ফেসবুকে দেওয়া একটি ‘হা হা’ রিঅ্যাকশন নিয়ে বিরোধ। সেখান থেকে মারধরের ঘটনা, আর ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়ে মায়ের মৃত্যু। উখিয়ার টাইপালংয়ের সেই আলোচিত ঘটনায় এবার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার কক্সবাজার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার আসামি মিজানুর রহমান সিকদার, মো. হাশেম সিকদার ও জিসান। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিদের কারাগারে পাঠানোর পর কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহত ছৈয়দা বেগমের ছেলে এস এম ইমরান। তিনি বলেন, আসামিরা কারাগারে যাওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।
মামলার আইনজীবী রেজাউল করিম সিকদার আজিমও বলেন, আসামিদের কারাগারে পাঠানোয় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তারা।
মামলার অভিযোগ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাইপালং এলাকায় ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাকশন দেওয়ায় স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এর জেরে এক তরুণকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান এনজিওকর্মী এস এম ইমরান। ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার মা ছৈয়দা বেগমও।
স্বজনদের ভাষ্য, এ সময় তিনি আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর উখিয়া থানায় মামলা করেন এস এম ইমরান। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার তিন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাময়িক স্বস্তি এলেও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি ফিরবে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তাদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















