ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি লোহাগাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ১৫ রামুতে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, ৩ জনের কারাদণ্ড মা ইলিশ সংরক্ষণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী পেকুয়ায় নিজ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত কউক চেয়ারম্যান ও কমেক অধ্যক্ষ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান : বালিভর্তি দুই অবৈধ ডাম্পার জব্দ কক্সবাজারে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জাতীয় পর্যায়ে “সেরা গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আব্দুর রহিম টেকনাফে এসআরবি ও বিজিবির যৌথ অভিযান : ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার বাস টার্মিনালের স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে আলোচিত কুলসুমা হত্যার প্রধান আসামী ইরফান গ্রেফতার সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা পেকুয়ায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দু’টি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষ, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গোলাগুলির শব্দে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন- ওই ক্যাম্পের বি-৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলমের স্ত্রী তাহেরা বেগম ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। স্বজনরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোলাগুলির সময় ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় গুলির শব্দ চলতে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলি ছোড়ার কথা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গুলিবিদ্ধদের বিষয়ে তিনি বলেন, গোলাগুলিতে একই পরিবারের দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং সংঘর্ষের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গারা প্রায়ই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় নিরীহ নারী-শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষ, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ

আপডেট সময় : ০১:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গোলাগুলির শব্দে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন- ওই ক্যাম্পের বি-৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলমের স্ত্রী তাহেরা বেগম ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। স্বজনরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোলাগুলির সময় ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় গুলির শব্দ চলতে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলি ছোড়ার কথা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গুলিবিদ্ধদের বিষয়ে তিনি বলেন, গোলাগুলিতে একই পরিবারের দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং সংঘর্ষের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গারা প্রায়ই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় নিরীহ নারী-শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।