কোরবানি মুসলিম সমাজে ত্যাগ, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কোরবানির পশুর নাম বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিশ্বনেতা কিংবা আলোচিত ব্যক্তিত্বের নামে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকের কাছে এটি নিছক বিনোদন বা প্রচারণার কৌশল মনে হলেও, বাস্তবে এর সামাজিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ভাবার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।
বিশেষ করে অন্য কোনো দেশের বর্তমান বা সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে কোরবানির পশুর নামকরণ কোনো ভাবেই ইতিবাচক ভূরাজনৈতিক বার্তা বহন করে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কূটনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জনগণের আচরণ, সামাজিক উপস্থাপন এবং সাংস্কৃতিক প্রকাশও একটি দেশের ভাবমূর্তি গঠনে ভূমিকা রাখে। ফলে এমন নামকরণ অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বার্তা, বিদ্রূপ কিংবা অসম্মানের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা হতে পারে।
বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির দেশ। তাই সামাজিক উৎসব কিংবা ধর্মীয় আচারকে রাজনৈতিক প্রতীকায়নের দিকে না নিয়ে গিয়ে, এর আধ্যাত্মিক ও মানবিক দিককে গুরুত্ব দেওয়াই অধিক সমীচীন। কোরবানি প্রতিযোগিতা বা আলোচনার বিষয় নয়; এটি আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধের শিক্ষা।
সচেতনতা, রুচিবোধ এবং পারস্পরিক সম্মান; এই তিনটি বিষয় আমাদের সামাজিক আচরণে আরও বেশি প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 






















