কক্সবাজারের উখিয়ায় পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের অন্তত চারটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকার ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন নুরুল আমিনকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণে করা হয়েছে।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে পালংখালী স্টেশন, থাইংখালী ও উখিয়া সদরসহ কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের অন্তত চারটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা ও থাইংখালী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল নুরুল আমিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপানো হয়। হামলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত কয়েকজন সশস্ত্র রোহিঙ্গাও অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
নুরুল আমিনের ভাই নুরুল আবছার মুন্না বলেন, আমার ভাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ছিনিয়ে নিতে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
নুরুল আবছার মুন্নার আরও অভিযোগ, কিছুদিন আগে তাঁর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে ইউনিয়নের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন।
পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন, নুরুল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চার থেকে পাঁচটি কোপ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে বাঁচাতে ও নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, নুরুল আমিনের ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সাথে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় জোর দাবি জানাচ্ছি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার রাত ১২টার দিকে বলেন, সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপির একজন নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নও (এপিবিএন) অভিযান শুরু করেছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘটনাটিকে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















