পতিত আওয়ামী লীগ আমলের ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার রেশ ধরে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে রুখে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন উখিয়া উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক মুনীর আহমদ।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে উখিয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘ওসি সাহেব বলে সাংবাদিকের জন্য আমরা কিছু করতে পারবো না, ইউএনও সাহেব বলে সাংবাদিকদের জন্য কিছু করতে পারেননা। এসব সাংবাদিকদের রুখে দিতে হবে, না হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সাংবাদিকরা যদি প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের তো আর রাজনীতি করে লাভ নাই।’
বিএনপির সহযোগী সংগঠনের পদধারী নেতার প্রকাশ্যে এমন ‘হুমকি মূলক’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে সহ উখিয়ায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহআলমের নির্বাচনি প্রচারণায় মুনীর আহমদ অংশ নেন।
সম্প্রতি সেসময়কার নির্বাচনি পথসভার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং যেখানে মুনীর আহমদকে বলতে শোনা যায়, ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন যোগ্যপ্রার্থী জননেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহ আলমের হাতে তুলে দিয়েছেন, নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমরা গতবারের মত (২০১৬) এবারো তাকে জয়যুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ।’
ভিডিওটি প্রকাশের পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এমনকি খোদ বিএনপি নেতাকর্মীরা বিস্ময় প্রকাশ করেন,’ আওয়ামীলীগের এই কর্মী কিভাবে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের উপজেলার শীর্ষ পদে আছেন?’
উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জসিম আজাদ বলেন, ‘ ১৭ বছর মুনীর আহমদ আওয়ামী লীগের মধু খেয়ে নৌকা বুকে নিয়ে ঘুমিয়েছেন। আওয়ামী সরকার পতনের পর উখিয়া উপজেলা কৃষকদল আহবায়ক বনে গেছেন, সাংবাদিকরা সেবিষয় তুলে ধরায় তিনি ক্ষেপেছেন। তার এমন আচরণ নেক্কারজনক এবং আশা করি তিনি এরজন্য ক্ষমা চাইবেন। পাশাপাশি বিএনপির দৃষ্টি আকর্ষণ যেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক মাসুম সিরাজী বলেন, ‘ মনির ভাইকে কখনো বিরোধী দলের কঠিন সংগ্রাম কিংবা প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেখা যায়নি। তিনি সবসময় ক্ষমতাসীন বা সরকারি বলয়ের রাজনীতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেই হোক না কেন, সাংবাদিকদের সম্মানহানিকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।’
বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে একাধিকবার মুনীর আহমদের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : 





















