ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পা কেটে ভিক্ষায় বাধ্য করা কিশোর বাড়ী ফিরলো সাত মাস পর টেকনাফের সাবরাং থেকে ৬ লাখ ১৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২০ পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে চলছে ঘের তৈরির মহোৎসব কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন টেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জিনিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদন জেলা দলের গোলরক্ষক সাঈদী উপর হামলার প্রতিবাদে মহেশখালীতে মানববন্ধন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ‍্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: আরও ৪০ জন গ্রেপ্তার আদানির বিকল ইউনিট সচল, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঈদগাঁওয়ের ফিরুজ-মিফতাসহ নিহত ৩ লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার: চুক্তি শেষ, সেবা বন্ধ; দুর্ঘটনাহতদের ‘শেষ আশ্রয়’ এখন অচল ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা মেসির দুর্দান্ত গোল! কিন্তু…

পা কেটে ভিক্ষায় বাধ্য করা কিশোর বাড়ী ফিরলো সাত মাস পর

চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার সাত মাস পর ডান পা হারানো পঙ্গু অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে ১২ বছরের এক কিশোর।

বেশি টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে আটকে রেখে পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ভোরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি সীরত মাহফিলে হঠাৎ দেখা মেলে শিশু মোহাম্মদ রায়হানের।

সে লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার দিনমজুর নাজিম উদ্দীনের ছেলে এবং সাতগড় তাহফিজুর কোরআন হিফজখানার ছাত্র।

রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস আগে তার বাবা তাকে ১০০ টাকা দিয়ে চুল কাটতে পাঠান। অভিমান করে সে বাড়ি থেকে কক্সবাজারে চলে যায়। সেখানে সমুদ্রসৈকতে প্রায় দুই মাস কাজ করার পর অপরিচিত এক ব্যক্তি বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যায়।

কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি গাছপালা ঘেরা একটি টিনের ঘরে তাকে রাখা হতো। সেখানে তার মতো আরও প্রায় ২০ জন শিশু ছিল। সালমা নামে এক নারীসহ আরও দুই ব্যক্তি তাদের পাহারা দিত। শিশুদের দিয়ে প্রথমে রেলস্টেশনে পানি বিক্রি করানো হতো। আয় কম হওয়ায় একপর্যায়ে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর জন্য ডান পা কেটে দেওয়া হয়।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ডান পা কাটা অবস্থায় নিজেকে দেখতে পায় রায়হান। পরে চক্রের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসকদের কাছে মিথ্যা বলতে বাধ্য করে যে, ট্রেনে দুর্ঘটনায় পা কেটে গেছে। শনিবার ঢাকা থেকে একটি গাড়িতে তুলে দিয়ে তার হাতে ৩৫০ টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়।

চুনতি সীরত মাহফিলে রায়হানকে দেখে স্থানীয়রা তার পরিবারকে খবর দেন। ছেলের শারীরিক অবস্থা দেখে বাবা নাজিম উদ্দীন ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, তার সুস্থ ছেলেকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। পেটের ডান পাশে ও পেছনেও ক্ষতচিহ্ন থাকায় কিডনি চুরির আশঙ্কা করছেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন নাজিম উদ্দীন।

জাতীয় লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের প্যানেল আইনজীবী মো. নওশাদ আলী জানান, ঘটনাটি মানবপাচার, অঙ্গহানি ও শিশু নির্যাতনের গুরুতর অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এবং শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি দ্রুত মেডিকেল ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, ভুক্তভোগীর বাবা থানায় এসেছিলেন। ঘটনাস্থল লোহাগাড়া না হওয়ায় তাকে মতিঝিল থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পা কেটে ভিক্ষায় বাধ্য করা কিশোর বাড়ী ফিরলো সাত মাস পর

পা কেটে ভিক্ষায় বাধ্য করা কিশোর বাড়ী ফিরলো সাত মাস পর

আপডেট সময় : ১১:৫৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার সাত মাস পর ডান পা হারানো পঙ্গু অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে ১২ বছরের এক কিশোর।

বেশি টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে আটকে রেখে পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ভোরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি সীরত মাহফিলে হঠাৎ দেখা মেলে শিশু মোহাম্মদ রায়হানের।

সে লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার দিনমজুর নাজিম উদ্দীনের ছেলে এবং সাতগড় তাহফিজুর কোরআন হিফজখানার ছাত্র।

রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস আগে তার বাবা তাকে ১০০ টাকা দিয়ে চুল কাটতে পাঠান। অভিমান করে সে বাড়ি থেকে কক্সবাজারে চলে যায়। সেখানে সমুদ্রসৈকতে প্রায় দুই মাস কাজ করার পর অপরিচিত এক ব্যক্তি বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যায়।

কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি গাছপালা ঘেরা একটি টিনের ঘরে তাকে রাখা হতো। সেখানে তার মতো আরও প্রায় ২০ জন শিশু ছিল। সালমা নামে এক নারীসহ আরও দুই ব্যক্তি তাদের পাহারা দিত। শিশুদের দিয়ে প্রথমে রেলস্টেশনে পানি বিক্রি করানো হতো। আয় কম হওয়ায় একপর্যায়ে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর জন্য ডান পা কেটে দেওয়া হয়।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ডান পা কাটা অবস্থায় নিজেকে দেখতে পায় রায়হান। পরে চক্রের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসকদের কাছে মিথ্যা বলতে বাধ্য করে যে, ট্রেনে দুর্ঘটনায় পা কেটে গেছে। শনিবার ঢাকা থেকে একটি গাড়িতে তুলে দিয়ে তার হাতে ৩৫০ টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়।

চুনতি সীরত মাহফিলে রায়হানকে দেখে স্থানীয়রা তার পরিবারকে খবর দেন। ছেলের শারীরিক অবস্থা দেখে বাবা নাজিম উদ্দীন ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, তার সুস্থ ছেলেকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। পেটের ডান পাশে ও পেছনেও ক্ষতচিহ্ন থাকায় কিডনি চুরির আশঙ্কা করছেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন নাজিম উদ্দীন।

জাতীয় লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের প্যানেল আইনজীবী মো. নওশাদ আলী জানান, ঘটনাটি মানবপাচার, অঙ্গহানি ও শিশু নির্যাতনের গুরুতর অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এবং শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি দ্রুত মেডিকেল ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, ভুক্তভোগীর বাবা থানায় এসেছিলেন। ঘটনাস্থল লোহাগাড়া না হওয়ায় তাকে মতিঝিল থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।