ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে রামু সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের বক্তব্য কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম লবণসহিষ্ণু জাতে সাফল্য, কক্সবাজারের লবণ মাঠে হচ্ছে ধান চাষ বারবাকিয়ায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও, এলাকাজুড়ে স্বস্তি পুণরায় ফুটপাত দখল করলে আইনের আওতায় আনা হবে:ইউএনও চকরিয়া লোহাগাড়ায় নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, যুবক আটক বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহবান উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন খুনিয়াপালংয়ে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও পাইপ জব্দ কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

অপহরণ-মানবপাচার বন্ধে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে টেকনাফ-উখিয়া প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

টেকনাফ–উখিয়ার চলমান অপহরণ, মানবপাচার, সীমান্ত অপরাধ ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া’-এর প্রতিনিধিদল। মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান বাস্তবতা, সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনা, বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্ক এবং শিলখালীতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, টেকনাফ-উখিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান এখন সময়ের দাবি।

​সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে টেকনাফ মডেল থানায় প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতা সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

​প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা আপনাদের আন্দোলন সম্পর্কে অবগত আছি। এই আন্দোলন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি আমি নিজেও টেকনাফ পরিদর্শন করেছি। বাস্তবতা অবশ্যই কঠিন, তবে প্রশাসনকে জনগণ সহযোগিতা করলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ আরও সহজ হবে।”

​প্রতিনিধিদলের ৬ দফা দাবি
​প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের নিকট যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন, তার প্রথমটি হলো— অপহরণ ও মানবপাচার দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থায়ী বিশেষ বাহিনী গঠন করা। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত বিজিবি ও পুলিশ জনবল বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন করা। তৃতীয়ত, নাফ নদী ও সাগরপথে ২৪ ঘণ্টা সমন্বিত নিরাপত্তা টহল নিশ্চিতকরণ এবং জালিয়ার দ্বীপে কোস্ট গার্ডের স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা।

​চতুর্থ দাবিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিতের কথা বলা হয়। পঞ্চম দাবিতে সশস্ত্র অপরাধী, অপহরণ ও মানবপাচারকারী এবং মাদক-অস্ত্র চোরাচালানকারী চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।

সর্বশেষ ষষ্ঠ দাবিতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টেকনাফ–উখিয়ার জন্য সমন্বিত বিশেষ নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

​সভা শেষে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, জনস্বার্থভিত্তিক ও অরাজনৈতিক। টেকনাফ-উখিয়ার মানুষের নিরাপত্তা ও ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষ এবার কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা

অপহরণ-মানবপাচার বন্ধে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে টেকনাফ-উখিয়া প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

টেকনাফ–উখিয়ার চলমান অপহরণ, মানবপাচার, সীমান্ত অপরাধ ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া’-এর প্রতিনিধিদল। মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান বাস্তবতা, সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনা, বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্ক এবং শিলখালীতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, টেকনাফ-উখিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান এখন সময়ের দাবি।

​সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে টেকনাফ মডেল থানায় প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতা সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

​প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা আপনাদের আন্দোলন সম্পর্কে অবগত আছি। এই আন্দোলন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি আমি নিজেও টেকনাফ পরিদর্শন করেছি। বাস্তবতা অবশ্যই কঠিন, তবে প্রশাসনকে জনগণ সহযোগিতা করলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ আরও সহজ হবে।”

​প্রতিনিধিদলের ৬ দফা দাবি
​প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের নিকট যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন, তার প্রথমটি হলো— অপহরণ ও মানবপাচার দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থায়ী বিশেষ বাহিনী গঠন করা। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত বিজিবি ও পুলিশ জনবল বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন করা। তৃতীয়ত, নাফ নদী ও সাগরপথে ২৪ ঘণ্টা সমন্বিত নিরাপত্তা টহল নিশ্চিতকরণ এবং জালিয়ার দ্বীপে কোস্ট গার্ডের স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা।

​চতুর্থ দাবিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিতের কথা বলা হয়। পঞ্চম দাবিতে সশস্ত্র অপরাধী, অপহরণ ও মানবপাচারকারী এবং মাদক-অস্ত্র চোরাচালানকারী চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।

সর্বশেষ ষষ্ঠ দাবিতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টেকনাফ–উখিয়ার জন্য সমন্বিত বিশেষ নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

​সভা শেষে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, জনস্বার্থভিত্তিক ও অরাজনৈতিক। টেকনাফ-উখিয়ার মানুষের নিরাপত্তা ও ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষ এবার কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চায়।