ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে থাকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ: প্রতি ইউনিট ৪২ টাকা, আরও বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ গর্জনিয়া থেকে বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে গণ ডাকাতি’র নেতৃত্বে ছালেক,গড়ে তুলেছে হক বাহিনী!   টেকনাফে বসতঘর থেকে উদ্ধার কিং কোবরা, জাহাজপুরায় বনে অবমুক্ত জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে দোকান কর্মচারীকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ হিমছড়িতে গোসলে নেমে সানি, আকাশ ও হারুনের মৃত্যু রামুর বাঁকখালী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব ধর্মের,বর্ণের মানুষের উন্নয়ন করা হবে- কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে মীর হেলাল হিমছড়িতে সৈকতে গোসলে নেমে ২ পর্যটক নিখোঁজ: ৩ জনের মৃত্যু টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন সমুদ্রে জনসমুদ্র বিসর্জনে যা অর্জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্গাপূজা: বিবর্ণ জীবনে রঙিন উৎসব দুর্গাপূজা ও টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, তিন স্তরের নিরাপত্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের ‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

“যদি মারা যাই, লাশটা আমার পরিবারকে দিও”-গুমের বর্ণনায় সালাউদ্দিন

‘‘একটা নির্জন রাস্তায়, পাহাড়ি রাস্তায় একটা ফুটপাতে আমাকে নামিয়ে দিয়ে বলল, ইউ আর ফ্রি নাউ।’

“তখন আমি দেখলাম পাশে একটা বিশাল মাঠ। পরে এটা জানতে পেরেছি এটা শিলং গলফ লিংক বলে। প্রাতঃভ্রমণে কিছু লোক হাঁটতে ছিলেন। আমি পরিচয় দিলাম। তারা পুলিশকে কল করল। এরপরে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।”

এভাবেই বাংলাদেশে টানা দুই মাসের বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতের পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার কথা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে সরকারি কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো এই বিএনপি নেতা বলেন, “তারপরে আমার কথাবার্তা শুনে হয়ত তাদের কাছে আমাকে পাগল মনে হয়েছে।

“তারপরে আমাকে একটা মেন্টাল হসপিটালে নিয়ে যায়- মিনহানস নানদি। ওখানে ডাক্তারকে আমার পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যে, আমার ফোন নম্বর দিলাম যাতে আমার দেশে যোগাযোগ করে।”

এরপর শিলং থেকে টেলিফোনে কথা বলার মুহূর্তটির স্মৃতিচারণ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। বলেন, ‘‘আমি তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। যখন উনি (সালাহউদ্দিন) আমাকে হ্যালো বলল। সেই মুহূর্তের অনুভূতিটি আমি কাউকে বলে বুঝাতে পারব না।

“এত জোরে চিৎকার করেছিলাম যে, গাড়ির ড্রাইভার ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সে প্রচণ্ড জোরে ব্রেক করে ফেলেছিল।”

সোমবার বিএনপির এই নেতার ‘গুম’ হওয়া নিয়ে একটি তথ্যচিত্রে এভাবেই নিরুদ্দেশ থাকার সেই বিভীষিকাময় সময়কার স্মৃতিচারণ করেন এ দম্পতি।

এদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ১৭ মিনিটের এ তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ফেইসবুক পেইজে। যাতে সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রীর পাশাপাশি তাদের ছেলে ওই সময়কার দুর্দশা ও নিদারুণ স্মৃতি তুলে ধরেন।

এ তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়নাঘর ফাইলস’। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ‘আয়নাঘরে’ ও অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা নিয়ে এ তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এটির পঞ্চম পর্বে উঠে এসেছে ‘গুমের’ শিকার বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার পরিবারের দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা।

‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকার সময় মৃত্যু চিন্তাও পেয়ে বসেছিল সালাউদ্দিনকে। ভিডিওতে সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাকে আটকে রাখা সদস্যদের তখন তিনি বলেছিলেন, “যদি আমার মৃত্যু হয় লাশটা আমার পরিবারের কাছে দিও।

‘‘আমি (তাদের) বলতাম, আমার হার্টে স্টেন্টিং আছে, অন্যান্য জটিলতা আছে। এই পরিবেশে ক‘দিন টিকব। কত দিন থাকতে পারব জানি না। তবে আমার যদি মৃত্যু হয়, তাহলে আমার লাশটা আমার পরিবারের কাছে দিও।

‘‘এটা বলার কারণ ছিল তখন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সময়ে গুমের সংস্কৃতি চালু হয়ে গিয়েছিল। লাশ পাওয়া যেত না। তারা ক্রসফায়ার দিয়ে লাশ গুম করে ফেলত। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম, হে আল্লাহ আমার সন্তান, আমার বংশ পরম্পররা, আমার আত্বীয় স্বজনরা আমার কবর জিয়ারত করতে পারবে না?”

রাজধানীর উত্তরা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলতে গিয়ে তথ্যচিত্রে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘২০১৫ সাল মার্চের ১০ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা হতে পারে। এই সময়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে অনেক লোক সশ্বস্ত্র অবস্থায় এই বাসায় (উত্তরা) দোতলায়, যেখানে আমি থাকতাম- আমার বন্ধু হাসনাতের বাসায় ফ্ল্যাটে দরজার ভেঙে প্রবেশ করে। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আমার চোখ, হাত বেঁধে আমাকে নিয়ে।”

এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এরমধ্যে ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে তিনি ৬১ দিন ছিলেন বলে তুলে ধরেন। ছোট্ট সেই কুঠুরিতে দিন-রাত প্রায় একই হয়ে পড়া সেই সময়ের বর্ণনা করেন তিনি। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশে ফিরে আসা সালাহউদ্দিনকে ভিডিওতে সেই ঘরের বর্ণনা দিতে দেখা যায়।

‘আয়নাঘরে’ প্রতিদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হত দাবি করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘কেন আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি? কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচরণ করছি ইত্যাদি এবং আপোস করার প্রস্তাব দিত।

‘‘আমি বলতাম একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া এই দুনিয়াতে আর কাউকে পরোয়া করার কিছু নেই। আমার দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, দেশের মানুষের অধিকারের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য, সমস্ত গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য আমরা সংগ্রাম করছি। এর সাথে আপোস করার কিছু নেই।”

২০১৫ সালের ১০ মার্চ গুম হওয়ার ৬৩ দিন পর সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং শহরে পাওয়া যায়।

আইনি জটিলতা ও মামলা মোকাবিলার কারণে তিনি প্রায় নয় বছর সেখানে অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পথ সুগম হয় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

এ তথ্যচিত্র নির্মাণের অংশ হিসেবে গত ১১ অক্টোবর সিলেটের তামাবিল সীমান্তে যান সালাহউদ্দিন। সেদিন তিনি দাবি করেছিলেন, এই পথেই ২০১৫ সালের ১০ মে তাকে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ ও ভারতে দীর্ঘবন্দি দশা থেকে মুক্তির পর দেশে আসার ১০ মাস পর ৩ জুন সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম দিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সেন্টমার্টিনে থাকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ: প্রতি ইউনিট ৪২ টাকা, আরও বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ

“যদি মারা যাই, লাশটা আমার পরিবারকে দিও”-গুমের বর্ণনায় সালাউদ্দিন

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

‘‘একটা নির্জন রাস্তায়, পাহাড়ি রাস্তায় একটা ফুটপাতে আমাকে নামিয়ে দিয়ে বলল, ইউ আর ফ্রি নাউ।’

“তখন আমি দেখলাম পাশে একটা বিশাল মাঠ। পরে এটা জানতে পেরেছি এটা শিলং গলফ লিংক বলে। প্রাতঃভ্রমণে কিছু লোক হাঁটতে ছিলেন। আমি পরিচয় দিলাম। তারা পুলিশকে কল করল। এরপরে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।”

এভাবেই বাংলাদেশে টানা দুই মাসের বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতের পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার কথা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে সরকারি কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো এই বিএনপি নেতা বলেন, “তারপরে আমার কথাবার্তা শুনে হয়ত তাদের কাছে আমাকে পাগল মনে হয়েছে।

“তারপরে আমাকে একটা মেন্টাল হসপিটালে নিয়ে যায়- মিনহানস নানদি। ওখানে ডাক্তারকে আমার পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যে, আমার ফোন নম্বর দিলাম যাতে আমার দেশে যোগাযোগ করে।”

এরপর শিলং থেকে টেলিফোনে কথা বলার মুহূর্তটির স্মৃতিচারণ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। বলেন, ‘‘আমি তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। যখন উনি (সালাহউদ্দিন) আমাকে হ্যালো বলল। সেই মুহূর্তের অনুভূতিটি আমি কাউকে বলে বুঝাতে পারব না।

“এত জোরে চিৎকার করেছিলাম যে, গাড়ির ড্রাইভার ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সে প্রচণ্ড জোরে ব্রেক করে ফেলেছিল।”

সোমবার বিএনপির এই নেতার ‘গুম’ হওয়া নিয়ে একটি তথ্যচিত্রে এভাবেই নিরুদ্দেশ থাকার সেই বিভীষিকাময় সময়কার স্মৃতিচারণ করেন এ দম্পতি।

এদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ১৭ মিনিটের এ তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ফেইসবুক পেইজে। যাতে সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রীর পাশাপাশি তাদের ছেলে ওই সময়কার দুর্দশা ও নিদারুণ স্মৃতি তুলে ধরেন।

এ তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়নাঘর ফাইলস’। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ‘আয়নাঘরে’ ও অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা নিয়ে এ তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এটির পঞ্চম পর্বে উঠে এসেছে ‘গুমের’ শিকার বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার পরিবারের দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা।

‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকার সময় মৃত্যু চিন্তাও পেয়ে বসেছিল সালাউদ্দিনকে। ভিডিওতে সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাকে আটকে রাখা সদস্যদের তখন তিনি বলেছিলেন, “যদি আমার মৃত্যু হয় লাশটা আমার পরিবারের কাছে দিও।

‘‘আমি (তাদের) বলতাম, আমার হার্টে স্টেন্টিং আছে, অন্যান্য জটিলতা আছে। এই পরিবেশে ক‘দিন টিকব। কত দিন থাকতে পারব জানি না। তবে আমার যদি মৃত্যু হয়, তাহলে আমার লাশটা আমার পরিবারের কাছে দিও।

‘‘এটা বলার কারণ ছিল তখন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সময়ে গুমের সংস্কৃতি চালু হয়ে গিয়েছিল। লাশ পাওয়া যেত না। তারা ক্রসফায়ার দিয়ে লাশ গুম করে ফেলত। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম, হে আল্লাহ আমার সন্তান, আমার বংশ পরম্পররা, আমার আত্বীয় স্বজনরা আমার কবর জিয়ারত করতে পারবে না?”

রাজধানীর উত্তরা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলতে গিয়ে তথ্যচিত্রে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘২০১৫ সাল মার্চের ১০ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা হতে পারে। এই সময়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে অনেক লোক সশ্বস্ত্র অবস্থায় এই বাসায় (উত্তরা) দোতলায়, যেখানে আমি থাকতাম- আমার বন্ধু হাসনাতের বাসায় ফ্ল্যাটে দরজার ভেঙে প্রবেশ করে। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আমার চোখ, হাত বেঁধে আমাকে নিয়ে।”

এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এরমধ্যে ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে তিনি ৬১ দিন ছিলেন বলে তুলে ধরেন। ছোট্ট সেই কুঠুরিতে দিন-রাত প্রায় একই হয়ে পড়া সেই সময়ের বর্ণনা করেন তিনি। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশে ফিরে আসা সালাহউদ্দিনকে ভিডিওতে সেই ঘরের বর্ণনা দিতে দেখা যায়।

‘আয়নাঘরে’ প্রতিদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হত দাবি করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘কেন আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি? কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচরণ করছি ইত্যাদি এবং আপোস করার প্রস্তাব দিত।

‘‘আমি বলতাম একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া এই দুনিয়াতে আর কাউকে পরোয়া করার কিছু নেই। আমার দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, দেশের মানুষের অধিকারের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য, সমস্ত গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য আমরা সংগ্রাম করছি। এর সাথে আপোস করার কিছু নেই।”

২০১৫ সালের ১০ মার্চ গুম হওয়ার ৬৩ দিন পর সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং শহরে পাওয়া যায়।

আইনি জটিলতা ও মামলা মোকাবিলার কারণে তিনি প্রায় নয় বছর সেখানে অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পথ সুগম হয় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

এ তথ্যচিত্র নির্মাণের অংশ হিসেবে গত ১১ অক্টোবর সিলেটের তামাবিল সীমান্তে যান সালাহউদ্দিন। সেদিন তিনি দাবি করেছিলেন, এই পথেই ২০১৫ সালের ১০ মে তাকে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ ও ভারতে দীর্ঘবন্দি দশা থেকে মুক্তির পর দেশে আসার ১০ মাস পর ৩ জুন সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম দিয়েছেন তিনি।