ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা

রামুতে ১০ হাজার মানুষের একমাত্র সড়ক জলাবদ্ধতায় অচল

পরিষ্কার পোশাক পরে ঘর থেকে বের হলেও কিছু দূর যেতেই জুতা খুলে হাতে নিতে হয়। কাদায় ডুবে হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, কর্মস্থলে যাচ্ছেন চাকরিজীবী, আবার কেউ অসুস্থ স্বজনকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে আটকে পড়ছেন জলাবদ্ধ সড়কে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে কেচুনিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্র এখন এমনই।

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে জমে যায় কাদা ও পানি। চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা জানান, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেচুনিয়া পর্যন্ত সড়কটি শুধু দুটি ওয়ার্ডের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষেরও প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটি ভাঙাচোরা ও কাদাময় অবস্থায় পড়ে আছে।

বর্ষা মৌসুমে বড় বড় গর্ত, কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছৈয়দ, ওবাইদুল হক ও শামসুল আলম বলেন, প্রতিদিন জুতা হাতে নিয়ে কাদার মধ্যে হেঁটে চলাচল করতে হয়। বর্ষাকালে সড়কটি কার্যত ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

খুনিয়াপালং একতা ও সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ শুরু হয়। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে বালির বস্তা ফেলে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সাময়িক সমাধান ছাড়া কিছু নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে প্রতি বর্ষায় হাজারো মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী বেলাল উদ্দীন বলেন, জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে সড়কটিতে ব্রিক সলিং করে চলাচলের উপযোগী করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক কোম্পানি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। লিখিত আবেদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক বছরের পর বছর ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেন কার্যকর সংস্কার হচ্ছে না? বর্ষা এলেই যদি মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র কোথায়?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত

রামুতে ১০ হাজার মানুষের একমাত্র সড়ক জলাবদ্ধতায় অচল

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

পরিষ্কার পোশাক পরে ঘর থেকে বের হলেও কিছু দূর যেতেই জুতা খুলে হাতে নিতে হয়। কাদায় ডুবে হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, কর্মস্থলে যাচ্ছেন চাকরিজীবী, আবার কেউ অসুস্থ স্বজনকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে আটকে পড়ছেন জলাবদ্ধ সড়কে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে কেচুনিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের চিত্র এখন এমনই।

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে জমে যায় কাদা ও পানি। চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা জানান, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেচুনিয়া পর্যন্ত সড়কটি শুধু দুটি ওয়ার্ডের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষেরও প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটি ভাঙাচোরা ও কাদাময় অবস্থায় পড়ে আছে।

বর্ষা মৌসুমে বড় বড় গর্ত, কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছৈয়দ, ওবাইদুল হক ও শামসুল আলম বলেন, প্রতিদিন জুতা হাতে নিয়ে কাদার মধ্যে হেঁটে চলাচল করতে হয়। বর্ষাকালে সড়কটি কার্যত ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

খুনিয়াপালং একতা ও সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ শুরু হয়। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে বালির বস্তা ফেলে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সাময়িক সমাধান ছাড়া কিছু নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে প্রতি বর্ষায় হাজারো মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী বেলাল উদ্দীন বলেন, জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে সড়কটিতে ব্রিক সলিং করে চলাচলের উপযোগী করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক কোম্পানি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। লিখিত আবেদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক বছরের পর বছর ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেন কার্যকর সংস্কার হচ্ছে না? বর্ষা এলেই যদি মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র কোথায়?