কুতুবদিয়ার শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করার প্রত্যয় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ‘দ্বীপবর্তিকা’ (স্টুডেন্টস’ এসোসিয়েশন অব কুতুবদিয়া)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সেমিনার ও ‘আইকিউ অলিম্পিয়াড ২০২৬’।
শনিবার কুতুবদিয়া সরকারি কলেজ মিলনায়তনে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এবারের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল– ‘উচ্চ শিক্ষা: বাধা, উত্তরণ ও করণীয়’।
কুতুবদিয়া মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জনাব জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম সাদিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ইটিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইঞ্জি. ড. নুর্শেদুল মামুন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াসাদ আজিম সিদ্দিকী, ৪৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ ডা. ওমর ফারুক এবং ব্র্যাকের জেলা আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন মিলকী, ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিলের (ডিআরসি) ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট অফিসার আব্দুল আজিজ, টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল সাক্বির গ্রুপের ডকুমেন্ট কন্ট্রোলার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসাইন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ওসমান গণি। এরপর স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন দ্বীপবর্তিকা’র সভাপতি ও চুয়েটের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম সাগর। পরে উপস্থিত সবার সামনে ‘দ্বীপবর্তিকা’র বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় বিষয়ভিত্তিক ক্যারিয়ার সেমিনার। এতে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মানবিক শাখা ও কৃষি গুচ্ছের ভর্তি প্রস্তুতিসহ এসএসসি থেকে এইচএসসি-র ট্রানজিশন পিরিয়ডের রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেশনগুলোতে একে একে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জামশেদুল করিম তানিম (মেডিকেল), বুয়েটের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সায়েম (ইঞ্জিনিয়ারিং), চুয়েটের মাইনুল ইসলাম রাফি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ ইফতেখার (বিজ্ঞান ইউনিট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আসাদুর রহমান সাকিব (মানবিক বিভাগ) এবং সিভাসু-র ফয়জুল হক মেশকাত (কৃষি গুচ্ছ)। এছাড়া মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনার সঠিক ধরন কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে কথা বলেন চুয়েটের শিক্ষার্থী মাশরাফি বিন খিজির।
দিকনির্দেশনামূলক এই সেশন শেষে শিক্ষার্থীদের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্য আয়োজন করা হয় ‘আই-কিউ অলিম্পিয়াড ২০২৬’। কুতুবদিয়ার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে অলিম্পিয়াডের উভয় ক্যাটাগরিতে বিজয়ী সেরা ১০ জন মেধাবীর হাতে মেডেল ও বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অলিম্পিয়াড পরবর্তী অংশে অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত প্রাণবন্ত ‘প্যানেল ডিসকাশন ও প্রশ্নোত্তর পর্ব’। উচ্চ শিক্ষার পথে নানাবিধ বাধা ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দেশের বিভিন্ন সেক্টরের একঝাঁক গুণী ব্যক্তিত্ব। প্যানেলিস্ট হিসেবে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইঞ্জি. ড. নুর্শেদুল মামুন, ডা. রিয়াসাদ আজিম সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন মিলকী এবং প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসাইন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান দ্বীপবর্তিকার এই মহৎ ও সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক গাইডলাইন পাওয়াটা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। মেধা থাকা সত্ত্বেও কেবল সঠিক নির্দেশনার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে। এই জায়গায় দ্বীপবর্তিকা যে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “উচ্চ শিক্ষার পথ কখনোই মসৃণ নয়, তবে দৃঢ় ইচ্ছা আর সঠিক রণকৌশল থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে কুতুবদিয়ার তরুণদের নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।” আগামীতে এই দ্বীপ অঞ্চল থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী যাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থান করে নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে, সেই আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে তরুণদের কল্যাণে দ্বীপবর্তিকার এমন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে কুতুবদিয়া মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জনাব জহিরুল ইসলাম দ্বীপবর্তিকার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কুতুবদিয়ার প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার পথ মসৃণ করার এবং সব বাধা দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আয়োজক কমিটি উপস্থিত সকল অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 






















