মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টিফাই রাইটসের লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্যরা।
২১ মে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরের দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত জোরদার করে দ্রুত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা বেসামরিক নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ ও নির্যাতনের মতো অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক যুগোস্লাভিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাকারী ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার জিওফ্রে নাইস কেসি, মানবাধিকারকর্মী কেরি কেনেডি, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক যুদ্ধাপরাধবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি বেথ ভ্যান শ্যাক, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য লর্ড অ্যালটন এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জিম সিল্কসহ আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ।
তাদের ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হলেও, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত অন্য পক্ষগুলোকেও বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে করে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার মাধ্যমে প্রসিকিউটরের দপ্তর একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে পারে যে, নৃশংস অপরাধের দায় থেকে কোনো পক্ষই দায়মুক্তি পাবে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করলে যে–কেউ জবাবদিহির মুখোমুখি হবে।”
ফোর্টিফাই রাইটস জানায়, মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যেও আরসার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে শরণার্থীশিবিরগুলোতে হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার ঘটনায় সংগঠনটির নাম বারবার আলোচনায় এসেছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্যাম্পে ভিন্নমত দমন ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য আরসা ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে শরণার্থীশিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণেও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ফোর্টিফাই রাইটসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে একবছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন আতাউল্লাহ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















