নিতে বিশেষ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়, যা পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি মানবিক মর্যাদা এবং প্রতিকূলতার মাঝেও বিশ্বাসের শক্তিতে জেগে ওঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রেভারেন্ড পিটার সাইফুল তাঁর বক্তব্যের শেষে এই আহ্বানের মাধ্যমে যেন পুনরুত্থানের এই শক্তি সবাইকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে গড়ে তোলে এবং খ্রিস্টের ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়।