সৌদি আরবের রিয়াদে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধের পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধ, মারধর এবং ‘চুরির অপবাদ’সহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি।
নিহত প্রবাসীর নাম মনছুর আলম (৩০)। তিনি লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ সুখছড়ি এলাকার আকিকার পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান মনছুর। সেখানে মদিনায় একটি বিগালা ব্যবসায় চারজন অংশীদারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রায় আট মাস আগে ওই ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর অংশীদারদের সঙ্গে হিসাব-নিকাশ নিয়ে তার ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়।
পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে মনছুরের বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন অংশীদাররা। প্রায় দুই মাস আগে তাকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি মদিনা থেকে রিয়াদে তার চাচাতো ভাই রবিউল হোসেনের কাছে চলে যান।
মনছুরের বড় বোন সোলতানা বলেন, দোকান থেকে বের করে দেওয়ার পরও অংশীদাররা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে ফোন ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে বিরক্ত করতেন। এসব কারণে সে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিল। পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিভিন্ন সময় নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মনছুর। পরে তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে চাচাতো ভাই রবিউল হোসেন তাকে একটি কক্ষে নিয়ে আসেন।
পরে ওষুধ আনার জন্য রবিউল বাইরে গেলে ফিরে এসে মনছুরকে কক্ষের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
খবর পেয়ে সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবার জানিয়েছে। সোমবার দুপুরে মনছুরের মৃত্যুর খবর দেশে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছায়।
স্বজনদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধ এবং নানা ধরনের মানসিক চাপের কারণে মনছুর চরম হতাশায় ভুগছিলেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল কবির বলেন, মনছুরের মৃত্যুর বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে থাকায় ঘটনার বিস্তারিত জানেন না।
এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অংশীদারদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
লোহাগাড়া প্রতিনিধি: 






















