ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান

রামুতে ১০ হাজার মানুষের একমাত্র সড়ক জলাবদ্ধতায় অচল

পরিষ্কার পোশাক পরে ঘর থেকে বের হলেও কিছু দূর যেতেই জুতা খুলে হাতে নিতে হয়। কাদায় ডুবে হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, কর্মস্থলে যাচ্ছেন চাকরিজীবী, আবার কেউ অসুস্থ স্বজনকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে আটকে পড়ছেন জলাবদ্ধ সড়কে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে কেচুনিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্র এখন এমনই।

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে জমে যায় কাদা ও পানি। চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা জানান, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেচুনিয়া পর্যন্ত সড়কটি শুধু দুটি ওয়ার্ডের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষেরও প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটি ভাঙাচোরা ও কাদাময় অবস্থায় পড়ে আছে।

বর্ষা মৌসুমে বড় বড় গর্ত, কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছৈয়দ, ওবাইদুল হক ও শামসুল আলম বলেন, প্রতিদিন জুতা হাতে নিয়ে কাদার মধ্যে হেঁটে চলাচল করতে হয়। বর্ষাকালে সড়কটি কার্যত ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

খুনিয়াপালং একতা ও সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ শুরু হয়। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে বালির বস্তা ফেলে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সাময়িক সমাধান ছাড়া কিছু নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে প্রতি বর্ষায় হাজারো মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী বেলাল উদ্দীন বলেন, জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে সড়কটিতে ব্রিক সলিং করে চলাচলের উপযোগী করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক কোম্পানি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। লিখিত আবেদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক বছরের পর বছর ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেন কার্যকর সংস্কার হচ্ছে না? বর্ষা এলেই যদি মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র কোথায়?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র

রামুতে ১০ হাজার মানুষের একমাত্র সড়ক জলাবদ্ধতায় অচল

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

পরিষ্কার পোশাক পরে ঘর থেকে বের হলেও কিছু দূর যেতেই জুতা খুলে হাতে নিতে হয়। কাদায় ডুবে হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, কর্মস্থলে যাচ্ছেন চাকরিজীবী, আবার কেউ অসুস্থ স্বজনকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে আটকে পড়ছেন জলাবদ্ধ সড়কে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে কেচুনিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্র এখন এমনই।

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে জমে যায় কাদা ও পানি। চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা জানান, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেচুনিয়া পর্যন্ত সড়কটি শুধু দুটি ওয়ার্ডের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষেরও প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটি ভাঙাচোরা ও কাদাময় অবস্থায় পড়ে আছে।

বর্ষা মৌসুমে বড় বড় গর্ত, কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছৈয়দ, ওবাইদুল হক ও শামসুল আলম বলেন, প্রতিদিন জুতা হাতে নিয়ে কাদার মধ্যে হেঁটে চলাচল করতে হয়। বর্ষাকালে সড়কটি কার্যত ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

খুনিয়াপালং একতা ও সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ শুরু হয়। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে বালির বস্তা ফেলে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সাময়িক সমাধান ছাড়া কিছু নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে প্রতি বর্ষায় হাজারো মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী বেলাল উদ্দীন বলেন, জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে সড়কটিতে ব্রিক সলিং করে চলাচলের উপযোগী করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক কোম্পানি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। লিখিত আবেদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক বছরের পর বছর ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেন কার্যকর সংস্কার হচ্ছে না? বর্ষা এলেই যদি মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র কোথায়?