ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীমান্তের ওরা ২১ জন, ৫ লাখ করে মাদক ব্যবসার শেয়ার! রামুতে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯.২২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০২ জন, শীর্ষে বাঁকখালী ও ক্যান্টনমেন্ট স্কুল শিক্ষক দম্পতির কন্যা ফাউজিয়ার সাফল্য, এসএসসিতে গোল্ডেন A+ সর্বোচ্চ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননা পেলেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী প্রধানমন্ত্রী কি ভারত সফরে যাচ্ছেন, যা জানা গেল চকরিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত ২ এবারও ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে ছাত্রীরা ‘র’ প্রধান ঢাকায় মহেশখালীতে কোন বিদ্যালয়ে কত পাস: জিপিএ-৫ পাওয়ার শীর্ষে কোন প্রতিষ্ঠান এসএসসি: ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, শতভাগ পাস ৬৬৯টিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান নরেন্দ্র মোদি: ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পেকুয়ায় এসএসসিতে পাসের হার ৪৮.৫৪%, দাখিলে ৭০.৭৬% : জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৮ জন এসএসসিতে কক্সবাজারে পাসের হার ৫৭.০৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এসএসসি ২০২৬: কক্সবাজারে এগিয়ে বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি

সীমান্তের ওরা ২১ জন, ৫ লাখ করে মাদক ব্যবসার শেয়ার!

উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বানিজ্যের বলয় তৈরি ও তা নিয়ন্ত্রণ করছে রবিউল শামীম ওরফে বাবুশ্যা সিন্ডিকেট।

রবিউল শামীম ওরফে বাবুইশ্যা (২৬) এবং তাঁর সহযোগী মহসন আলী এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি সূত্র।

রবিউল শামীম ওরফে বাবুশ্যা পালংখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ধামনখালীর মৃত আব্দুস সালামের পুত্র।

স্থানীয়সহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য আর অনুসন্ধনে উঠে এসেছে, ২১ জনের একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে উখিয়ার থাইংখালীর ধামনখালী সীমান্তে।

ওই ২১ জনের সিন্টিকেটের সদস্যদের সবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নগদ নিয়ে একটি তহবিল গঠন করে তাঁরা।যারা ৫ লাখ টাকা দিতে পারেনি তাঁরা একটি করে চেক জমা দিয়ে ব্যবসার শেয়ার নিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, যারা নগদ টাকা না দিয়ে চেক দিয়ে শেয়ার নিয়েছে তাঁরাই সীমান্ত থেকে মাদকের চালানের ঝুঁকি নিয়ে এপারে নিয়ে আসে।এরপর বুঝিয়ে দেওয়া হয় রবিউল শামীম আর মহসিনকে।

পুলিশের তথ্য বলছে, এ দু’জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা আছে বিভিন্ন থানায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, রবিউল শামীম প্রকাশ বাবুশ্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং একটি অস্ত্র আইনে দায়ের করা। অন্যদিকে, মহসন আলীর বিরুদ্ধেও অনুরূপভাবে দুটি মাদক ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা আত্মগোপনে থাকলেও সীমান্ত এলাকার মাদক চেইনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ও প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়, ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামী রবিউল শামীম,
২০২১ সালের ৬ মে উখিয়া থানায় আরেকটি মাদক মামলা দায়ের হয়, মামলাটিরও
এজাহারভুক্ত আসামী রবিউল শামীম।

২৪ অক্টোবর ২০২৫ সালে উখিয়া থানায় অস্ত্র আইনে বিজিবি একটি মামলা দায়ের করে।সেই অস্ত্র মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী রবিউল শামীম ওরফে বাবুশ্যা।
এর মধ্যে দুটি মামলায় তার পরোয়ানা রয়েছে।

স্থানীয় দু’জন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না শর্তে জানায়, পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও সীমান্ত থেকে মাদক পাচারের কাজে জড়িত রয়েছে তাঁরা। এ ছাড়া রবিউল শামীম ২১ জনের একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে।

অনুসন্ধান বলছে, ২১ জনের ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের বেশ কয়েকজনের মোটরসাইকেল রয়েছে, থাইংখালী বাজার থেকে রাতে সামনে পিছনে মোটরসাইকেলের বহর করে মিয়ানমার থেকে আনা ইয়াবাগুলো মরাআম গাছ তলা নামক এলাকায় গিয়ে পৌঁছে দেয়, এরপর সেখান থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আরেক গ্রুপ এসে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল শামীম বলেন, এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ছিলো, এখন তিনি এ ধরণের কোনো কাজে জড়িত নাই বলে জানিয়ে বলেন, তিনি এখন কক্সবাজারেই থাকেন, থাইংখালীতে থাকেন না।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক কারবারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রতি রাতেই অভিযান পরিচালনা করছে, অভিযুক্তদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে জানান তিনি।
গত ৭ আগস্ট কক্সবাজারে ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মাদক কারবারিদের একটি নির্মোহ তালিকা করা হবে।মাদকের মূলহোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবেনা বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তের ওরা ২১ জন, ৫ লাখ করে মাদক ব্যবসার শেয়ার!

সীমান্তের ওরা ২১ জন, ৫ লাখ করে মাদক ব্যবসার শেয়ার!

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বানিজ্যের বলয় তৈরি ও তা নিয়ন্ত্রণ করছে রবিউল শামীম ওরফে বাবুশ্যা সিন্ডিকেট।

রবিউল শামীম ওরফে বাবুইশ্যা (২৬) এবং তাঁর সহযোগী মহসন আলী এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি সূত্র।

রবিউল শামীম ওরফে বাবুশ্যা পালংখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ধামনখালীর মৃত আব্দুস সালামের পুত্র।

স্থানীয়সহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য আর অনুসন্ধনে উঠে এসেছে, ২১ জনের একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে উখিয়ার থাইংখালীর ধামনখালী সীমান্তে।

ওই ২১ জনের সিন্টিকেটের সদস্যদের সবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নগদ নিয়ে একটি তহবিল গঠন করে তাঁরা।যারা ৫ লাখ টাকা দিতে পারেনি তাঁরা একটি করে চেক জমা দিয়ে ব্যবসার শেয়ার নিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, যারা নগদ টাকা না দিয়ে চেক দিয়ে শেয়ার নিয়েছে তাঁরাই সীমান্ত থেকে মাদকের চালানের ঝুঁকি নিয়ে এপারে নিয়ে আসে।এরপর বুঝিয়ে দেওয়া হয় রবিউল শামীম আর মহসিনকে।

পুলিশের তথ্য বলছে, এ দু’জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা আছে বিভিন্ন থানায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, রবিউল শামীম প্রকাশ বাবুশ্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং একটি অস্ত্র আইনে দায়ের করা। অন্যদিকে, মহসন আলীর বিরুদ্ধেও অনুরূপভাবে দুটি মাদক ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা আত্মগোপনে থাকলেও সীমান্ত এলাকার মাদক চেইনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ও প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়, ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামী রবিউল শামীম,
২০২১ সালের ৬ মে উখিয়া থানায় আরেকটি মাদক মামলা দায়ের হয়, মামলাটিরও
এজাহারভুক্ত আসামী রবিউল শামীম।

২৪ অক্টোবর ২০২৫ সালে উখিয়া থানায় অস্ত্র আইনে বিজিবি একটি মামলা দায়ের করে।সেই অস্ত্র মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী রবিউল শামীম ওরফে বাবুশ্যা।
এর মধ্যে দুটি মামলায় তার পরোয়ানা রয়েছে।

স্থানীয় দু’জন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না শর্তে জানায়, পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও সীমান্ত থেকে মাদক পাচারের কাজে জড়িত রয়েছে তাঁরা। এ ছাড়া রবিউল শামীম ২১ জনের একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে।

অনুসন্ধান বলছে, ২১ জনের ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের বেশ কয়েকজনের মোটরসাইকেল রয়েছে, থাইংখালী বাজার থেকে রাতে সামনে পিছনে মোটরসাইকেলের বহর করে মিয়ানমার থেকে আনা ইয়াবাগুলো মরাআম গাছ তলা নামক এলাকায় গিয়ে পৌঁছে দেয়, এরপর সেখান থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আরেক গ্রুপ এসে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল শামীম বলেন, এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ছিলো, এখন তিনি এ ধরণের কোনো কাজে জড়িত নাই বলে জানিয়ে বলেন, তিনি এখন কক্সবাজারেই থাকেন, থাইংখালীতে থাকেন না।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক কারবারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রতি রাতেই অভিযান পরিচালনা করছে, অভিযুক্তদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে জানান তিনি।
গত ৭ আগস্ট কক্সবাজারে ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মাদক কারবারিদের একটি নির্মোহ তালিকা করা হবে।মাদকের মূলহোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবেনা বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।