ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৎ ও দক্ষ অফিসারদের আরও বেশি কাজের সুযোগ করে দিতে চাই : প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক থেকে পা হারিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে উখিয়ার মরিচ্যার ফরিদ পরিবারকে খুঁজছে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ কক্সবাজারকে এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র করতে চায় সরকার প্রাডো জিপে কক্সবাজার থেকে নিয়ে যাচ্ছিলো ৩ লাখ ইয়াবা : কুমিল্লায় আটক ২ মিয়ানমারের বিবৃতির প্রতিবাদে ইউসিআর -“রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী” শহরের লাইট হাউজ এলাকায় রিসোর্ট দখলের ঘটনায় আল-আমিনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা : আটক ১ লোহাগাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থেকে বেরিয়ে এলো জালনোটের কারবার : জালনোটসহ ‘কারবারি’ শাহ আলম আটক পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-শপিংমল রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের পেকুয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সমাবেশ জুন-জুলাইয়ের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, পুলিশের অধীনে হবে এসআরবি মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন পরিচয় গোপন রাখা হবে প্লট দখল নিয়ে প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ছফওয়ানের বিবৃতি, আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারি

পেকুয়ার সেই মা-মেয়ের মুক্তি

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগের পর থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া সেই মা-মেয়ের মুক্তি মিলেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মা-মেয়েকে থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নও ওঠে। পরবর্তীতে শনিবার সেই মামলাটি বাতিল করে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ফলে মুক্তি পান ওই মা-মেয়ে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তাদের জামিন দেয়া হয়নি, বরং বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩) শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস দেন। পরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় পুলিশের মারধরে রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদার জন্মের এক বছরের মাথায় তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি মায়ের কাছেই বড় হন। ২০১৩ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুবাইদা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পেকুয়া থানার এসআই বিপ্লবকে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই বিপ্লব জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু ঘুষ নেয়ার পরও তিনি তার চাচা ও ফুফুদের প্রভাবে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এ ঘটনায় গত বুধবার থানায় গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর জুবাইদা ও তার মাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

সুত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সৎ ও দক্ষ অফিসারদের আরও বেশি কাজের সুযোগ করে দিতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

পেকুয়ার সেই মা-মেয়ের মুক্তি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগের পর থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া সেই মা-মেয়ের মুক্তি মিলেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মা-মেয়েকে থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নও ওঠে। পরবর্তীতে শনিবার সেই মামলাটি বাতিল করে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ফলে মুক্তি পান ওই মা-মেয়ে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তাদের জামিন দেয়া হয়নি, বরং বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩) শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস দেন। পরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় পুলিশের মারধরে রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদার জন্মের এক বছরের মাথায় তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি মায়ের কাছেই বড় হন। ২০১৩ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুবাইদা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পেকুয়া থানার এসআই বিপ্লবকে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই বিপ্লব জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু ঘুষ নেয়ার পরও তিনি তার চাচা ও ফুফুদের প্রভাবে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এ ঘটনায় গত বুধবার থানায় গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর জুবাইদা ও তার মাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

সুত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর