ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলএনজি সরবরাহ কমেছে, সারা দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট সরকার বিশ্বাস করে, পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জুলাইয়ের লেন্স’ প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে গণঅভ্যুত্থানের ভয়াবহতা ব্রাজিলে তরুণ ফুটবলারকে গুলি করে হত্যা হাসি-কান্নায় বিদায় নিল উখিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে? আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর উখিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস জব্দ শাহপরীরদ্বীপে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কবিরের, শনাক্ত করল পরিবার টেকনাফে আসামি ধরতে গিয়ে গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ এসআই দুলালের বিরুদ্ধে: অভিযোগ সঠিক নয় – ওসি লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকারের গোপন চেম্বারে ১৬ হাজার ইয়াবা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪ আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ শাহপরীরদ্বীপে সাগরে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ স্মৃতি শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইস্টার সানডে উদযাপিত: সম্প্রীতি ও আলোর বার্তা

আনন্দ, প্রার্থনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদযাপিত হলো পবিত্র ইস্টার সানডে। প্রভু যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্পে আশ্রয়রত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা একত্রিত হয়ে নতুন জীবনের আশা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) উখিয়ার ট্রানজিট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেথেল চার্চ রোহিঙ্গা খ্রিস্টান ফেলোশিপ এ দিনব্যাপী ইস্টার সানডে উদযাপন করা হয়।

রোহিঙ্গা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মী ও গির্জার যাজক রেভারেন্ড পিটার সাইফুল​ এই বিশেষ দিনে পুনরুত্থানের মহিমা তুলে ধরে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন,“খালি সমাধি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মৃত্যু পরাজিত হয়েছে এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে নতুন জীবনের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। খ্রিস্টের পুনরুত্থান কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের সংকটে নতুন আশা ও উদ্দেশ্য জোগায়।”

​অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ক্যাম্পের বিশ্বাসীরা সম্মিলিতভাবে বিশেষ উপাসনা, প্রশংসা সংগীত এবং প্রার্থনায় অংশ নেন। বাইবেলের বাণী “তোমরা পৃথিবীর আলো” অনুসরণ করে মোমবাতি ও আলো প্রজ্বলন করা হয়। এই প্রতীকী আলোর মাধ্যমে অন্ধকারের বিপরীতে শান্তি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ নেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রোহিঙ্গা ভাষায় পরিবেশিত সাংস্কৃতিক গান, যেখানে ফুটে ওঠে তাদের জীবন সংগ্রাম এবং আগামী দিনের প্রতি অগাধ আশার কথা। এছাড়া ইস্টারের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নিতে বিশেষ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়, যা পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি মানবিক মর্যাদা এবং প্রতিকূলতার মাঝেও বিশ্বাসের শক্তিতে জেগে ওঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রেভারেন্ড পিটার সাইফুল তাঁর বক্তব্যের শেষে এই আহ্বানের মাধ্যমে যেন পুনরুত্থানের এই শক্তি সবাইকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে গড়ে তোলে এবং খ্রিস্টের ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

এলএনজি সরবরাহ কমেছে, সারা দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইস্টার সানডে উদযাপিত: সম্প্রীতি ও আলোর বার্তা

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

আনন্দ, প্রার্থনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদযাপিত হলো পবিত্র ইস্টার সানডে। প্রভু যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্পে আশ্রয়রত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা একত্রিত হয়ে নতুন জীবনের আশা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) উখিয়ার ট্রানজিট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেথেল চার্চ রোহিঙ্গা খ্রিস্টান ফেলোশিপ এ দিনব্যাপী ইস্টার সানডে উদযাপন করা হয়।

রোহিঙ্গা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মী ও গির্জার যাজক রেভারেন্ড পিটার সাইফুল​ এই বিশেষ দিনে পুনরুত্থানের মহিমা তুলে ধরে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন,“খালি সমাধি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মৃত্যু পরাজিত হয়েছে এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে নতুন জীবনের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। খ্রিস্টের পুনরুত্থান কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের সংকটে নতুন আশা ও উদ্দেশ্য জোগায়।”

​অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ক্যাম্পের বিশ্বাসীরা সম্মিলিতভাবে বিশেষ উপাসনা, প্রশংসা সংগীত এবং প্রার্থনায় অংশ নেন। বাইবেলের বাণী “তোমরা পৃথিবীর আলো” অনুসরণ করে মোমবাতি ও আলো প্রজ্বলন করা হয়। এই প্রতীকী আলোর মাধ্যমে অন্ধকারের বিপরীতে শান্তি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ নেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রোহিঙ্গা ভাষায় পরিবেশিত সাংস্কৃতিক গান, যেখানে ফুটে ওঠে তাদের জীবন সংগ্রাম এবং আগামী দিনের প্রতি অগাধ আশার কথা। এছাড়া ইস্টারের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নিতে বিশেষ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়, যা পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি মানবিক মর্যাদা এবং প্রতিকূলতার মাঝেও বিশ্বাসের শক্তিতে জেগে ওঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রেভারেন্ড পিটার সাইফুল তাঁর বক্তব্যের শেষে এই আহ্বানের মাধ্যমে যেন পুনরুত্থানের এই শক্তি সবাইকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে গড়ে তোলে এবং খ্রিস্টের ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়।