কক্সবাজারের টেকনাফে ঘোরাঘুরির কথা বলে ডেকে নিয়ে পাঁচ যুবককে অপহরণ ও পাচারের চেষ্টার অভিযোগে মো. আনাস ওরফে মুন্না নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি)। একই সঙ্গে অপহৃত পাঁচজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার পাঁচ যুবককে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন এলাকা ঘোরানোর কথা বলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। পরে রাতে টেকনাফে মুন্নার বাড়িতে থাকার কথা বলে তাদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর তাদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে নৌপথে তাদের ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও জানায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর এসআরবি ১৫-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোরে সাবরাং জিরো পয়েন্ট মেরিন ড্রাইভ সড়কের খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে অপহৃত পাঁচজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারকারী চক্রের সদস্য মো. আনাস ওরফে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিব পাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।
উদ্ধার হওয়া পাঁচজন হলেন, কক্সবাজারের রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান সাকিব (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৬)।
এসআরবি জানিয়েছে, অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে উদ্ধার হওয়া পাঁচ জনের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযান শেষে গ্রেপ্তার মো. আনাস ওরফে মুন্না এবং উদ্ধার হওয়া পাঁচ ভুক্তভোগীকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত চক্রের পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অপহরণ ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি) এর সহকারী পুলিশ সুপার পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়ার) আ. ম. ফারুক জানান ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















