ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন বাফুফের একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়েছে কালারমারছড়া ফুটবল একাডেমি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা বাইকের জন্য প্রাণ দিতে হলো সাইফুলকে! কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় আটক ২১ সাবরাং থেকে মিঠাছড়ির ৫ অপহৃত উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার ভারতে পরলোকগত আ ফ্রু রাখাইনের শেষকৃত্য সম্পন্ন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মরদেহ উদ্ধার মহেশখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ৫৩ জনের নামে মামলা প্রাইভেট কারে তল্লাশি: ৮৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক ৩ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কুতুপালংয়ে ৬ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ

উখিয়া উপজেলার কুতুপালং কবরস্থানের সামনের সড়কসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ১৬তম পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এ অভিযানে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৬ টনের অধিক বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বর্জ্যের মধ্যে ছিল পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, কাপড়, গৃহস্থালি বর্জ্যসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হাজারো উপাদান। পরবর্তীতে এসব বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ ও নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বিডি ক্লিনের সদস্যরা লোক দেখানোর জন্য এখানে আসেননি। এই ময়লা-আবর্জনা আমরা নিজেরাই প্রতিদিন যত্রতত্র ফেলি বলেই পরিবেশের এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। যদি আমরা সবাই নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলি, তাহলে আমাদের পরিবেশ কখনোই এভাবে নোংরা হবে না। বিডি ক্লিন আজ পরিষ্কার করে যাবে, কিন্তু আগামীকাল যদি আমরা আবারও একইভাবে ময়লা ফেলি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাই সচেতনতা আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই গড়ে তুলতে হবে। নিজের গ্রাম, নিজের বাড়ি, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা আমাদের সবার দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে—এই দেশ, এই গ্রাম আমাদের সবার।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুতুপালং বাজার কমিটির সদস্য ইমরান আইকন। তিনি বলেন, “বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম আজ এই স্থানটি পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছে। এখন এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে এমন উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং কুতুপালং বাজার কমিটির পক্ষ থেকে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বিডি ক্লিন কক্সবাজার জেলা টিমের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ সৈয়দ করিম উপস্থিত থেকে পুরো পরিচ্ছন্নতা অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজার কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং এলাকার সচেতন নাগরিকেরা উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহ প্রদান করেন।

বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমের নেতৃবৃন্দ জানান, পরিচ্ছন্নতা কেবল একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি চলমান সামাজিক আন্দোলন। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং উখিয়ার জনসাধারণ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি

কুতুপালংয়ে ৬ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ

আপডেট সময় : ০৯:২৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

উখিয়া উপজেলার কুতুপালং কবরস্থানের সামনের সড়কসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ১৬তম পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এ অভিযানে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৬ টনের অধিক বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বর্জ্যের মধ্যে ছিল পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, কাপড়, গৃহস্থালি বর্জ্যসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হাজারো উপাদান। পরবর্তীতে এসব বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ ও নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বিডি ক্লিনের সদস্যরা লোক দেখানোর জন্য এখানে আসেননি। এই ময়লা-আবর্জনা আমরা নিজেরাই প্রতিদিন যত্রতত্র ফেলি বলেই পরিবেশের এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। যদি আমরা সবাই নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলি, তাহলে আমাদের পরিবেশ কখনোই এভাবে নোংরা হবে না। বিডি ক্লিন আজ পরিষ্কার করে যাবে, কিন্তু আগামীকাল যদি আমরা আবারও একইভাবে ময়লা ফেলি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাই সচেতনতা আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই গড়ে তুলতে হবে। নিজের গ্রাম, নিজের বাড়ি, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা আমাদের সবার দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে—এই দেশ, এই গ্রাম আমাদের সবার।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুতুপালং বাজার কমিটির সদস্য ইমরান আইকন। তিনি বলেন, “বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম আজ এই স্থানটি পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছে। এখন এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে এমন উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং কুতুপালং বাজার কমিটির পক্ষ থেকে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বিডি ক্লিন কক্সবাজার জেলা টিমের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ সৈয়দ করিম উপস্থিত থেকে পুরো পরিচ্ছন্নতা অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজার কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং এলাকার সচেতন নাগরিকেরা উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহ প্রদান করেন।

বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমের নেতৃবৃন্দ জানান, পরিচ্ছন্নতা কেবল একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি চলমান সামাজিক আন্দোলন। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং উখিয়ার জনসাধারণ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।