ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া-রাজাখালী নোয়াখালী সেতু। গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত সেতুটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রায় তিন কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুর মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দুই পাশের সংযোগ সড়কের (কানেক্টিং রোড) কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলেই যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন বারবাকিয়া ও রাজাখালীসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ। ঠিকাদারি জটিলতা ও নানা কারণে কাজ থেমে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, লবণ চাষি ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বিশেষ করে বর্ষাকালে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো স্থানীয়দের। অনেক সময় অতিবৃষ্টিতে ওই পথও বন্ধ হয়ে যেত। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ত।

স্থানীয়রা জানান, এ সেতুর ওপর নির্ভর করে বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের পাশাপাশি মগনামা ইউনিয়ন এবং বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের মানুষও চলাচল করেন। এছাড়া রাজাখালী ও মগনামার লবণ চাষিরা লবণ পরিবহনের জন্য এ সেতু ব্যবহার করেন।

প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বারবাকিয়া থেকে রাজাখালী এবং রাজাখালী থেকে বারবাকিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় তাদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সেতু সংলগ্ন নোয়াখালী ও টেকঘোনা স্টেশনের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন।

বারবাকিয়ার বাসিন্দা করিম বলেন, অনেক কষ্টের পর সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। এখন দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি খুলে দিলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

সেতু দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজন টমটম চালক জানান, কাজ বন্ধ থাকায় পাশের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। বর্ষায় চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ আর থাকবে না।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বারবাকিয়ার বাসিন্দা ইকবাল হোছাইন বলেন, সেতুর কাজ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এখন কাজ শেষ হওয়ায় এলাকার মানুষ আশাবাদী। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চালু করা প্রয়োজন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজের মালিক কফিল বলেন, আগের ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ার পর নতুন টেন্ডারে আমরা কাজটি পাই। সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি উন্মুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়কের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং পেকুয়া-বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন

উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:১৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া-রাজাখালী নোয়াখালী সেতু। গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত সেতুটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রায় তিন কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুর মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দুই পাশের সংযোগ সড়কের (কানেক্টিং রোড) কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলেই যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন বারবাকিয়া ও রাজাখালীসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ। ঠিকাদারি জটিলতা ও নানা কারণে কাজ থেমে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, লবণ চাষি ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বিশেষ করে বর্ষাকালে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো স্থানীয়দের। অনেক সময় অতিবৃষ্টিতে ওই পথও বন্ধ হয়ে যেত। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ত।

স্থানীয়রা জানান, এ সেতুর ওপর নির্ভর করে বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের পাশাপাশি মগনামা ইউনিয়ন এবং বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের মানুষও চলাচল করেন। এছাড়া রাজাখালী ও মগনামার লবণ চাষিরা লবণ পরিবহনের জন্য এ সেতু ব্যবহার করেন।

প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বারবাকিয়া থেকে রাজাখালী এবং রাজাখালী থেকে বারবাকিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় তাদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সেতু সংলগ্ন নোয়াখালী ও টেকঘোনা স্টেশনের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন।

বারবাকিয়ার বাসিন্দা করিম বলেন, অনেক কষ্টের পর সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। এখন দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি খুলে দিলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

সেতু দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজন টমটম চালক জানান, কাজ বন্ধ থাকায় পাশের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। বর্ষায় চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ আর থাকবে না।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বারবাকিয়ার বাসিন্দা ইকবাল হোছাইন বলেন, সেতুর কাজ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এখন কাজ শেষ হওয়ায় এলাকার মানুষ আশাবাদী। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চালু করা প্রয়োজন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবছার এন্টারপ্রাইজের মালিক কফিল বলেন, আগের ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ার পর নতুন টেন্ডারে আমরা কাজটি পাই। সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি উন্মুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়কের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং পেকুয়া-বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।