ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা সাজেকে চাঁদের গাড়ি উল্টে ৭ পর্যটক আহত জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বছরে কয়েকবার উচ্ছেদ, তবুও যানজটের কারণ সেই বিদ্যুতের খুঁটি ‘জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিককে প্রধান আসামি করে পুলিশের মামলা টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি : খোঁজ নেই নাহিদসহ পরিবারের ৪ জনের কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ১৩ পরিবার

পালংখালী সীমান্তে সক্রিয় ‘বাহক’ চক্র, প্রতিরাতে ঢুকে কোটি টাকার অ’বৈ’ধ  ইয়াবা

উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তের ওপার তথা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিরাতেই ঢুকছে অবৈধ মাদক ইয়াবা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-বিজিবির সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সুকৌশলে গড়ে ওঠা বাহক চক্রের কারণে থেমে নেই ইয়াবা পাচার।

পালংখালী ইউপির বটতলী গ্রামের আলি মঞ্জুরের পুত্র মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রকাশ রুবেল, ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ গড়ে তুলেছেন এমনই একটি দুর্ধর্ষ চক্র যারা প্রতিদিনই চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক পরিবহন-সরবরাহ করে আসছে।

অনুসন্ধান বলছে, বটতলীর অদূরে আঞ্জুমান পাড়ায় রয়েছে অন্তত ৭টি ঝিরি খাল যেগুলোর সংযোগস্থল নাফনদী। ২০-২৫ জন কথিত রোহিঙ্গা লেবার দিয়ে ওপার থেকে এপারে আনা হয় ইয়াবা, তার পর প্রবেশ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর মজুদগারে। এরপর অর্থনৈতিক লেনদেন শেষে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ইয়াবা।

পুরো এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন উখিয়া থানার একাধিক মামলার আসামী রুবেল। র‍্যাবের কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ আটক হওয়া ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জাফরুল আলম বাবুলের একসময়ের বিশ্বস্ত সহচর রুবেল এখন একাই পরিচালনা করছেন বটতলীর ইয়াবা সাম্রাজ্য।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, রুবেলের মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার তরুণেরা বিপথে ধাবিত হচ্ছে।

পালংখালীর একটি মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, মাদক প্রতিরোধে এখনই কঠোর না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। রুবেলদের মতো ইয়াবা গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ‘

সম্প্রতি কক্সবাজারে এক সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তিনি বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পরিবহনে জড়িত বাহক-ক্যারিয়ার সহ পুরো নেটওয়ার্ক কে শনাক্ত করা হবে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ‘মাদক কারবারিরা জাতির শত্রু, উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ নির্দেশনার আলোকে মাদক প্রতিরোধে সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত আছে।’

বাহক চক্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড

পালংখালী সীমান্তে সক্রিয় ‘বাহক’ চক্র, প্রতিরাতে ঢুকে কোটি টাকার অ’বৈ’ধ  ইয়াবা

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তের ওপার তথা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিরাতেই ঢুকছে অবৈধ মাদক ইয়াবা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-বিজিবির সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সুকৌশলে গড়ে ওঠা বাহক চক্রের কারণে থেমে নেই ইয়াবা পাচার।

পালংখালী ইউপির বটতলী গ্রামের আলি মঞ্জুরের পুত্র মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রকাশ রুবেল, ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ গড়ে তুলেছেন এমনই একটি দুর্ধর্ষ চক্র যারা প্রতিদিনই চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক পরিবহন-সরবরাহ করে আসছে।

অনুসন্ধান বলছে, বটতলীর অদূরে আঞ্জুমান পাড়ায় রয়েছে অন্তত ৭টি ঝিরি খাল যেগুলোর সংযোগস্থল নাফনদী। ২০-২৫ জন কথিত রোহিঙ্গা লেবার দিয়ে ওপার থেকে এপারে আনা হয় ইয়াবা, তার পর প্রবেশ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর মজুদগারে। এরপর অর্থনৈতিক লেনদেন শেষে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ইয়াবা।

পুরো এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন উখিয়া থানার একাধিক মামলার আসামী রুবেল। র‍্যাবের কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ আটক হওয়া ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জাফরুল আলম বাবুলের একসময়ের বিশ্বস্ত সহচর রুবেল এখন একাই পরিচালনা করছেন বটতলীর ইয়াবা সাম্রাজ্য।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, রুবেলের মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার তরুণেরা বিপথে ধাবিত হচ্ছে।

পালংখালীর একটি মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, মাদক প্রতিরোধে এখনই কঠোর না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। রুবেলদের মতো ইয়াবা গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ‘

সম্প্রতি কক্সবাজারে এক সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তিনি বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পরিবহনে জড়িত বাহক-ক্যারিয়ার সহ পুরো নেটওয়ার্ক কে শনাক্ত করা হবে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ‘মাদক কারবারিরা জাতির শত্রু, উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ নির্দেশনার আলোকে মাদক প্রতিরোধে সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত আছে।’

বাহক চক্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।