উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে রাতে ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ।
এ সময় তিনি ক্যাম্পের হেড মাঝি, সাব-মাঝি ও মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
পুলিশ জানায়, ক্যাম্পে রাতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আকস্মিক পরিদর্শনে যান ক্যাম্পে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘোনারপাড়া পুলিশ ক্যাম্প প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮ এপিবিএনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ক্যাম্প এলাকায় কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা অপরাধ সংঘটিত হতে দেওয়া যাবে না। কোনো দুষ্কৃতিকারী বা অপরাধীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হলে কিংবা অপরাধের আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের বিট অফিসারকে দ্রুত জানাতে হবে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
মাদক ব্যবসা, অস্ত্র পাচার, ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধের তথ্য গোপন না করে পুলিশকে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পে কোনো সমস্যা, বিরোধ বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের নজরে আনার জন্য বলা হয়।
মতবিনিময় সভায় এফডিএমএন সদস্যদের অপ্রয়োজনে এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে যাতায়াত না করার বিষয়ে সচেতন করা হয়। বহিরাগত বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি ক্যাম্পে প্রবেশ করলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা অন্য কোনো জনসমাগমস্থলে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন বক্তব্য বা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। মসজিদের ইমামদের নামাজের আগে ও পরে মুসল্লিদের মাদক, অস্ত্র পাচার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যাম্প এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশ বা গণজমায়েতের আয়োজন না করার জন্য বলা হয়। এমন কোনো উদ্যোগের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রাতের এই পরিদর্শন ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি রাত্রিকালীন পাহারা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 























