ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর ভদ্রপল্লিতে আর ভদ্রতা নেই কক্সবাজারে ৩ দিনের পর্যটন মেলা শুরু হচ্ছে শুক্রবার : যা যা থাকছে টেকনাফে নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর ও চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ, আটক ২ কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার হওয়া রামুর স্কুল ছাত্র শাহীনের জানাজা সম্পন্ন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো আশ্রিত রোহিঙ্গারা পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি : টেকনাফ সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ মাদকই অপরাধের বড় কারণ, নির্মূলে কাজ করছে সরকার: পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ২য় শাহাদাত বার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

আবারো সেই কোরবানি ঈদ, অশ্রুসিক্ত রোহিঙ্গাদের চোখে-মুখে আরকান

দশ বছর আগে ঈদুল আজহার দিনে নিজের দেশ মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন রাখাইনের মংডু শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৬০)। রোহিঙ্গা এই বৃদ্ধ মানুষটি পরিবার নিয়ে প্রাণে বাঁচলেও জীবনের শেষ সময়ে এসে প্রহর গুণছেন স্বদেশ ফেরার।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে একযোগে মোহাম্মদ আলীর মত আলাখো আশ্রিত মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

নামাজ শেষে মোনাজাতে ছিলো প্রত্যাবাসনের আশা নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে করুণ আকুতি, ছিলো ২০১৭ সালে প্রাণ হারানো স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ এক কাপড়ে এরকম এক কোরবানি ঈদে ঘর ছেড়েছি দশ বছর হলো, জানিনা আর কয়দিন বাঁচব। আমার কবরটা যেন আরাকানের মাটিতেই হয় আল্লাহর কাছে তাই চেয়েছি।’

সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা কোরবানি দিলেও অধিকাংশই নির্ভরশীল মানবিক সহায়তার উপরে। নিজ দেশের কোরবানির স্মৃতি চারণ করে রোহিঙ্গা শিক্ষক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ আমরা অনেক বড় গরু কোরবানি দিতাম, কৃষিকাজ করে আমাদের পরিবার চলতো এবং ভালো আয় রোজগার হতো। অথচ এখানে আমাদের কষ্টে দিন যাচ্ছে, কোরবানি দিতে পারিনি।’

গত এক দশকে অন্তত প্রায় দুই লাখ শিশু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে। তাদের মাঝে ঈদের খুশি থাকলেও অবুঝ চোখেমুখে লেগে আছে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার চাপ।

রোহিঙ্গাদের নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল ফর রোহিঙ্গা – ইউসিআর এর সংগঠক মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘ আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রয়োজন, প্রত্যাবাসনই তার একমাত্র সমাধান। প্রত্যেক ঈদেই আমরা খোদার কাছে চাই আগামীর ঈদটা মিয়ানমারে হবে। ‘

তিনি আরো বলেন, ‘ বাংলাদেশ আমাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে এটাতো আমাদের দেশ নয় এবং আমরা এখানে সারাজীবন তো আর থাকব না।  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আমাদের দেশে ফেরা নিশ্চিত করা।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের কোন গতিপথ না পাওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর চাপ বেড়েই চলেছে। স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন বলেন, ‘ রোহিঙ্গাদের আমরা মানবিক বিবেচনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু নানা বাস্তবতার কারণে এই সংকট আমাদের বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন করছে, কার্যত প্রত্যাবাসন ছাড়া আর কোন সমাধানই নেই। তবে মিয়ানমারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

প্রসঙ্গত, এবারের কোরবানি ঈদে প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার পরিবারকে বিভিন্ন এনজিও-দাতা সংস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, ‘ সহায়তা কমতে থাকলেও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোরবানি ঈদে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতি পরিবার ১ কেজি করে মাংস পাবে এবং স্ব-স্ব ক্যাম্পে ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় এই কার্যক্রমের তদারকি করছে।’

প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ বাংলাদেশ সবসময় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে যেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদভাবে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়। ‘

ইউএনএইচসিআর-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে মানবিক সহযোগিতা পাওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন।

তবে অন্যান্য পরিসংখ্যান বলছে, ক্যাম্পের ভিতরে ও বাইরে মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর

আবারো সেই কোরবানি ঈদ, অশ্রুসিক্ত রোহিঙ্গাদের চোখে-মুখে আরকান

আপডেট সময় : ০১:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

দশ বছর আগে ঈদুল আজহার দিনে নিজের দেশ মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন রাখাইনের মংডু শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৬০)। রোহিঙ্গা এই বৃদ্ধ মানুষটি পরিবার নিয়ে প্রাণে বাঁচলেও জীবনের শেষ সময়ে এসে প্রহর গুণছেন স্বদেশ ফেরার।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে একযোগে মোহাম্মদ আলীর মত আলাখো আশ্রিত মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

নামাজ শেষে মোনাজাতে ছিলো প্রত্যাবাসনের আশা নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে করুণ আকুতি, ছিলো ২০১৭ সালে প্রাণ হারানো স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ এক কাপড়ে এরকম এক কোরবানি ঈদে ঘর ছেড়েছি দশ বছর হলো, জানিনা আর কয়দিন বাঁচব। আমার কবরটা যেন আরাকানের মাটিতেই হয় আল্লাহর কাছে তাই চেয়েছি।’

সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা কোরবানি দিলেও অধিকাংশই নির্ভরশীল মানবিক সহায়তার উপরে। নিজ দেশের কোরবানির স্মৃতি চারণ করে রোহিঙ্গা শিক্ষক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ আমরা অনেক বড় গরু কোরবানি দিতাম, কৃষিকাজ করে আমাদের পরিবার চলতো এবং ভালো আয় রোজগার হতো। অথচ এখানে আমাদের কষ্টে দিন যাচ্ছে, কোরবানি দিতে পারিনি।’

গত এক দশকে অন্তত প্রায় দুই লাখ শিশু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে। তাদের মাঝে ঈদের খুশি থাকলেও অবুঝ চোখেমুখে লেগে আছে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার চাপ।

রোহিঙ্গাদের নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল ফর রোহিঙ্গা – ইউসিআর এর সংগঠক মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘ আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রয়োজন, প্রত্যাবাসনই তার একমাত্র সমাধান। প্রত্যেক ঈদেই আমরা খোদার কাছে চাই আগামীর ঈদটা মিয়ানমারে হবে। ‘

তিনি আরো বলেন, ‘ বাংলাদেশ আমাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে এটাতো আমাদের দেশ নয় এবং আমরা এখানে সারাজীবন তো আর থাকব না।  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আমাদের দেশে ফেরা নিশ্চিত করা।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের কোন গতিপথ না পাওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর চাপ বেড়েই চলেছে। স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন বলেন, ‘ রোহিঙ্গাদের আমরা মানবিক বিবেচনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু নানা বাস্তবতার কারণে এই সংকট আমাদের বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন করছে, কার্যত প্রত্যাবাসন ছাড়া আর কোন সমাধানই নেই। তবে মিয়ানমারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

প্রসঙ্গত, এবারের কোরবানি ঈদে প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার পরিবারকে বিভিন্ন এনজিও-দাতা সংস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, ‘ সহায়তা কমতে থাকলেও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোরবানি ঈদে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতি পরিবার ১ কেজি করে মাংস পাবে এবং স্ব-স্ব ক্যাম্পে ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় এই কার্যক্রমের তদারকি করছে।’

প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ বাংলাদেশ সবসময় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে যেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদভাবে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়। ‘

ইউএনএইচসিআর-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে মানবিক সহযোগিতা পাওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন।

তবে অন্যান্য পরিসংখ্যান বলছে, ক্যাম্পের ভিতরে ও বাইরে মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে।