স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজের তিন দিন পার হলেও এখনো তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবার বা পুলিশ।
নিখোঁজ তিন কিশোরী হলেন রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)।
তারা সবাই ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে তিন কিশোরী একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়। রেশমি আক্তার ওই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। তার রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা শুনে তানিয়া ও সাদিয়াও তার সঙ্গে বের হয়।
বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা সিএনজিযোগে ইয়াংছা বাজারে যায়। পরে সেখান থেকে প্রায় ২০০ টাকা ভাড়ায় একটি টমটমে করে চকরিয়ার দিকে রওনা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ রেশমি আক্তারের বাবা শহিদুল ইসলাম ও মা রোজিনা আক্তার। তাদের বাড়ি ইয়াংছার বনফুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তানিয়া সুলতানার বাবা আবুল হাশেম ও মা কুলছুমা বেগম। তাদের বাড়ি ইয়াংছার মুখ মুসলিম পাড়ায়। একই এলাকায় বসবাস করেন হালিমাতুচ্ছ সাদিয়ার বাবা বেলাল উদ্দিন ও মা শারমিন আক্তার।
এদিকে তিন কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। সন্তানদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজনরা।
কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জামিল আহমেদ জানান, নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে নিখোঁজ কিশোরীদের বিষয়ে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুফিজ উদ্দিন জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই ওই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি তাদের নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
তিন কিশোরী কোথায় রয়েছে, কী কারণে নিখোঁজ হয়েছে কিংবা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের সন্ধানে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
মো. ইমরান খান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: 
























