ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ৪৬ মামলার প্রায় ৯৯ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০ রাখাইনে আবারও সংঘাতের আগুন উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: ২ নারীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যখন সময় হবে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর হবে: দীনেশ ত্রিবেদী বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সংকেত রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 262
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ শুরু করেছে মালয়েশিয়া।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের প্রায় ১ হাজার ৫০০ নাগরিককে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে এই কার্যক্রমের প্রথম পর্যায় শুরু হয়।
কর্তৃপক্ষের মতে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা মোট ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন এবং এটি তারই প্রথম দল। উত্তর-পশ্চিম মালয়েশিয়ার লুমুট নৌঘাঁটির নিকটবর্তী মজলিস পারবান্দারান মানজুং স্টেডিয়ামে পুলিশ পাহারায় বাসযোগে তাদের নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নৌঘাঁটি হয়ে জাহাজে করে তাদের মিয়ানমারে পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়া সরকার জানায়, জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সম্মতি নিশ্চিত করেন। এর আগে দেশটির পেনাং রাজ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকিতে থাকা এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হওয়া ১০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ও জাতিসংঘের উদ্বেগের মুখে চলতি মাসের শুরুর দিকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের প্রধান মিন অং হ্লাইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও জানা গেছে।
চলতি দফায় ফেরত পাঠানো দলের মধ্যে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা নাগরিক, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে থাকা ১ লাখ ৯০ হাজার মিয়ানমার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই মূলত নিপীড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা, যাদের একটি বড় অংশ ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশটি ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী সনদে স্বাক্ষর করেনি, ফলে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শরণার্থীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।
এদিকে, এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমকে ঘিরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো নানা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এএফপির তথ্য-যাচাইকারী দলগুলো জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হচ্ছেন, যা স্থানীয় সমাজে পরজাতিবিদ্বেষ ও ভয়ভীতি ছড়াতে জ্বালানি জুগিয়েছে। সব মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ শুরু করেছে মালয়েশিয়া।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের প্রায় ১ হাজার ৫০০ নাগরিককে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে এই কার্যক্রমের প্রথম পর্যায় শুরু হয়।
কর্তৃপক্ষের মতে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা মোট ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন এবং এটি তারই প্রথম দল। উত্তর-পশ্চিম মালয়েশিয়ার লুমুট নৌঘাঁটির নিকটবর্তী মজলিস পারবান্দারান মানজুং স্টেডিয়ামে পুলিশ পাহারায় বাসযোগে তাদের নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নৌঘাঁটি হয়ে জাহাজে করে তাদের মিয়ানমারে পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়া সরকার জানায়, জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সম্মতি নিশ্চিত করেন। এর আগে দেশটির পেনাং রাজ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকিতে থাকা এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হওয়া ১০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ও জাতিসংঘের উদ্বেগের মুখে চলতি মাসের শুরুর দিকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের প্রধান মিন অং হ্লাইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও জানা গেছে।
চলতি দফায় ফেরত পাঠানো দলের মধ্যে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা নাগরিক, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে থাকা ১ লাখ ৯০ হাজার মিয়ানমার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই মূলত নিপীড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা, যাদের একটি বড় অংশ ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশটি ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী সনদে স্বাক্ষর করেনি, ফলে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শরণার্থীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।
এদিকে, এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমকে ঘিরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো নানা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এএফপির তথ্য-যাচাইকারী দলগুলো জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হচ্ছেন, যা স্থানীয় সমাজে পরজাতিবিদ্বেষ ও ভয়ভীতি ছড়াতে জ্বালানি জুগিয়েছে। সব মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।