ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চৌফলদন্ডি ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ফোরকান মাহমুদ উখিয়ায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বু/লে/টপ্রুফ ভেস্ট ও অ/স্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার সেনা সদস্য তিতাস শেখ হ/ত্যার বিচারের দাবিতে টেকনাফে বিএনপির মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ‘অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’— মায়ের সঙ্গে সেনা সদস্যের শেষ কথা টানা তিন দফা বৃদ্ধির পর কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২৭৪১ টাকা লোহাগাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের তদন্তের নির্দেশ পেকুয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের লোহাগাড়ায় ইয়াবা সেবন করে মাকে মারধর, ছেলের এক মাসের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর আজিজনগরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই হাসিনার সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাহাড়সম অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাত, জেলের মৃত্যু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ আজ জেলহত্যা দিবস

মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম

কক্সবাজারের চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে দুর্যোগ মানেই আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আলোর দিশারী হয়ে পাশে দাঁড়ান সিপিপির নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা। কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ইউনিটের নারী স্বেচ্ছাসেবক হালিমা বেগম তাদেরই একজন।

দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও সেবাকাজে দীর্ঘ তিন দশকের অবিচল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্প্রতি ‘কক্সবাজার সদর উপজেলা শ্রেষ্ঠ নারী স্বেচ্ছাসেবক ২০২৬’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

​আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ জাতীয় সমাপনী অনুষ্ঠানে হালিমা বেগমের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের অংশ হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ স্মৃতি মেডেল, আর্থিক অনুদানের চেক এবং শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকের আনুষ্ঠানিক সনদপত্র। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​সম্মেলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে এই সম্মান প্রদান করা হয়। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। এছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সারাদেশ থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকরা এই এসময় উপস্থিত ছিলেন।

​হালিমা বেগমের এই মহতী যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। সিপিপির অধীনে সহ-প্রাথমিক চিকিৎসা দলের সদস্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। গত ৩১ বছরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একাধিক প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় জীবনের মায়া ত্যাগ করে বিপদগ্রস্ত নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা এবং তাদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন।

​পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় হালিমা বেগম নিজের এই অর্জনকে উপকূলের সব সেবাশ্রয়ী মানুষের প্রতি উৎসর্গ করে তিনি বাংলাদেশ সরকার, সিপিপি কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন অংশীজন এবং বিশেষ করে তার ইউনিট টিম লিডার নূর মোহাম্মদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন, সেজন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চৌফলদন্ডি ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ফোরকান মাহমুদ

মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে দুর্যোগ মানেই আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্কের মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আলোর দিশারী হয়ে পাশে দাঁড়ান সিপিপির নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা। কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ইউনিটের নারী স্বেচ্ছাসেবক হালিমা বেগম তাদেরই একজন।

দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও সেবাকাজে দীর্ঘ তিন দশকের অবিচল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্প্রতি ‘কক্সবাজার সদর উপজেলা শ্রেষ্ঠ নারী স্বেচ্ছাসেবক ২০২৬’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

​আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ জাতীয় সমাপনী অনুষ্ঠানে হালিমা বেগমের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের অংশ হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ স্মৃতি মেডেল, আর্থিক অনুদানের চেক এবং শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকের আনুষ্ঠানিক সনদপত্র। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​সম্মেলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে এই সম্মান প্রদান করা হয়। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। এছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সারাদেশ থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকরা এই এসময় উপস্থিত ছিলেন।

​হালিমা বেগমের এই মহতী যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। সিপিপির অধীনে সহ-প্রাথমিক চিকিৎসা দলের সদস্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। গত ৩১ বছরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একাধিক প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় জীবনের মায়া ত্যাগ করে বিপদগ্রস্ত নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা এবং তাদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন।

​পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় হালিমা বেগম নিজের এই অর্জনকে উপকূলের সব সেবাশ্রয়ী মানুষের প্রতি উৎসর্গ করে তিনি বাংলাদেশ সরকার, সিপিপি কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন অংশীজন এবং বিশেষ করে তার ইউনিট টিম লিডার নূর মোহাম্মদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন, সেজন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।