ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হলদিয়ার সেই মিজান এবার ‘ওয়ার্ড প্রশাসক’ হতে লাখ টাকার মিশনে : অভিযোগ অস্বীকার মিজানের কক্সবাজারে বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক সম্মেলন তরুণদের নেতৃত্বে টেকনাফে অনুষ্ঠিত হলো শান্তি ও সম্প্রীতি মেলা ২০২৬ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য কলাতলীর মেম্বার ঘাটা থেকে রাসেলের মরদেহ উদ্ধার ৪৫ বছর পর চকরিয়ায় মা-বাবার খোঁজে নেদারল্যান্ডসের সেলিনা নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনেরই বাড়ি চকরিয়ায় বিনা দোষে কাউকে গ্রেফতার না করার অনুরোধ এমপি কাজলের টেকনাফের পাহাড়ে ৩ ম/র/দে/হ গেল কোথায়? ৪ ঘন্টার অভিযানে মিলেনি কিছুই! কক্সবাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারগামী শিক্ষাসফরের বাস পুকুরে, শিক্ষিকাসহ নিহত ২ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

উখিয়ায় অবৈধভাবে কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজাপালং ইউনিয়নের হাতিমুরা খাল ও ছড়া থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এসব উত্তোলিত বালু ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আলোচনায় এসেছে।

রাজাপালং ইউনিয়ন দক্ষিণ যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক, রাজাপালং ইউনিয়ন দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসেম, সাইফুল, ইশতিয়াক এ বালু উত্তোলনে জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বালু উত্তোলন করা হলে তা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে খালের তীর ভাঙন, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক রশিদ আমিন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।কারণ, খালের পাড়ের জমিগুলোও ভেঙ্গে এখন বিলীন হওয়ার পথে।

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও খালের তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসলাম মাহমুদ একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন , “ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, তলদেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে খালের দুই পাশের মাটি ভেঙে পড়া, কৃষিজমির ক্ষতি এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই খাল থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন রফিকের সঙ্গে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করলে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়টি শুনে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উখিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

হলদিয়ার সেই মিজান এবার ‘ওয়ার্ড প্রশাসক’ হতে লাখ টাকার মিশনে : অভিযোগ অস্বীকার মিজানের

উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৭:১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়ায় অবৈধভাবে কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজাপালং ইউনিয়নের হাতিমুরা খাল ও ছড়া থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এসব উত্তোলিত বালু ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আলোচনায় এসেছে।

রাজাপালং ইউনিয়ন দক্ষিণ যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক, রাজাপালং ইউনিয়ন দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসেম, সাইফুল, ইশতিয়াক এ বালু উত্তোলনে জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বালু উত্তোলন করা হলে তা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে খালের তীর ভাঙন, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক রশিদ আমিন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।কারণ, খালের পাড়ের জমিগুলোও ভেঙ্গে এখন বিলীন হওয়ার পথে।

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও খালের তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসলাম মাহমুদ একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন , “ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, তলদেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে খালের দুই পাশের মাটি ভেঙে পড়া, কৃষিজমির ক্ষতি এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই খাল থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন রফিকের সঙ্গে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করলে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়টি শুনে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উখিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।