ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোরবানির পশুর নামকরণ ও ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে প্রেমিকের ওপর চড়াও পুলিশ, লঙ্কাকাণ্ড ৪০০ জনকে ঔষুধসহ ফ্রি চিকিৎসা দিলো কর্মবীর মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা যাত্রীর মৃত্যু  টেকনাফে মাদক মামলায় ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি জহির গ্রেফতার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে জেলা বিএনপির খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল পেকুয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত সবাইকে দেশ গঠনে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ ২০ হাজার টাকায় আড়াই মাসের শিশু কেনার চেষ্টা, পুলিশ হেফাজতে পর্যটক দম্পতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ছাত্রদলের রাজনীতি ও স্বপ্নময় বাংলাদেশের অভিযাত্রা পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের আত্মপ্রকাশ সভাপতি মাঈনুদ্দিন, সম্পাদক হুমায়ুন সেন্টমার্টিনে সালিশ বৈঠকে সাবেক মেম্বারের নেতৃত্বে হামলা : আহত বর্তমান মেম্বার শিল্পী ইয়াসির আরাফাত-এর দ্বিতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু ৩০ মে টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে প্রেমিকের ওপর চড়াও পুলিশ, লঙ্কাকাণ্ড

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহত হন প্রেমিক নুরুল আমিন (২৪) ওরফে গুরা মিয়া। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার (৩০ মে) বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে ফাঁসিয়াখালীর ছাইরাখালী এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই তরুণী নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে মেয়েপক্ষের কয়েকজন সদস্য ওই বিয়েতে আপত্তি জানিয়ে চকরিয়া থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে তরুণীকে উদ্ধারে পুলিশের একটি দল ছাইরাখালী এলাকায় যায়।

স্থানীয়দের দাবি, তরুণী পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে আরও একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে নুরুল আমিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চকরিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, “ভিকটিম উদ্ধারে গেলে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির পশুর নামকরণ ও ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা

প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে প্রেমিকের ওপর চড়াও পুলিশ, লঙ্কাকাণ্ড

আপডেট সময় : ১০:০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহত হন প্রেমিক নুরুল আমিন (২৪) ওরফে গুরা মিয়া। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার (৩০ মে) বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে ফাঁসিয়াখালীর ছাইরাখালী এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই তরুণী নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে মেয়েপক্ষের কয়েকজন সদস্য ওই বিয়েতে আপত্তি জানিয়ে চকরিয়া থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে তরুণীকে উদ্ধারে পুলিশের একটি দল ছাইরাখালী এলাকায় যায়।

স্থানীয়দের দাবি, তরুণী পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে আরও একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে নুরুল আমিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চকরিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, “ভিকটিম উদ্ধারে গেলে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।